সাধারন জ্ঞান

আদর্শ সন্তান গঠনে সেরা ২০ টি উপদেশ

আদর্শ সন্তান গঠনে ২০ টি  সেরা কৌশলঃনিশ্চই বাবা মার কাছে সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে অত্যন্ত নেয়ামত স্বরুপ। সন্তান জন্ম গ্রহন করার পর পরেই পিতা মাতার উপর অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পিত হয়। সন্তানকে আদর্শবান সৎ চরিত্রবান গড়ে তোলার দায়িত্ব হচ্ছে পিতা মাতা পরিবার ।

আদর্শ সন্তান গঠনে ২০ টি  সেরা কৌশলঃ একজন বাবা মায়ের উপর নির্ভর করে সন্তানের পরবর্তী জীবন। আর সন্তানের কারণে পিতা মাতা ইহকাল ও পরকাল নির্ভর করে থাকে। আজকের শিশুটি আগামী দিনের ভবিষৎ রাষ্ট্রনায়ক,বিজ্ঞানী ,ধর্মযাযক, ডাক্তার,তাই আসুন আজকে আদর্শ সন্তান গঠনে সেরা ২০ টি কৌশল জেনে নেই। https://daliatista.com/

১। আদর্শ সন্তান গঠন করতে চাইলে সর্ব প্রথম পিতা মাতাকে চরিত্রবান হতে হবে। আপনি ভাল সন্তান ভাল।

কৌশলঃ আপনি যদি ভাল হন তাহলে অবশ্যই আপনার সন্তান বিপদগামী হবে না। আপনাকে আগে ভাল হতে হবে এর কোন বিকল্প নাই।

২।খারাপ উক্তিমুলক শব্দ অপ্রিতিকর ভাষা ব্যবহার করে অথবা হেয় প্রতিপন্ন করে আপনার সন্তানকে কখন ডাকবেন না, ধরেন- তুমি একটা অপদার্থ,নির্বোধ,কুকুর,ছাগল,ভেরা ইত্যাদি অশ্লিল ভাষা ব্যবহার থেকে দুরে থাকবেন।

কৌশলঃ আপনার সন্তানকে যদি এই সমস্ত ভাষা প্রয়োগ করেন তাহলে  সন্তান এই সমস্ত ভাষায় আসক্ত হয়ে একদিন আপনাকে বিপদের দিকে ধাবিত করবে। অতপর সর্বদা ভাল ব্যবহার করবেন।

৩। আমরা অনেক সময় সন্তানকে ভূত,পেতনী চোর,ডাকাত,পুলিশসহ আরো বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে তাদের বস করে খাওয়াই বা ঘুমাই।

কৌশলঃ সন্তানকে এই সমস্ত ভয় দেখাতে থাকলে সন্তানের বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তার মনের ভিতরে সব সময় ভয় ভ্রীতির প্রবনতা বেড়ে যাবে তা পরবর্তীতে মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুকিতে পড়বে। তাই সবসময় উদার মনমানষিকতার পরিচয় দিয়ে তাকে পরিচর্চা করবেন । 

৪। সন্তান যখন ভুল করবে ভুল করাই স্বাভাবিক। তাই কোন ক্ষেত্রে ভুল করলে সন্তানের সাথে নম্র ও ভদ্র ভাষা ব্যবহার করবেন। যে ভুল করেছেন তা যেন পরবর্তীতে আর না হয় সেই দিক র্নিদেশনা প্রদান করবেন। 

৫। সন্তানের বয়স ৮ থেকে ১০ বছর বয়স হলে আলাদা বিছানায় রাখতে হবে। তাহলে সন্তান আদর্শিক চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখবে। 

৬। সন্তানের সামনে পিতা মাতার দাম্পত্য জীবনের কথা বার্তা থেকে বিরত থাকবেন। বিরত থাকতে না পারলে আপনার সন্তান তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে অশালীন ব্যবহার প্রয়োগ করবে যা আপনার জন্য ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়াবে।

৭। সন্তানের সামনে অশ্লীল,নোংরা ছবি,সিনেমা দেখা কিংবা খারাপ গল্প গুজব,উপন্যাস ম্যাগাজিন ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবেন। আর যদি এটি করতে না পারেন তাহলে পরবর্তীতে আপনি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হবেন।

৮। ৭ বছর থেকে সন্তানকে (যার যার ধর্ম ) অনুযায়ী  ইবাদতের  তাগিত দিতে হবে। ১০ বছর বয়সে পুরাপুরি নামাজের দিকে ধাবিত করতে হবে।

৯। সদা সত্য কথা বলতে উৎসাহিত করতে হবে। এতে করতে পারলে আপনার সন্তান কখনোই বিপথগামী হবে না।

১০। সত্যবাদিতা,আমানতদারিতা, অন্যের হক,অসহায়কে সাহায্য করা,আত্নীয় স্বজনকে আপ্যায়ন ও ভাল ব্যবহারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করতে হবে। তাহলে সন্তান উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবে।

১১। সন্তানকে মিথ্যা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ নোংরা নিম্নমানের শব্দচয়ন করা যাবে না। এক্ষেত্রে সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথেই আপনার থেকে আচরণ শব্দ শিখে এসেছে ছিল তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে অনায়াসে এ সমস্ত আচরণ প্রয়োগ করবে যা আপনার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ঠিক বয়ে নিয়ে আসবে।

আদর্শ সন্তান গঠনে সেরা ২০ টি কৌশল

১২। সন্তানকে বাল্য বয়স থেকেই তাকে ধর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত করতে হবে। তাহলে ধর্মের প্রতি অনুরাগী হয়ে তার জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।

১৩। আপনার সন্তানকে অন্যের অধিকার  সম্পর্কে  সচেতন করতে হবে যেমন পিতা-মাতা ভাই বোন আত্মীয়-স্বজন পাড়া প্রতিবেশী শিক্ষাগুরু বন্ধু-বান্ধব ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত করতে হবে। এক্ষেত্রে সন্তান সর্বদাই পিতা-মাতা হক ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের দারুন একটা সম্পর্ক বজায় রাখবেন।

১৪। আপনার সন্তানকে করতে হবে যেমন বড়দেরকে সম্মান শ্রদ্ধা, সালাম দেওয়া বড়দের  সঙ্গে কথা বলার সময় ও নম্রতা ইত্যাদি সম্পর্কে  জানাতে হবে। তাহলে আপনার সন্তান সমাজে সবার সাথে খুব ভালো একটি সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে।

১৫। সন্তানকে ভাল ভাল গল্পেরবই,উপন্যাস ইত্যাদি বই সম্পর্কে ধারনা দিতে হবে। নিকেট থেকে সন্তানের মন-মানসিকতা আদর্শিক গুনে গুণান্বিত হবে। https://www.channelionline.com/

১৬। সন্তানকে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত করতে হবে যেমন কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ইত্যাদি প্রযুক্তিগত ব্যবহারের সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। এক্ষেত্রে যেটা হবে হবে  সন্তান সবসময় ভালো প্রযুক্তির দিকেই মনোনিবেশ করে থাকবে।

১৭। সন্তানকে ইতিবাচক  উৎসাহ  দিতে হবে । এক্ষেত্রে  জীবনে অনেকউন্নত করতে পারবে।

১৮। সন্তানের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। তাহলে তার কাছ থেকে সকল ভাল মন্দ জানতে পারবেন। 

১ ৯। আপনার সন্তানকে আপনার সম্পদ সম্পর্কে অবগত করতে হবে। তাহলে সে আপনার সম্পদ সম্পর্কে জানতে পারবে সম্পদ নষ্ট করবে না।

২০। সন্তানকে হালাল রুজি ও কর্ম করতে নির্দেশ করতে হবে। তাহলে সে কখনো হারাম উপার্জন করবে না।

উপসংহারঃ আলোচনা দ্বারা আমরা বলতে পারি যে যারা সন্তানেরা শিক্ষা-দীক্ষা ও আখলাক চরিত্র গঠনের দিক ভাবেন তারা যেন  সন্তান জন্মদানের  পর থেকেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানকে এ সমস্ত কৌশল প্রয়োগ  করতে পারেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার সন্তান কখনই বিপথগামী হবে না এবং আপনার জন্য পরিবার সমাজ এমনকি রাষ্ট্রের জন্য সে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি বয়ে নিয়ে আসবে যা আপনি কখনোই কল্পনা করেন নাই। মহান আল্লাহ  সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি প্রতিটি  পিতামাতাই যেন সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষা ও আখলাক চরিত্র নিয়ে চিন্তা করে  সন্তানদের দ্বারা ইহকাল এবং পরকালের মুক্তির পথ প্রদর্শন হয়ে দাঁড়ায় সেই কামনাই করি।  সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি।

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *