বিভিন্ন মনিষীর উক্তি

গাভীর দুধ জ্বর হলে কি করবেন? এর লক্ষন, কারন ও কিভাবে প্রতিকার করবেন ?

গাভীর-দুধ-জ্বর-হলে-কি-করবে পৃথিবীজুড়ে গাভীর দুধের কোন বিকল্প নেই একজন মানুষ এ পৃথিবীতে আসার পর মায়ের দুধের পাশাপাশি গাভীর দুধ খেয়ে আমরা কম বেশি সবাই বড় হয়েছি আর তাইতো গাভীর দুধ খেতে  কে না ভালোবাসে গাভীর দুধের বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি গুনাগুনে ভরপুর থাকে। আর এসব গাভী মানুষ বিভিন্ন উপায়ে পালন করে থাকে কেউ বাড়িতে এক দুইটা গরু লালন পালন করে আবার অনেকেই গরুর খামার দিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন ধরনের গাভী পালন করে থাকে। বলা চলে বাংলাদেশে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে।অতঃপর গাভীর পালনের সময় গাভীর বিভিন্ন ধরনের অসুখ হয়ে থাকে তার মধ্যে গাভীর দুধ জোর একটি মারাত্মক সমস্যা অনেক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খামার পর্যন্ত বিক্রি করে দেয়। 

গাভীর দুধ জ্বর কাকে বলেঃ

অভিজ্ঞ পশু ডাক্তারের মতে, সাধারণভাবে একটি গাভী যখন বাচ্চা প্রসব করার সময়, অথবা বাচ্চা প্রসব করেছে এই  অবস্থায় এ রোগের আবির্ভাব ঘটে। মনে হয় গাভী মারা গেছে হাত পা ছেড়ে দেয়।

অন্যন্য পশু বিশেষজ্ঞদের মতে ,গাভীর দুধ জ্বর হচ্ছে এক ধরনের জ্বর যা পশুর মধ্যে জ্বরের লক্ষন দেখা যায় না,তবে পশুকে দেখতে মনে হয় জীবন ছেড়ে দিয়ে নিথর দেহ পড়ে থাকার নামই হচ্ছে দুধ জ্বর।

গাভীর-দুধ-জ্বর-হলে-কি-করবে অতপর:গরুর দুধ জ্বর বাংলাদেশের আবহাওয়া এ রোগ খুবই পরিচিত। বিশেষত যারা দেশীয় খামারে বিভিন্ন উন্নত জাতের ভালো মানের সংকর গাভী পালন করেন, তারাই এই রোগটি সম্পর্কে খুবই পরিচিত। সাধারণত গরুর বাছুর প্রসবের সময় বা আগে না হলে পরে যে কোন একবার এই রোগ দেখা দেয় ।যার কারণে অনেক খামারি ভয় পেয়ে যায়। মূলত এই রোগটি মেটাবলিক রোগ যা সাধারণত ক্যালসিয়াম অভাবজনিত কারণে হয়ে থাকে। এটি মূলত গরুর পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ ঘাটতি জনিত রোগ। গরুর সঠিকভাবে শরীরের কার্যক্ষমতা যে পরিমাণে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয় মূলত তার অভাবে এর উক্তি হয়ে থাকে।

গাভীর-দুধ-জ্বর-হলে-কি-করবে

গাভীর  দুধ জ্বরের লক্ষণ সমূহ ?

গাভীর দুধ জোরে লক্ষণ সমূহ অনেক সময় অনেক ধরনের হয়ে থাকে তাই গরুর দুধজনের লক্ষণ সমূহ নিম্নে দেয়া হলো।

  • সাধারণত গরু বাছুর প্রসবের আগে অথবা পরে গরুর প্রচুর পরিমাণে দুধ আপ ডাউন করতে থাকে। 
  • কখনো ৮ লিটার আবার কখনো ১০  লিটার,
  • আবার কখনো ৩/৪ লিটারে  নেমে আসে।
  • প্রথমে গরুর তাপমাত্রা অধিক হয়।
  • এরপর জ্বর কমে একেবারেই ৯৮,৯৭ ও ১০৬° ফারেনহাইট জ্বর হতে থাকে। 
  • এই সময় গরু একেবারে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। 
  • গরু দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া শুরু করে।
  • অনেক সময় গরু মারা যায়।

  গাভীর দুধ জ্বরের কারণ

 গাভীর দুধজনের অনেক কারণ রয়েছে  গাভীর মধ্যে দুধ জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়, তাই গাভীর কারণ গুলি নিম্নে বর্ণনা করা হলো-

গাভীর-দুধ-জ্বর-হলে-কি-করবে

  • গাভীর ক্যালসিয়ামের অভাবে এই রোগ হয়ে থাকে।
  •  ভিটামিন ডি এর অভাবে এই রোগ হয়।
  •  গাভীর সুষম খাদ্যের অভাবে এই রোগ হয়।
  •  গাভীর এটি একটি মেটাবলিক রোগ ।
  • গাভীর এই রোগ বাছুর প্রসবের সময়ে অথবা আগে পরে হয়ে থাকে ।
  • গাভীর জীবনে এই জ্বর একবার হয়ে থাকবে।
  • অনেক সময় বাছুরের মধ্যে দেখা যায়।
  •  বাছুর গাভীর দুধ খাওয়ার সময় শাল দুধের মাধ্যমে দুধ জ্বর হয়ে থাকে।
  • ১০০ সিসির রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ থাকতে হয় নয় মিলিগ্রামেরও বেশি।
  • বাচ্চা প্রসবের সময় গাভী জরায়ুতে যদি ফুল আটকে থাকে
  •  জরায়ুর কোন স্থানে যদি বাচ্চা আটকে থাকে
  • গাভীর কিছু হরমোনের বৈরী কার্যক্রমের কারণে হতে পারে
  •  গাভীর এড্রেনালিন গ্রন্থির রস  নিঃসরণের তারতম্যের কারণে। https://agricare24.com

গাভীর দুধ জর হলে যেসব কাজ করবেন ?

গাভীর-দুধ-জ্বর-হলে-কি-করবে

  • গাভীকে সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।
  • গর্ভবতী গাভীকে সুষম খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
  •  গাভীকে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ প্রসবকালীন শেষ মাঝ থেকে গাভীকে পরিমিত অনুপাতে খাওয়াতে হবে।
  •  ক্যালসিয়াম ফসফরাস ও ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বেশি করতে হবে

গাভীর চিকিৎসা নিবেন যেভাবে ?

  • একটি গাভীর ওজন অনুযায়ী ইঞ্জেকশন ও রোগের তীব্রতায় গাভীর শিরায় প্রয়োগ করতে হবে।
  •  গাভীর চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।


শেষ কথাঃ উপরিক্ত আলোচনা দ্বারা   প্রতিয়মান হয যে, গাভীর-দুধ-জ্বর-হলে-কি-করবে গাভীর দুধ জল একটি মারাত্মক রোগ যা সহজেই একজন খামারিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই এই রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা অবগত হলাম এবং এর প্রতিকার কারণসমূহ কি কি সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। যা আজকের আমার এই কন্টেইনটিতে আপনাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, আশা করি সবাই ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। তবে খামারি কি মনে রাখতে হবে ক্লাবের যে কোন সমস্যা হলে প্রথমে আপনাকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার গাভীকে চিকিৎসা করাবেন ,আজকের মত এখানেই শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ স্বাভাবিক জীবন পরিচালনা করবেন। খোদা হাফেজ

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *