ভ্রমন

তিস্তা ব্যারেজ,উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বৃহত্তম সেচ প্রকল্প

ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ – বাংলাদেশ সবচেয়ে বৃহত্তম সেচ প্রকল্প রংপুর বিভাগের নীলফামারী ও লালমনীরহাট জেলা ডিমলা ও হাতিবান্ধা উপজেলায় ডালিয়া দোয়ানী নামক স্থানে অবস্থিত। এই ব্যারেজটি উত্তরাঞ্চলের খড়াপিড়িত  এলাকার জন্য সেই ব্রিটিশ আমল ১৯৩৭ সালে নির্মান পরিকল্পনার হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মুল পরিকল্পনা করা হয় ১৯৫৩ সালে।

আর এটি ১৯৫৭ সালে নির্মান বাস্তবায়ন কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কারনে নির্মান কাজ পিছিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ জয় লাভ করার পর ১৯৭৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিস্তা ব্যারেজ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। আর কাজ শুরু করে হোসাইন মুহম্মদ এরশাদের শাসন আমলে। ১৯৮৫ সালে সৌদি আরব উন্নয়ন তহবিল ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এর আবুধাবি উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে।

১৯৯০ সালে এর কাজ শেষ করে একই বছরের ৫ আগষ্ট এর শুভ উদ্বোধন করেন হুসেন মুহম্মদ এরশাদ সরকার। অতপর রংপুর,দিনাজপুর ও বগুড়া সেচ সুবিধা প্রদান করে প্রায় ৫ লক্ষ হাজার হেক্টর জমিতে । পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ২৬৬ হেক্টর জমি সরকার অধিগ্রহন করে থাকেন। তিস্তা ব্যারেজটি ভ্রমন পিপাসুদের জন্য দারুন একটি যায়গা যা আপনাকে মনোমুগ্ধকর করে দিবে।

বিভিন্ন সবুজ গাছগাছড়া দ্বারা আচ্ছাদিত। একটি হেলিপ্যাড আছে।যা বিভিন্ন রাজনীতিবীদ ও সরকারী কর্মকর্তা হেলিকাপ্টারে আসেন। নিম্নে তিস্তা ব্যারেজের যাবতীয় তথ্য তুলে ধরা হলো। https://bn.wikipedia.org/

তিস্তা ব্যারেজ

তিস্তা ব্যারেজের নাম করণঃ

যেহেতু এই নদটি তিস্তা নামে পরিচিত তাই ডালিয়া গ্রামের নাম ধরে এর নাম করণ করা হয় ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ।

তিস্তা ব্যারেজ যেভাবে যাবেনঃ

 বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে নীলফামারী ও লালমনীহাট জেলার ভারত সিমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। আপনি যদি ঢাকা থেকে আসতে চান ? তাহলে বাস ,ট্রেন,ও বিমান যোগে আসতে পারেন। 

বাসঃ এর জন্য আপনাকে যা করতে হবে- বাসে করে আসতে চাইলে ঢাকার গাবতলী ও মাজার রোডে বিভিন্ন এসি ও নন এসি বাস পাবেন, নাবিল পরিবহন,হানিফ পরিবহন,শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন,টি আর ট্রেভেলস,এস আর,সহ আরো অনেক বাসে করে আসতে পারেন। এজন্য আপনাকে নামতে হবে  রংপুর,বড়খাতা,ও ডালিয়া বাসষ্টান ।

ট্রেনঃ ট্রেন হয়ে আসতে চাইলে আপনাকে কমলাপুর রেল স্টেশন,ও বিমান বন্দর হয়ে আসতে পারেন। আপনাকে নামতে হবে হাতিবান্ধা উপজেলা বড়খাতা স্টেশনে।

বিমানঃ যদি আপনি বিমানে আসতে চান তাহলে হযরত শাহজালাল বিমান বন্দর থেকে নীলফামারী সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামতে হবে। তারপর আপনি চাইলে,মাইক্রোবাস,সিএনজিও মটরসাইকেল হয়ে আসতে পারেন।

আপনাকে মনে রাখতে হবে দরদাম করে গাড়ী ভাড়া নিবেন। 

তিস্তা ব্যারেজ

ব্যারেজ এলাকায় কোথায় থাকবেন ? 

তিস্তা ব্যারেজটি রিমোট এরিয়া হওয়ার কারনে, এলাকায় তেমন কোন বড় ধরনের হোটেল ও রেষ্ট হাউস নেই। তবে আপনি থাকতে চাইলে সরকারী  ডাকবাংলা অবসর ও আইভি রেষ্টহাউসে  থাকতে পারেন। এজন্য আপনাকে পূর্বে অনুমতি নিতে হবে। https://daliatista.com/

আইভি ও অবসর গেষ্টহাউসঃ  তিস্তা ব্যারেজ এলাকার ডালিয়া পয়েন্টে আইভি নামক রেষ্টহাউজে খাবার খেতে পারেন,এজন্য আপনাকে আগে অর্ডার করতে হবে। 

এখানে আপনী তিস্তা নদীর বোয়াল,আইর,চেলা,বাগইর,বৈরালী, দেশী মুরগী,খাশির মাংস,বিভিন্ন ধরনের মাছ, ও বিভিন্ন রকমের ভর্তাসহ খাবার খেতে পারেন।

বিশেষ করে এখানকার বৈরালী মাছ  খেতে অত্যন্ত ভারী স্বাদের হয়ে থাকে। আর যদি হোটেলে খেতে চান তাহলে ডালিয়া পয়েন্টের ৫০০ গজ দুরে বাজারে আপনার ইচ্ছামত খাবার খেতে পারেন। এছাড়াও বড়খাতা রহমানিয়া হোটেলসহ আপনি খেতে পারবেন।

বৈরালী হোটেলঃ  এই হোটেলটি আধুনিক মানের। আপনি ইচ্ছা করলে ফাষ্টফুট,বিরানী,পোলাও, ভাতসহ অনেক খারের আইটেম পাবেন।

তিস্তা ব্যারেজ

বডারগার্ড সিমান্ত ক্যাফেঃ  তিস্তা ব্যারেজ সাথেই রয়েছে ক্যাফটি এখানে আপনি চাইলে খেতে পারেন,ফাষ্টফুট,ফুসকা,দই দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন বাহারী রঙ্গের খাবার। আপনী ইচ্ছা করলে বর্ডারগার্ড পরিচালিত দোকানে কেনাকাটা করতে পারেন।

 তিস্তা হোটেলঃ ব্যারেজ এলাকায় এই হোটেলটি পাবেন। স্বল্প দামে সেখানকার খাবার খেতে পারেন। এই হোটেলে দারুন স্বাদের  গরুর মাংস পেতে পারেন।

অবসর দেখার অনুমতিঃ তিস্তা ব্যারেজে সাথেই অবসর অবস্থিত সেখানে সবসময় আনসার ডিউটিরত থাকেন। ভিতরে দেখতে চাইলে অবশ্যই বাংলাদেশ পানি উন্নায়ন বোড ডালিয়া শাখা থেকে অনুমতি নিতে হবে। অবসরের ভিতরে ঢুকতে পারলে দারুন সব ডিজাইন,সুন্দর কনফারেন্চ রুম ও ব্যারেজ পরিচালনা করার পদ্ধতি দেখতে পারবেন।

তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় কি কি দেখবেন ?

ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় প্রবেশ করার পর সর্বপ্রথম ব্যারেজ ৫২ টি গেইট ঘুরে দেখবেন। মনে রাখবেন আনসার ও পুলিশ বাহিনী রয়েছে। এমন কিছু কাজ করা যাবেনা যাতে করে আপনার মান ক্ষুন্ন হয়।

তিস্তা ব্যারেজ

ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজের গেট সংখ্যাঃ

ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ ইলেকট্রনিক্স অনলাইন রিমোট সিস্টেম গেট সংখ্যা ৫২ টি।

স্পিট বোডঃ  ইচ্ছা হলে আপনি স্পিট বোডে করে তিস্তা ব্যারেজ ঘুরে দেখতে পারেন।

মনে রাখবেন বেশি দূরে যাওয়া যাবেনা। কারন অনেক সময় আপনী বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন। ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ অনেক স্পিট বোড পাবেন,এর জন্য আপনাকে জন প্রতি ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত লাগবে।

নৈাকা ভ্রমনঃ যদি আপনারা গ্রুপ বা পরিবার নিয়ে আসেন তাহলে নৈাকা ভাড়া করে ব্যারেজ এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন।এর জন্য ভাড়া ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। আর যদি ঘন্টা চুক্তিতে যেতে চান তাহলে ১০০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। নৈাকা মাজি দেলোয়ার হোসেন এর সাথে প্রয়োজনের যোগাযোগ করতে পারেন- 

যদি আপনারা ভারতের গজলডোবা যেতে চান তাহলে নদী পথেই যেতে হবে এজন্য স্পিট বোড ভাড়া নিয়ে যেতে হবে । এর জন্য ভাড়া লাগবে প্রায় ৩৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত।

পুকুর পাড়ঃ ডালিয়া,তিস্তা ব্যারেজ পাশে একটি বিশাল পুকুর রয়েছে যা উভয় পাড়ে নান্দনিক সবুজ গাছ ও বসার ব্যবস্থা আছে,পুকুর ঘাট আছে আপনী চাইলে সেখানেও গোসল করতে পারেন।

ডালিয়া ছি বিচঃ ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ উজানে ও ভাটিতে নদীর দুই ধারে বসার ব্যবস্থা আছে। আপনি চাইলে সেখানে গোসল ও সাতাঁর কাটতে পারেন। মনে রাখবেন বেশি স্রোত ও গভীরে যাবেন না। নাহলে প্রান নাসের হুমকীতে পড়তে পারেন। 

পিকনিক স্পোটঃ ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এর পাশে পিকনিক স্পোট । আপনারা যদি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে আসেন তাহলে হেলিপ্যাড এলাকায় আপনাদের বিনোদন ও খাওয়া দাওয়া শেষ করতে পারেন। রান্না করার জন্য যদি বাবুর্চি লাগে তাহলে সেখানকার গ্রামের লোকেদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। 

ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ ভ্রমন করার পূর্বে  আবহাওয়া সম্পর্কে অবগত হয়ে আসবেন।

সমাপনীঃ আজকে আমার আর্টিকেলটি তিস্তা ব্যারেজ সম্পর্কে  লিখতে পেরে আমি গর্বিত,কারন উত্তর বঙ্গের একমাত্র সেচ প্রকল্প হিসাবে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। আপনার ভ্রমন সুন্দর ও নিরাপদ হউক এই প্রত্যাশায় শেষ করছি।

 

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *