ভ্রমন

কুয়াকাটা সাগর কন্যা (সমুদ্র সৈকত)

কুয়াকাটা সাগর কন্যা সমুদ্র সৈকত -এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলা অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকটটি লম্বা প্রায়  ১৮ কিলোমিটার এবং বস্তু ৩ কিলোমিটার এই সমুদ্র সৈকতটি ভৌগোলিক অবস্থান। এই সমুদ্র সৈকতটি থেকে কুয়াকাটা সাদা বালির চর বঙ্গোপসাগরের সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখা যায় তাই এর নামকরণ করা হয়েছে সাগর কন্যা। 

কুয়াকাটা বেরিবাদ পেরিয়ে সমুদ্র সৈকতের দিকে হাঁটতে হাঁটতেই হাতের বামে আপনি ব্যক্তির দিকে মিউজিয়ামে স্থাপন করা হয়েছে চাইলে আপনি এখানে ঘুরে দেখতে পারেন। এরপর সামনে কিছু হাঁটার পর নারিকেল বাগানসহ ফল ও ফুলের বাগান আপনার চোখে পড়বে অতঃপর যেখানে কয়েকটি পিকনিক হয়েছে ইচ্ছা করলে আপনাদের ইচ্ছাগুলো সেখানে পূরণ করতে পারেন।

কুয়াকাটা সাগর কন্যা সমুদ্র সৈকত-সুন্দর পরিবেশে একটি ঝাও বাগান দেখতে পারবেন এটি মূলত  বন বিভাগের উদ্যোগেই  নির্মিত হয়েছে যা বনভোজনের জন্য অনাবিল আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে এই ঝাউ বনে। যদি আপনি একটু পূর্ব দিকে  তাকান তাহলে গঙ্গামতির লেক দেখতে পারবেন, আর একটু সামনেই শ্রী শ্রী অনুকুল ঠাকুরের আশ্রম মিস্ত্রীপাড়া বিশাল বদ্ধ বিহার দেখতে পারবেন।

পশ্চিম দিক থেকে দেখতে চাইলে লম্বু পাড়ায় প্রতিবছর আসছেন ও চৈত্র মাস জেলেরা প্রাকৃতিক উপায়ে গড়ে তুলুন শুটকি পল্লী সেখান থেকে আপনি ইচ্ছা করলেই বিভিন্ন মাছের শুটকি সংগ্রহ করতে পারবেন।

এজন্য আপনাকে স্পিডবোট টলার কিংবা ইঞ্জিন চালিত বড় নৌকায় ঘুরে আসতে পারেন। সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট রয়েছে সেখানে রান্না করার সকল ব্যবস্থা আছে আপনি চাইলে সেখান থেকে বাবুর্চি সহ রান্না কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।

কুয়াকাটা সাগর কন্যা সমুদ্র সৈকত – উপকূলে পর্যটকদের জন্য রয়েছে সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাজ টলার এবং স্পিডবোট এসব যানবাহনে সুন্দরবনের অংশ বিশেষ ফাতরার চর, সোনার চর , কটকা,হাঁসার চর, গঙ্গামতির লেক ও সুন্দরবন সহ গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে অফুরস্ত আত্মতৃপ্তিতে নিজেদের ভরে তোলে। সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাজে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।

কুয়াকাটা সাগর কন্যা সমুদ্র সৈকত – দেখার আরেক আকর্ষণ শুঁটকিপল্লি রয়েছে, কুয়াটায় শুটকি পল্লী থাকায় এখানে অনেক কম দামে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুটকি পাবেন। ইলিশ, রূপচাঁদা, হাঙর, লইট্যা, শাপলাপাতাসহ অসংখ্য প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে থাকে। বিশাল এলাকায় জুড়ে চ্যাঙ বানিয়ে শুঁটকি তৈরির পদ্ধতি দেখে দারুন মজার অভিজ্ঞতা হবে।

কুয়াকাটা সাগর কন্যা সমুদ্র সৈকত

  • কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দর্শনীয় স্থানগুলো নিম্নরূপ
  •  কুয়াকাটার কুয়া
  •  কুয়াকাটা বৌদ্ধ মন্দির
  •  ঐতিহ্যবাহী নৌকা
  •  কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান
  •  কাউয়ার চর 
  • ঝাউবন
  •  চর গঙ্গামতি
  • রুপালি দ্বীপ
  •  লাল কাকড়ার চর 
  •  বৌদ্ধ বিহার 
  •   রাখাইন পল্লী
  •  ঝিনুক বিচ 
  • বার্মিচ মার্কেট 
  • মিষ্টি পানির কূপ
  •  লেবুর চর 
  • তিন নদীর মোহনা
  •  স্বপ্ন রাজ্য 

পাখি মারা পানি জাদুঘর সহ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান পাবেন। https://bn.wikipedia.org/

রাখাইন পল্লীঃ

গৌতম বুদ্ধের বিশাল আকৃতির একটি মূর্তি পাবেন। এটি মূলত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির যা কুয়াকাটা থেকেই প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।এই মূর্তিটির দৈর্ঘ্য ৩৬ ফিট উঁচু এর ওজন ৩৭ মন।  এটি দেখতে চাইলে মূলত আপনাকে মোটরসাইকেল যোগেই সেখানে যেতে হবে।

অথবা মন্দিরটির ভিতরে প্রবেশ করলে আপনি মনে করবেন বহির বিশ্বে থাইল্যান্ড বা মিয়ানমারের কোন একটি রাজ্যে আপনি প্রবেশ করেছেন।  মূলত মায়ানমারে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোক তাদের রাজা মনের নেতৃত্বে সাগরে পাড়ি দিয়ে প্রথমে চট্টগ্রাম পড়ে পটুয়াখালীতেই জলাকীর্ণ এলাকায় তাদের বসতি স্থাপন করে।

তাদের  নিজস্ব সৃষ্টি কালচারঐতিহ্য গড়ে তোলে নিজেদের আবাসস্থলে ।এটি মূলত তৎকালীন সরকার রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য ৩ একর এবং তাদের নিজস্ব পল্লী জন্য ১২ একর জমি প্রদান করে থাকে। যা এটি মূলত কলাপাড়ায় অবস্থিত।

ইকোপার্ক ও জাতীয় উদ্যানঃ

এই পার্কটি সমুদ্র সৈকতের একেবারেই কোল ঘেঁষে ২০০ একর  জায়গায় ১৯৬০ সালে পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে ঝাউবন  নারিকেল কুঞ্জ গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন মহিপুর রেঞ্জের বনঅঞ্চল।বন বিভাগ কর্তৃক প্রায় ১৫ হেক্টর জমি নিয়ে বনভূমিতে তৈরি করা হয়েছে মনোলোভ ঝাউবন।

এটি মানব সৃষ্ট হলেও গোধূলি বেলায় সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে বিশেষ করে পূর্ণচন্দ্রলোকিত জোসনা রাতে যখন বেলাভূমি থেকে নারিকেল ও ঝাউবনের দিকেযাবে তখন বিশেষ স্বর্গীয় আবেদন সৃষ্টি হবে আপনি কখনোই কল্পনা করতে পারবেন না। 

চর গঙ্গামতিঃ

সেখানে আপনি কেওড়া গেওয়া ছৈলা,খৈয়াসহ ইত্যাদি ধরনের গাছ গাছরা দেখতে পারবেন। এছাড়াও এখানে আছে বুনোশুয়োর, বন মোরগ আর বানরের কিচির মিচির শব্দ। এর কাছেই রয়েছে রাখাইনদের বৌলতলীপাড়া।

কুয়াকাটা যেভাবে যাবেনঃ

আপনি যদি ঢাকা থেকে সড়ক হতে শুরুকাটা সমুদ্র সৈকত যেতে চান তাহলে ৩৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে।  বরিশাল থেকে আসতে চাইলে ১০৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আসতে পারবেন।

বাসভাড়াঃ ঢাকা থেকে সরাসরি কুয়াকাটা অনেক বাস যাওয়া আসা করে থাকে । গাবতলী থেকে কিংবা সায়দাবাদ বাসস্থান থেকে কুয়াকাটা যেতে পারবেন আপনি এসব বাসে গেলে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ২০০ মিটার দূরে নামিয়ে দিবে এজন্য ভাড়া ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত নিতে পারে।  সময় লাগতে পারে ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা।

খুলনা থেকে কুয়াকাটা বি আর টি সি ছাড়ে সকাল সাতটায় এজন্য আপনার সময় লাগতেছে ৮ ঘন্টা। বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে, সেভেন স্টার সেভেন ডিলাক্স কুয়াকাটা এক্সপ্রেস রয়েল পরিবহন হাওলাদার পরিবহন সহ আরো অনেক পরিবহন পাবেন। এর জন্য ভাড়া লাগবে-৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

ঢাকা সদরঘাটঃ

ঢাকা সদরঘাট থেকে বিলাশবহুল ডাবল ডেকার এম,ভি  পারাপার, এম.ভি সৈকত এম,ভি সুন্দরবন এম.ভি সম্পদ এম.ভি  প্রিন্স অফ বরিশাল এম.ভি পাতারহাট উপকূল লঞ্চ কেবিনে উঠে আপনি সকালে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া কুয়াকাটার বাসযোগে আসতে পারবেন ।

এই সমস্ত জাহাজগুলো বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে। এর জন্য কেবিন ভাড়া বাবদ ১০০০ টাকা ডাবল কেবিন ভাড়া ১৮০০ টাকা লাগতে পারে।

 কুয়াকাটায় কোথায় থাকবেন?

কুয়াকাটা দুটি ডাকবাংলা আছে যা সাগর কন্যা পর্যটন হলিডে হোমস এলজিইডির রয়েছে দুটি সড়ক ও জনপদের একটি জেলা পরিষদের দুটি রাখাইন কালচার একাডেমির একটি রেস্ট হাউসও রয়েছে ।

এছাড়াও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক হোটেল আবাসিক হোটেল পাবেন, আধুনিক হোটেল গুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল নীলাঞ্জনা, হোটেল বি ভিউ, হোটেল গোল্ডেন প্যালেস, হোটেল  বিচ ভেলী, ও হোটেল ফ্যামিলি হোমস কুয়াকাটা। https://daliatista.com/

হলিডে হোমস (পর্যটন করপোরেশন), কুয়াকাটা

ফোন০১৭১৫-০০১১৪৮৩

ইয়োথইন (পর্যটনকরপোরেশন) কুয়াকাটা

ফোনঃ ০৪৪২৮-৫৬২০৭

ভাড়াঃ নন এসি টুইন : ১৫০০ টাকা ও এসি টুইন : ২৫০০ টাকা

হোটেল স্কাই‌্যালেস,পর্যটনএরিয়া,কয়াকাটা

ফোনঃ ০১৭২৭-৫০৭৪৭৯, ০১৭২৭-০৩০২৪৮, ০১৭১৬-৭৪৯০২৭

ভাড়াঃ নন এসি কাপল : ১২০০ টাকা  ও নন এসি টুইন : ১৪০০ টাকা

হোটেলবনানীপ‌্যালেস,পর্যটনএরিয়া,কুয়াকাটা

ফোনঃ০১৭১-৩৬৭৪১৯২,০১৯১১-৬৭২১৩৫,০১৭১২-৮৪৯৩৭৩

হোটেল নীলাঞ্জনা, রাখাইন মার্কেট,কুয়াকাটা

ফোনঃ০১৭১২-৯২৭৯০৪

ভাড়াঃ নন এসি সিঙ্গেল : ৮৫০ টাকা, নন এসি টুইন : ১৪৫০ টাকা

বিশ্বাস সি প‌্যালেস হোটেল, বেড়ি বাধ, কুয়াকাটা

ফোনঃ ০১৭৩-০০৯৩৩৫৬

ভাড়াঃ নন এসি টুইন : ১৮০০ টাকা, ৩ বেডেড রুম : ২০০০ টাকা

সাগর কন্যা  রিসোর্ট লিমিটেড, পশ্চিম কুয়াকাটা

ফোনঃ ০১৭১১-১৮১৭৯৮

হোটেল কুয়াকাটা ইন

ফোনঃ ০১৭৫-০০০৮১৭৭

ভাড়াঃ ইকোনমি টুইন/কাপল : ১৫০০ টাকা , ইকোনমি ফ্যামিলি রুম : ১৮৫০ টাকা (১ ডাবল, ১ সিঙ্গেল)

কিংস হোটেল, সাগর পাড়, কুয়াকাটা

ফোনঃ ০১৭১৩-২৭৭৬৩০

ভাড়াঃ ইকোনমি ডাবল : ৬০০ টাকা, নন এসি ডিলাক্স : ৮০০ টাকা

যেখানে খাবেনঃ

 আপনি যদি ঘরোয়া পরিবেশে মানসম্মত খাবার খেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে হোটেল শেফার্ড  খাবার ঘর ১ ও খাবার ঘর ২ আসতে হবে।এখান থেকেই মূলত বিভিন্ন হোটেলে খাবার সরবরাহ করে থাকে।

এছাড়াও আপনি ইচ্ছা করলেই সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে অনেক ছোট বড় খাবার হোটেল পাবেন সেখান থেকে আপনি আপনার ইচ্ছা মতো খাবার দরদাম করে খেতে পারবেন। হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল মান্নান, কলাপাড়া হোটেল ,বরিশাল সহ আরো অনেক খাবার হোটেল।

আপনাদের বিপদে-আপদের জন্য বাংলাদেশ টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন সর্বদা আপনাকে সাহায্য করবেঃ  ০১৭৬৯৬৯০৭১৯ জেলা প্রশাসন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কন্টাক্ট নাম্বার ০১৭৩৩৩৩৪১৫৫

শেষকথাঃ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত যা আপনি একবার ঘুরে আসতে পারলেই আপনার মনের যে চাওয়া সেটি পূর্ণ হয়ে যাবে। আপনি সেখানে গেলে দারুণ এক চমৎকার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারবেন। আপনাদের  ভ্রমণ সঠিক সুন্দর অনাবিল  আনন্দ বয়ে নিয়ে আসুক এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *