স্বাস্থ্য

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর সহজ উপায়

ওজন কমানোর সহজ উপায়- আমরা সবাই শরীরের ওজন নিয়ে চিন্তিত থাকি,ওজন কমানোর সহজ উপায়- কিভাবে শরীরের ওজন কমা যায় আর এই শরীর নিয়ে আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি। আমরা অনেকেই জানিনা কিভাবে  নিয়মিত খাদ্যের মাধ্যমেই শরীরের জন্য কমানো যায়, তাই আজকে আমি আমার কন্টেনিটিতে ওজন কমানোর সহজ উপায় আপনাদের অবগত করব।

নারী পুরুষ উভয়ে শরীরের ওজন কমানোর পদ্ধতি অনুসরন করতে পারেন

মধু দিয়ে লেবু পানিঃ   https://daliatista.com

ওজন কমানোর সহজ উপায়- প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানিতে মধু লেবু দিয়ে পানি পান করতে হবে । এক্ষেত্রে একটি মাঝারি সাইজের লেবুর অর্ধে রস এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে দিতে হবে  সাথে এক চা চামচ অর্গানি মধু মিশিয়ে পান করতে হবে ।  

আপনাকে মনে রাখতে হবে যে  শীতকালে অবশ্যই   কসুম গরম পানি দিয়ে পান করতে হবে ।

সকালের নাস্তাঃ 

প্রতিদিন সকালে মনে আটটার দিকে একটি সবুজ আপেল অথবা দুটি ছোট ছেলের কলা অথবা কমলা।  তার সাথে এক চামচ চিয়ার সিড এক গ্লাস  পানিতে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে ভিজিয়ে  রাখে  খাবেন।  সপ্তাহে চার দিন এসব খাবেন। 

বাকি তিন দিন মধ্যে দুই দিন একটি পাতলা রুটি অথবা এক চামচ চিড়া সিড ছাড়া বাকড় খনি সাথে একটি কলা দিয়ে ।  আর একদিন একটি ডিম অথবা একগ্লাস  দুধ চিনি ছাড়া।  যদি  দুধ ডিম খাবেন  তার সাথে একটি কাঁচা শসা অথবা গাজর খাবে এতে শরীরের জন্য ভালো । 

যে ভাবে সকালের হালকা খাবার খাবেন ?

প্রতিদিন সকালে নাস্তার পর অল্প তেলে রান্না করা বিভিন্ন পদে শাকসবজি বড় কাপে এক কাপ পরিমাণ খাবেন ।  যেভাবে সপ্তাহে আমরা দুই দিনের ছোট সুপ খাওয়ার বাটিতে এক  এ বাটি ডাল খাবেন । বেশি বা অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগলে সবজি ডালের সাথে অল্প কিছু মুড়ি মিশিয়ে খেতে পারেন ।

এছাড়া তিন চার টেবিল  চামচ ওটামিল কিসমিস বা খেজুর খেতে পারেন । এছাড়া  রাতে ঘুমানোর আগে তিন থেকে চারটা খেজুর এবং ২০ থেকে ২৫ টা  কিসমিস ভিজিয়ে  খেতে পারেন । 

দুপুরের খাবারঃ  

দুপুরের (২.টার সময় ) একটি মাঝারি সাইজের এক বাটি শাক সবজির সাথে ডাল মিশিয়ে খাবেন । দেহের সব ধরনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল  পাবেন মিক্সড সবজিতে ।

সবজিতে থাকে প্রচুর ফাইবার।  যা শরীরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই গ্লকোজ রূপান্তরিত হয় ও সহজে হজম হয় । 

সবজি রান্না করার আগে সবজিকে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে , এবং কাটার সমগ্র যন্ত্রপাতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিতে হবে । সামান্য পরিমাণ তেল দিয়ে রান্না করতে হবে। 

ডায়েট করার সময় অধি ক্ষুধা লাগতে পারে আর যদি অধিক ক্ষুদা হয় তাহলে সপ্তাহে কমপক্ষে দুইদিন এক কাপ করে ভাত খাওয়া যাবে তবে ১৫থেকে ২০দিন পর ভাত খাওয়া সর্বোত্তম।  

ওজন কমানোর সহজ পদ্ধতি

মুরগির বুকের মাংস ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ

আপনাকে অবশ্যই সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন মুরগির মাংস খেতে হবে শুধুমাত্র মুরগীর বুকের মাংস । আমি সপ্তাহে একদিন মুরগির বুকের অংশের কোয়োর্টার চার ভাগের এক ভাগ খেতে হবে ।  

তেল যুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না 

আপনাকে সপ্তাহে কমপক্ষে ২ দিন মাছ খেতে হবে । অতিরিক্ত তেল যুক্ত মাছ খাওয়া যাবে না।

  বিকালের নাস্তাঃ

আপনার শরীর ঠিক রাখার জন্য বিকেল ৪ টায় আধা মুঠ ভেজানো ছোলা এবং ৩-৪ টি খেজুর অথবা একটি কলা খেতে হবে। মনে রাখতে হবে যদি আপনি সকালে কলা খান তাহলে বিকালে খাওয়া যাবেনা।

মেয়েরা ১ মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট অনুসরন করার চলাকালীন পিরিয়ডের সময় দিনে ২- থেকে ৩ টা কলা অবশ্যই খেতে হবে। কারন কলাতে প্রচুর পরিমানে আয়রন আছে যা পিরিয়ডের সময় বেশি প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে শরীর যদি বেশি খারাপ বা দূর্বল হয় তাহলে ডায়েট সাময়িক বাদ দিতে হবে। https://www.google.com

আপনাকে চিনি ছাড়তে হবে,  চিনি ছাড়া চা খেতে হবে।

ওজন কমাতে মিক্সড সবজী খুব উপকারীঃ

আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান তাহলে প্রতি বেলাায় মিক্সড সবজী খেতে হবে। সবজী আপনাকে ডায়েট করতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে আজীবন সুস্থ থাকতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সাহায্য করবে।

রাতের খাবার যেভাবে খাবেন ?

সুস্থ ও ডায়েট কন্টোল করতে চাইলে আপনাকে সন্ধা ৭টার মধ্যে একগ্লাস লেবু পানি পান করতে হবে। সকালের বাকী অর্ধেক লেবুর রস একগ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। রাতের খাবারে অবশ্যই সবজী দিয়ে খেতে হবে।

আপনাকে এক কাপ পরিমান মিক্সড সবজী অথবা শাক খেতে হবে। যদি বেশি খুদা লাগে তাহলে তার সাথে মুড়ি অথবা বিস্কুট খেতে পারেন। বেশি রাত করে ঘুমানো যাবে না। আপনাকে অবশ্যই রাত ১২ টার মধ্যে বিছানায় যেতে হবে। আর  একটা কথা মাথায় রাখতে হবে ঘুমানোর আগে রাতের খাবার  ৩ ঘন্টা আগে খেতে হবে।

শারীরিক ব্যায়ামঃ

সুস্থ শরীর সুস্থ মন নিয়ে থাকতে চাইলে, আপনাকে শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে,ধরেন আপনী যদি শারীরিক কর্ম করতে পারেন তাহলে প্রতিদিন কায়িক শ্রম দিতে হবে, আর যদি সেটা করতে না পারেন, তাহলে প্রতিদিন অন্তত প্রতিদিন 30 মিনিট হাটতে হবে। এভাবে করতে পারলে আপনি সহজেই আপনার শরীরের ওজন কমতে সাহায্য করবে।

প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবেঃ

সুস্থ হোক আর ওজন কমানো হউক আপনাকে সারাদিন পানি খেতে হবে। কমপক্ষে দিনে ৪ থেকে ৫ লিটার পানি খেতে হবে। মনে রাখতে তহবে পেঠের চার ভাগের এক তিন ভাগ পানি দিয়ে পেঠ ভরাতে হবে। আর খাবার খেতে হবে শুধু বেঁচে থাকার জন্য।

বাদাম খেতে হবেঃ

সুস্থ থাকার জন্য এবং ওজন কমানোর জন্য সারাদিনে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটা কাঠবাদাম ও পাঁচ থেকে ছয়টা কাজুবাদাম খেতে হবে অতঃপর এর সাথে ৩০ থেকে ৩৫ টা চিনে বাদামু খাবেন কারণ বাদাম ক্ষুধা ভাব দূর করবে এবং আপনার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে বজায় রাখতে সাহায্য করবে। ওজন কমানোর জন্য সকালে ও সন্ধ্যায় বাদাম খেতে পারেন।

সতর্কবার্তা

  • প্রাকৃতিক খাবার ছাড়া বাইরের খাবার কখনোই খাওয়া যাবে না।
  • মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।
  • আপনি যদি আগে কখনো ডায়েট চার্ট ফলো করে থাকেন তাহলে শুরু থেকেই রুটিন অনুসরণ না করে বরং আপনি আমার এই ডায়েট সিস্টেমটি  প্রথম থেকে থেকে অল্প অল্প করে শুরু করতে পারেন।

 বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ অসুস্থ শরীর নিয়ে কখনো এই ডায়েট সিস্টেম অনুসরণ করবেন না। এটা অনুসরণ করার সময় অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে। আপনি যদি অসুস্থ রুগ্ন হন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই উত্তম বলে বিবেচিত হবে।

শেষ কথাঃ উপরিক্ত স্বাস্থ্য কমানোর সহজ উপায় গুলো সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে । যা একজন স্থুলভোগী মানুষের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসু হবে আমার বিশ্বাস।একজন মানুষের শরীরের ওজন কমানোর জন্য যে সমস্ত খাদ্যাভ্যাস বর্ণনা করা হয়েছে, যথাযথ নিয়ম পালন করতে পারলেই সহজেই শরীরের ওজন কমবে আশা করি আপনাদের সকলের উপকার হবে । আজকের মধ্যে এখানেই আমার এই কন্টেইনটি শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *