স্বাস্থ্য

ডেঙ্গু জ্বর! এই জ্বরের লক্ষন সমুহ কি? কি কারনে জ্বর হয়? কিভাবে চিকিৎসা নিবেন।

ডেঙ্গু-জ্বর-এই-জ্বরের-কথাটি শুনলে মনের ভিতরে কেমন জানি আতঙ্ক ভাব বিরাজ করে। এই ডেঙ্গু জ্বর সাধারণ জ্বরের মতো নয়, এটি একটি অসাধারণ জ্বর যা শরীরকে একেবারে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এমন কি মৃত্যুর পথযাত্রী করতে দ্বিধাবোধ করে না। তাই ডেঙ্গু জ্বরকে ভাইরাস জ্বর ভেবে উপেক্ষা করার কোন ঠিক হবে না। ডেঙ্গু-জ্বর-এই-জ্বরের-এটি একেবারেই আলাদা হলেও এটি তুলনামূলক ভয়ংকর। আজকে আমার আর্টিকেলটিতে চেষ্টা করব ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, কি কি কারণে এই জ্বর হয় আর এই জ্বর হলে কিভাবে সুচিকিৎসা নিবেন তার দিকনির্দেশনা আমি আজকে তুলে ধরব। প্রথমে আমাদের জেনে রাখা উচিত এডিস মশা কামড়ালেই কি মানুষের ডেঙ্গুজ আক্রান্ত হয়? এডিস  স্ত্রী মশা ভাইরাসের ধারক বাহক হিসেবে কাজ করে থাকে তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ সহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। http://daliatista.com

ডেঙ্গু কাকে বলে ?

এটি প্রধানত ভারতবর্ষে  প্রাক গ্রীষ্ম ও বর্ষার সময় এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। ডেঙ্গু জ্বরের হাড় সবচেয়ে বেশি থাকে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত আর এটি এপ্রিল মাসে এই হার সবচেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে থাকে জুন জুলাই মাস থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সাধারণত হ্রাস পেতে থাকে ।

ডেঙ্গু-জ্বর-এই-জ্বরের-প্রতিবছর সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়ে এই রোগে মহামারি আকার ও ধারণ করে থাকে তাই বিনা চিকিৎসায় ভুল চিকিৎসা এবং দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু  পর্যন্ত হয়ে থাকে। 

এই রোগ ডেঙ্গু-জ্বর-এই-জ্বরের- আক্রান্ত রোগীদের লক্ষন দেখা নাও যেতে পারে।তাই সঠিক চিকিৎসা বাড়িতে থেকেই এই রোগ নিরাময় করা সম্ভবপর হয়। শুধুমাত্র বিশেষ কিছু  রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে রোগীকে এক হতে দুই সপ্তাহের মধ্যে ভালো করা সম্ভব।

এই রোগ সম্পর্কে জনমত সচেতনতা বৃদ্ধি ভীষণভাবে জরুরী। সামান্য কিছু পন্থা অবলম্বন করলে ডেঙ্গুর হাত থেকে আমরা সহজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারি। অতঃপর এই রোগটি যদি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এর হাত থেকে আমাদের নিস্তার নেই।

ডেঙ্গু জ্বর এই জ্বরের

এই জ্বরের লক্ষণ কি ?

ডেঙ্গু জ্বর এটি মশাবাহিত ভাইরাস ঘটিত রোগ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথমবার যদি কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় রোগীর বিশেষ কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। শুধু অল্প কিছু ক্ষেত্রেই এই রোগটি অত্যন্ত গভীরে পৌঁছে যায় তাই নিম্নে ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণ লক্ষণ গুলো কি কি দেওয়া হলো।

  • এই জ্বরটি হলে তীব্র মাথাব্যথা। 
  •  উচ্চ জর হবে (40°C/104°F)
  • চোখের পিছনের দিকে ব্যথা অনুভূতি হবে।
  •  বমি বমি ভাব।
  •  মাংসপেশী এবং অস্থি সময়ে ভীষণ যন্ত্রণা হবে।
  •  সব সময় মাথা ভর্তি থাকবে।
  • শরীরে গ্রন্থি  ফুলে যাবে।
  •  শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুসকুড়ি দেখা দিবে।
  • প্রচন্ড মাথা ব্যাথা।
  •  দাঁতের মাড়ি ও নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
  • , প্রস্রাব ও  মলের মাধ্যমে রক্তপাত হওয়া।
  • অনিয়ন্ত্রিত পায়খানা।
  • দ্রুত শ্বাস- প্রশাস।
  • ক্লান্তি বোধ হয়।
  •  বিরক্তি ও অস্থিরতা বোধ।

ডেঙ্গু-জ্বর-এই-জ্বরের-এই উপসর্গগুলি একজন মানুষের ভিতরে সংক্রমণ থেকে চার থেকে দশ দিনের মধ্যে দেখা দিবে। সাধারণত দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত উপসর্গগুলি স্থায়ী হতে থাকবে।

আর যদি দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুজরে আক্রান্ত হয় তাহলে এর ভয়াবহতা অনেক বৃদ্ধি পাবে তাই সেই কারণে পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে।

সাধারণত ডেঙ্গুর জীবাণু মানুষের শরীরের রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে আর এটির রক্তনালী এমনভাবে ছিদ্র তৈরি হয় যা রক্ত সরবরাহ একবারে তৈরি লাল প্লাটিলের সংখ্যা কমে যায়  তাই এর জন্য শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে রক্তপাত ভুলে যাওয়া বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়।

ফলে দেখা যায় শরীরের যে কোন অঙ্গের একটি ক্ষতিসাদিত হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই সমস্ত লক্ষণ গুলি একজন রোগীর ভিতরে দেখা পাওয়া মাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হসপিটালে ভর্তি করানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই আর এসব না করলে রোগীর জন্য পরিণতি খারাপ আছে।

একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্লেটলেটরের  সংখ্যা কত থাকে ?

একজন স্বাভাবিক মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্লেটলেট সংখ্যা থাকে ১,৫০০০০ থেকে ৪৫০০০০ প্লেটলেট প্রতি microliter রক্তে।এক্ষেত্রে একজন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগের রক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা ২০,০০০ নিচে চলে যায়। এই সময় একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রক্তপাতের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। মাঝামাঝি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য হয় 21-40,000/cumm মধ্যে থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে ডেঙ্গু সংক্রমনের প্লেটলেট সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তন হয়। রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট কম এবং রক্তক্ষরণের লক্ষণ প্রকাশ পেলে, তবে প্লেটলেট প্রতি স্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। অন্যথায় সংক্রমণ কমার সাথে সাথে আমাদের শরীরে স্বাভাবিকভাবে প্লেটলেট  যেভাবে কাউন বৃদ্ধি পায়।এর জন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ভিটামিন ই ভিটামিন কে এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করতে হয়।

ডেঙ্গু জ্বর হলে কিভাবে চিকিৎসা নিবেন ?

ডেঙ্গু জ্বরের বিশেষ কোন ওষুধ এখনো কোন ধরনের ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে  গবেষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে ওষুধ তৈরী করার জন্য। বেশিরভাগক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসা করতেই পারলে এই রোগটি নিরাময় করা যায়। তবে চিকিৎসকরা কিছু প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রন করে থাকে।Non-Steroidal প্রদাহ-এই প্রতিরোধী ওষুধের রক্ত ক্ষরনের সম্ভবনাও নিয়ন্ত্রন করা হয়ে থাকে।

এই রোগের মাত্রা অতিরিক্তভাবে যদি রোগীর শরীরের ভিতরে প্রকাশ পায় তাহলে দ্রুত হসপিটালে ভর্তি করতে হবে, এবং বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। অতঃপর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শিরায় (iv) ইলেকট্রোলাইট (লবন)  জাতীয় তরল দেওয়া হয়। এতে করে যে রোগীর জন্য উপকারটি হয় সেটি হল শরীরের ভিতরে প্রয়োজনীয় জল ও লবণ জোগাতে সাহায্য করে থাকে।

ডেঙ্গু জ্বরে ঘরোয়া কিছু চিকিৎসা হিসেবে করতে পারেন?

ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ তাই এই মশা কামড়ের হাত থেকে নিজেকে এবং আপনার পরিবার-পরিজনকে বাঁচানোর জন্য কিছু ঘরোয়া উপায়ে ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পেতে পারেন-বাড়ির চারপাশে পানি জমাতে দেওয়া যাবে না, কারণ পানিতে মশারা বংশবিস্তার করে থাকে।

পানি জমে এমন কিছু পাত্র যেগুলো সব সময় পরিষ্কার অথবা উল্টিয়ে রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও পানি জমে এমন সব জায়গা আপনাকে অবলোকন করতে হবে।

শরীরে পরিধান করা জামা কাপড় যেমন- লম্বা হাতা শার্ট, প্যান্ট, মোজা, এবং জুতা পরিধান করতে হবে। ডেঙ্গু বহনকারী ভাইরাস মশা সাধারণত ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। 

রাতে শোয়ার সময় অবশ্যই মশারি ভালোভাবে আটকে ঘুমাতে হবে। মশা নিরোধ ক্যামিকেল বাজারে পাওয়া যায় যেমন- পারমেথ্রিন  ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন । http://www.google.com

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর জন্য কিছু পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া যেতে পারে যেমন-

  • ভিটামিন সি জাতীয় খাবার- সাইট্রাস ফল সবুজ শাকসবজি খাওয়া যেতে পারে।
  • আয়রন জাতীয় খাবার-মাংস ও মটরশুঁটিতে পাওয়া যাবে।
  •  নারিকেলের পানি ও  পেঁপে
  •  ওটমিল-  কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
  •  সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে  পানি জাতীয় তরল খাবার খেতে হবে এক্ষেত্রে রোগীর শরীরকে হাইড্রেট করা সহজ হবে।

ডেঙ্গু-জ্বর-এই-জ্বরের

ডেঙ্গু হলে যে সমস্ত খাবার খেতে দেওয়া যাবে না ?

  • আমিষ জাতীয় খাদ্য।
  •  চর্বিযুক্ত খাবার।
  •  তৈলাক্ত খাবার সমূহ।
  •  তেলে ভাজা সকল জাতীয় খাদ্য।

উপসংহারঃ উপযুক্ত আলোচনা দ্বারা ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে যে সমস্ত বর্ণনা আলোকপাত করা হলো যা একজন মানুষের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে কিভাবে তড়িৎ গতিতে চিকিৎসা পাওয়া যায় সেই সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে এবং এর লক্ষণ গুলো কি কি সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। প্রতিকার হিসেবে কি কি পন্থা অবলম্বন করবেন , সেগুলো যদি ভালোভাবে মেনে চলেন তাহলে এই ডেঙ্গু থেকে আমরা সহজেই মুক্তি পেতে পারি। ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় সঠিক ওষুধ এখনও বাইর হয়নি। ডেঙ্গু থেকে আমাদের সচেতনতাই মুক্তি দিতে পারে।  আজকের মত এখানেই আমার এই আর্টিকেলটি শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকার চেষ্টা করবেন আল্লাহ হাফেজ।

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *