সংবাদ সমাচার

গরুর লাম্পি ভাইরাস?এই স্কিন রোগটি কি কারনে হয় ও কিভাবে প্রতিকার করবেন ?

গরুর-লাম্পি-ভাইরাস-সম্প্রতিকালে গরুর এই লাম্পি ভাইরাস প্রায় সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত এটি ১৯২৯ সালে জাম্বিয়া প্রথম শনাক্ত করা হয় । এই রোগ পরবর্তীতে ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে মহাদেশের বিভিন্ন দেশে এইরোগটি ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে ১৯৮০ সালে আফ্রিকা মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে ? আস্তে আস্তে পুরো পৃথীবিতে ছড়িয়ে পড়ে । গরুর-লাম্পি-ভাইরাস-এই রোগটি  গরুর জন্য মারাত্মক ভয়ংকর ভাইরাস যা গরুর চর্মরোগ নামে আখ্যায়িত। উক্ত এই রোগের মৃত্যুর হার আফ্রিকাতে ৪০% হলেও আমাদের দেশে কখনই মহামারী আকার ধারণ করেনি। এটি মূলত গরুর-লাম্পি-ভাইরাস- একটি গরুর খামারিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় এবং অর্থনৈতিকভাবে এমন ক্ষতিগ্রস্ত করে যা পরবর্তীতে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সক্ষম হয় না।

 আক্রান্তের সময়কালঃ 

গরুর লাম্পি ভাইরাস রোগটি সাধারনত বর্ষার শেষে ও শরতের শুরুতে বা বসন্তের শুরুতে মশা-মাছির বেশি বিস্তারের সময় ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এই সময় সকল যায়গায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। http://daliatista.com

এই রোগের লক্ষণ গুলো কি কি ? 

  •  আক্রান্ত হওয়া গরুটির নাক মুখ দিয়ে লালা বের হবে পা ফুলে যাবে এবং সামনের পায়ের মাঝ স্থানে পানি জমে ফুলে উঠবে।
  • মুখের মধ্যে  ক্ষত দেখা দিবে, বা অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • গরুটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চামড়া পিণ্ড আকৃতি ধারণ করে লোম উঠে যেতে পারে, এবং সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হয় ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষতটি শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও দেখা দিবে।
  • ক্ষত স্থানে রক্তপাত হতে পারে শরীরে অন্য কোন জায়গায় ফুলে যায় বা ফেটে টুকরো মাংসের মত বের হয়ে ক্ষত হয় পূজের মতো বাহির হইতে থাকে।
  • এই রোগটি হলে গরুর পাকস্থলী এবং মুখের ভিতর সৃষ্ট ক্ষত হওয়ার কারণে গরু পানি পান করতে পারেনা এবং খাদ্য গ্রহণ করা কমিয়ে দেয়।

 লাম্পি ভাইরাস রোগটি কিভাবে ছড়ায় ?

গরুর-লাম্পি-ভাইরাস- এই ভাইরাসটি মূলত স্ক্রিন রোগে আক্রান্ত গরুর থেকে অন্য গরুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই রোগ এক গরু থেকে আর এক গরুতে ছড়িয়ে পড়ে কিভাবে তা নিম্নে প্রদান করা হলো-


১। মশা ও মাছিঃ এ রোগের প্রধান ধারক বাহক হচ্ছে মশা ও মাছির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যা অন্যান্য কীটপতঙ্গের মাধ্যমেও ভাইরাসটি গরুর মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২। লালাঃএক্ষেত্রে আক্রান্ত গরুর লালা খাবারের মাধ্যমে অন্য খামারে কাজ করা মানুষের কাপড়ের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরু ছড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৩। দুধঃ যেহেতু এই রোগটি আক্রান্ত গাভীর দুধে ভাইরাসটি বিদ্যমান থাকে তাই আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুর খেলে সে  বাচুরের মধ্যে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে যেতে পারে।

৪। ইনজেকশনের সিরিজঃ  আক্রান্ত গরুতে ইনজেকশনের সিরিজ ব্যবহারের ফলে এই ভাইরাসটি সম্প্রসারিত হতে পারে।

৫। ভ্যাকসিন প্রদানঃ আক্রান্ত গরুকে নিয়মিত এলএসডি ভ্যাকসিন দিতে হবে ইতিপূর্বে আমাদের দেশে রোগটির প্রাদুর্ভাব কম দেখা গেলেও এই রোগের ভ্যাকসিন সহজলব্য কিন্তু নয় তাই নিয়মিতভাবে ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে।

৬। খামারের কাজের লোকঃ যে সমস্ত লোক খামারে কাজ করে থাকে এবং মানুষের পোশাকের মাধ্যমে আক্রান্ত গরু থেকে আরেকটি ভালো গরুর মধ্যে এর একটি ছড়াতে পারে।

৭। আক্রান্ত গরুর সিমেন মাধ্যমেঃ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া কোন সারের সিমের নিয়ে যদি কোন গরুর মধ্যে দেওয়া হয় তাহলে সেই সিমেনের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াইতে পারে। http://www.google.com

 এ রোগে আক্রান্ত হলে কিভাবে প্রতিকার  করবেন?

গরুর-লাম্পি-ভাইরাস

  • প্রথমত আপনি ব্যক্তিগতভাবে হোক আর খামারি চিন্তাভাবনায় হোক সেটি খামারও আশেপাশে পরিবেশ সুন্দরভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে যেন মশা মাছির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • আক্রান্ত খামারের যাতায়াত বন্ধ করতে হবে, এবং আক্রান্ত খামার থেকে আনা কোন সামগ্রী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • আক্রান্ত গরুকে ভালো গরুর সাথে রাখা যাবে না তার জন্য আলাদা স্থানে মশারি দিয়ে  সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখতে হবে যাতে আক্রান্ত গরুটিকে কোন মাসি মশা কামড়াতে না পারে।
  • আক্রান্ত গরুটির ক্ষতস্থানটিতে ৩ ৪ আয়োডিন মিশিয়ে পরিষ্কার করে রাখতে হবে।
  • আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে খাওয়ানো যাবে না প্রয়োজনে দুধ দোয়ানোর পর তা মাটি দিয়ে চাপা দিতে হবে।
  • খামারে কি মনে রাখতে হবে আক্রান্ত গরুর পরিচর্যা করার জন্য যে পোশাক পরিধান করে পরিচর্যা করেছেন সেই পোশাক পড়ে ভালো গরুর পরিচর্যা করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে।
  • কান্ত গরুর খাবার বা ব্যবহার্য কোন জিনিসপত্র ভাল গরুর কাছে আনা যাবে না। 

 লাম্পি ভাইরাসে হতাশ হবেন না ? দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

  • এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া গরু সহজে মারা যায় না।
  • এ রোগের ভ্যাকসিন এখন সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে।
  • এই রোগে  গরু মহিষ আক্রান্ত হয় কিন্তু মানুষ আক্রান্ত হয় না।
  • এই রোগের ভ্যাকসিন ঢাকার মহাখালী হতে সারা বাংলাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

শেষ কথাঃ উপরিক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতিীয়মান হয় যে এই লাম্পি ভাইরাস নতুন করে ভাইরাসের আক্রান্ত নয়। অনেক আগে থেকেই এই ভাইরাসটি পৃথিবীতে এসেছে| যা এর প্রতিকার হিসেবেও ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে , এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সঠিক চিকিৎসা এবং সেবা দানের ফলে গরুর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তাই আমার এই আর্টিকেলটিতে ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিভাবে চিকিৎসা ও প্রতিকার নেবেন সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। আশা করি সবাই বুঝতে সক্ষম হয়েছেন আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

 




 

 

 

 

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *