ভ্রমন

ট্রেনের টিকিট অনলাইনে সহজ পদ্ধতিতে ঘরে বসে কাটুন

ট্রেনের-টিকিট-অনলাইনে-বাংলাদেশ সরকার ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি টিকিট রোধ করতে অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ পদ্ধতি তৈরি করেছেন, যা একজন যাত্রী সহজেই ঝামেলা ছাড়া অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে সক্ষম হবেন। এজন্য একজন যাত্রীকে অবশ্যই ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম নীতি মেনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। আজকে আমার এই আর্টিকেলটিতে যে সমস্ত যাত্রী ভাই বোনেরা অনলাইনে টিকিট কাটতে চান? তাদের জন্য আমারে কন্টেইনটিতে সহজ পদ্ধতিতে কিভাবে অনলাইনে টিকিট কাটবে সে সম্পর্কে আপনাদেরকে বিস্তারিত জানাবো। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক অনলাইনে  ট্রেনের টিকিট কাটার পদ্ধতি। https://daliatista.com

ট্রেনের অনলাইন টিকিট কি ?

 ট্রেনের অনলাইন টিকিট বলতে একজন যাত্রী যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেখানে কিছু যাত্রী তথ্য উপাত্ত ইনপুট দিয়ে  টিকিট সংগ্রহ করা হয় সেটাই হচ্ছে মূলত অনলাইন টিকিট।

অনলাইনে ট্রেনের  টিকিট কাটার জন্য কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য এক জন যাত্রীকে তার নিজস্ব জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ এ টিকিট কাটার জন্য প্রয়োজন হয়।

 যারা ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে?

ট্রেনের-টিকিট-অনলাইনে-বাংলাদেশ সরকার অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি প্রয়োগ করেছেন যেমন অবশ্যই যাত্রীকে বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা ১৮ বছরের উপরে হতে হবে। এবং বিদেশী নাগরিকদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হবে, অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য। 

ট্রেনের টিকিট ভেরিফিকেশন করা হয়

 যখন একজন যাত্রী অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য যে সমস্ত ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে সেই সাপেক্ষে অনলাইনে জাতীয় এনআইডি অথবা জন্ম নিবন্ধন নাম্বার দিয়ে জন্ম তথ্য ভেরিফাই হয়ে, টিকিট বরাদ্দ দিয়ে থাকে। কোন অবস্থাতেই জাতীয় পরিচয় পত্র ও জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ছাড়া অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটা সম্ভবপর হবে না।

অনলাইনে ট্রেনের  টিকিট কাটার সুবিধা

ট্রেনের-টিকিট-অনলাইনে- যেহেতু  ট্রেনের টিকিট নিয়ে  আমরা কমবেশি সবাই কালোবাজারি টিকিট সম্পর্কে জানি যা একজন জাতির জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং দালালের হাতে পড়ে তারা সংগ্রহ করতে থাকে।যায় এটি মানব সেবার চরম পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিল।

সেটিকে দূর করার লক্ষ্যে সরকার দারুন একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে যা বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন, যা একজন যাত্রী সহজেই তার বাড়ি থেকেই অনলাইনে টিকিট কেটে ভ্রমণ করতে পারে।

অনলাইনে কিভাবে  ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করবেন

ট্রেনের-টিকিট-অনলাইনে

ট্রেনের-টিকিট-অনলাইনে- একজন যাত্রীর সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ পদ্ধতিতে  কাটতে সক্ষম হয় নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করে সহজে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেটে ফেলুন।

ধাপ-১

প্রথমে যে কোন ব্রাউজারে গিয়ে https://eticket.railway.gov.bd প্রবেশ করে Username Password দিয়ে লগিং করতে হবে।

ধাপ -২ 

লগিং করার জন্য এন আইডি ও জন্ম তারিখ লিখে Verify  বাটনে ক্লিক করতে হবে।

আপনি যদি NID নম্বর ও জন্ম তারিখ সঠিকভাবে লিখতে পারেন তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা এনআইডি নাম্বারটা যদি আগে ব্যবহার করা না হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে বলবে। অথবা যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন।

ট্রেনের-টিকিট-অনলাইনে-আর আপনার যদি আগেই রেজিস্ট্রেশন করা থাকে তাহলে আপনি সহজেই রেল সেবার অনলাইন পোর্টালে ঢুকেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য প্রথমেই নতুন যাত্রীর জন্য নিবন্ধন করা আবশ্যক

ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য যাত্রীকে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে সেক্ষেত্রে আপনি যে কোন একটি ব্রাউজারে গিয়ে https://eticket.railway.gov.bd ঠিকানায় প্রবেশ করতে হবে। অথবা আপনার মোবাইল ফোন দিয়ে rail sheba appব্যবহার করে সাইন আপ করতে হবে। এবং সঠিক এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন তারিখ ভেরিফাই পূর্বক এবং আরও অন্যান্য তথ্য প্রদান সাপেক্ষে আপনার রেজিস্ট্রেশনটির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।

মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন

এছাড়াও আপনি ইচ্ছা করলেই এসএমএসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

ট্রেনের-টিকিট-অনলাইনে-এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে- BR space NID নম্বর space  জন্ম তারিখ  জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে আপনাকে যে  পদ্ধতিটি  করবেন  জন্ম তারিখের ফরম্যাট যেমন  আগে জন্ম সাল তারপর মাস তারপর দিন দিয়ে এসএমএস পাঠাতে হবে ২৬৯৬৯ এই নম্বরে। https://www.google.com

 অতপর আপনি   একটি ফিরতি মেসেজ পাবেন আর এই এসএমএসে আপনার নিবন্ধন সফল কিংবা ব্যর্থ হয়েছে কিনা তা আপনি দেখতে পারবেন।

ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটার যেসব শর্ত মানতে হবে-

  • অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য যাত্রীকে অবশ্যই ১২ থেকে ১৮ বছর বয়স হতে হবে সেক্ষেত্রে যাত্রীর পিতা-মাতার নাম এনআইডি দ্বারা নিবন্ধনকৃত রেলের একটি একাউন্ট অথবা জন্ম নিবন্ধন নম্বর প্রদান করতে হবে। 
  • জন্ম নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনকৃত অ্যাকাউন্ট দ্বারা পৃথক বাই এককভাবে টিকিট কাটতে পারবে। 
  • টিকিটের উপরে যে নাম থাকবে সে নামের সঙ্গে যাত্রী সম্পর্ক যাচাইয়ের জন্য ভ্রমণ কালে অবশ্যই বাধ্যতামূলকভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি সাথে রাখতে হবে।
  • ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটার জন্য বিদেশি নাগরিকদের অবশ্যই পাসপোর্ট নম্বর ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি আপলোড করার মাধ্যমেই নিবন্ধন সম্পূর্ণ হবে।
  • সঠিকভাবে যাচাইকৃত অনলাইন ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে একজন যাত্রীর জাতীয় পরিচয় পত্র/ পাসপোর্ট নাম্বার/ ও জন্ম নিবন্ধন যাচাই পূর্ব নিবন্ধন কোনক্রমে টিকিট কিনতে পারবে না। 
  • যাত্রীকে  ট্রেনের ভ্রমণ কালে অবশ্যই তার নিজস্ব জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি অথবা পাসপোর্ট/ ছবি সংবলিত আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে।
  • ট্রেনে ভ্রমণের সময় যদি যাত্রীর পরিচয়পত্রের সাথে টিকিটের মিল না থাকে তাহলে যাত্রীকে বিনা টিকেট ভ্রমণের দায়ে অভিযুক্ত করে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার উপরে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
  • অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০২৩ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র জন্ম নিবন্ধন পাসপোর্ট এর মাধ্যমে রেল কর্তৃপক্ষ এই সিস্টেম পদ্ধতি সম্পন্ন করেছেন।
  • দেশের সকল নাগরিকের সেবার জন্য দেশেরপ্রতিটি বিভাগীয় শহরে রেলস্টেশনও আন্তঃনগর ট্রেনের স্টেশন গুলোর সর্বসাধারণের নিবন্ধন প্রক্রিয়া করার জন্য একটি করে হেল্প ডেক্স স্থাপন করা হবে।

টিকিট যার যার ভ্রমণ তার তার

বাংলাদেশ রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন যাত্রীর জাতীয় পরিচয় পত্র জন্ম নিবন্ধন ও পাথর সনদ যা তাই সাপেক্ষে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কাটতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে রেলের কর্মকর্তারা পয়েন্ট অফ সেল( পি ও এস) মেশিনের মাধ্যমে টিকিট যাচাই করবেন।

অন্যের এনআইডি কার্ড জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে ট্রেনের টিকিট কাটলে সেক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা রেল কর্তৃপক্ষ নিতে পারবে। এক্ষেত্রে এ ব্যবস্থাকে বলা হয়ে থাকে টিকিট যার ভ্রমণ তার। টিকিট কালোবাজারি বন্ধ ও বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই সরকারি এই মহান উদ্যোগ।

শেষ কথাঃ টিকিটের ভ্রমণ তার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটার যে সমস্ত গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েছেন তা সহজেই সাধুবাদ জানা দরকার। উপরিক্ত তথ্য প্রদান  সাপেক্ষে আপনি সহজেই ঘরে বসে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে সক্ষম হবেন।আমার এই আর্টিকেলটিতে যে সমস্ত পাঠক এর কোন মন্তব্য থাকলে আমার কমেন্ট বক্সে লিখবেন যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার এই কনটেন্টটি যদি আপনাদের  ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করবেন। এবং আরো নিত্য নতুন তথ্য পেতে চাইলে অবশ্যই আমার এই লেখার সঙ্গেই থাকবেন আজকের মত এখানেই শেষ করছি সবাই সুস্থ স্বাভাবিক ও নিরাপদে থাকবেন, এই কামনায় আল্লাহ হাফেজ। 

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *