সংবাদ সমাচার

থাকছে না কেজি স্কুল চলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদলে

থাকছে না কেজি স্কুল- ও কিন্ডার গার্ডেন স্কুল – দেশের আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতারমত বাহারী নামে কে কিন্ডার গার্ডেন স্কুল। আর এবার এর লাগাম ধরে টান দেওয়া শুরু করেছে সরকার। দেশের আর কোন কেজি ও কিন্ডার গার্ডেন স্কুল থাকবে না ,এসব স্কুল পরিচালনা করতে হলে সরকারের পূর্ব  অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হবে, চালাতে হলে  স্কুলের নিবন্ধন,জমি,পরিচালনা পর্ষদসহ  সরকারী নীতিমালা পাঠ্যবই পড়াতে হবে। এছাড়াও আরো অনেক শর্তসাপেক্ষে স্কুল চলার অনুমতি লাগবে। তাই আজকে আমার কন্টেইনটি থাকছে না কেজি স্কুল -তাদের জন্য লেখা যারা  বাচ্চাদের লেখাপড়ার মান নিয়ে চিন্তিত।  

সরকারি নিয়ন্ত্রণ

ব্যাঙের ছাতারমত গজিয়ে এসব কেজি ও কিন্ডাগার্ডেন নিয়ন্ত্রন নিতে গত ফেব্রুয়ারীতে উদ্দ্যেগ নেয় গনশিক্ষা ও প্রাথমিক মন্ত্রনালয়। এসব ভীতিমালা প্রস্তুত করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানটি যেভাবে নামকরণ ধরা হবে

থাকছে না কেজি স্কুল- প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে বিধিমালা অনুযায়ী দেশের সকল নার্সারি কেজি কিন্ডারগার্ডেন ও প্রিপারেটরি স্কুল নামে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো আর থাকবে না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাদ দিয়ে বাকি সব স্কুল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে । যারা এখনো নিবন্ধন আকারে প্রকাশ পায়নি বিধিমালা গেজেট তিন মাসের মধ্যে অবশ্যই নিবন্ধন নিতে হবে।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যত নিয়ম আসছে

বাংলাদেশের কিন্ডারগার্ডেন কেজি নার্সারি প্রিপারেটরি স্কুলের নামে শিক্ষা বাণিজ্যের লাগাম ট্রেনে ধরতে প্রাথমিক শিক্ষা শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য মূলত নতুন বিধিমালা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বি দি মালার যেসব নিয়ম মারলেই কেবলমাত্র স্কুলগুলো নিবন্ধন পেতে সক্ষম হবে।

প্রাথমিক অনুমোদন প্রক্রিয়া

আর অনুমোদনের জন্য  প্রতিটি স্কুলকে উপজেলা থানা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে আবেদন ফি বিভাগীয় শহরে ৫০০০ হাজার টাকা জেলায় ৩০০০ ও উপজেলায় ২০০০ হাজার টাকা  ধার্য করা হয়েছে। সনদ দেওয়ার পর থেকে এক বছর মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের জন্য আবেদন 30 দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি আনতে হবে । তদন্ত ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নবায়ন করা সম্ভবপর হবে না।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জন্যঃ

থাকছে না কেজি স্কুল-অতঃপর প্রাথমিক অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠান থেকে নিবন্ধন নিতে হবে শহরে প্রতিষ্ঠিত হলে নিবন্ধন ফি ১৫ হাজার টাকা জেলা শহরে হলে নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ।

 নিবন্ধন দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী শিক্ষা সমাপনী ও উপস্থিতির হার বিবেচনা করে নিবন্ধন দেওয়া হবে। অতপর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অনুমোদন দিলেও এর মুল নিবন্ধন হবে বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডিডি । 

নিবন্ধনের মেয়াদ হবে ৫ বছর। আর নিবন্ধনের সনদে সকল শর্ত উল্লেখ থাকবে। যদি কোন প্রতিষ্ঠান অনুমতি পায় অতপর এক বছরের মধ্যে নিবন্ধন অনুমতি না নিলে  নিবন্ধন সনদ বাতিল হবে।

থাকছে না কেজি স্কুল
নিবন্ধন  নবায়ন প্রক্রিয়া

নিবন্ধন মেয়াদ শেষে পুনরায় নবায়ন করতে হবে কোন স্কুল মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০ দিনের আগেই দরখাস্ত করতে হবে নবায়নের ম্যাচ পাঁচ বছর নতুন নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত কি ৫০ শতাংশ দিতে হবে , কোন কারনে নিবন্ধন বাতিল হলে  পুনরায় আবেদন করতে হবে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি

স্কুল চলবে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে  প্রধান শিক্ষক কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি অভিভাবক প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে থেকে দুজন এবং কাছাকাছি অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এই কমিটিতে থাকবেন।

 প্রতিষ্ঠাতা দুজন পাওয়া না গেলে উপজেলা পর্যায়ের ইউএনও বা ডিসের প্রতিনিধি এই কমিটিতে থাকবেন। শিক্ষক অভিভাবক সহ সব প্রতিনিধি নির্বাচন দেখভাল করবেন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

কমিটি গঠন

 বিদ্যালয় কমিটি গঠনের সময় প্রথম সভায় প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি বাঁধে বাকিদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করতে হবে।উচ্চ মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয় শাখা থাকলে তার জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে।

 আর এই কমিটিতে ইউনো বা ডিসি অনুমোদন দেবেন কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর।কমেডিতে থানা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষক একজন অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য থাকবেন কমিটির বৈঠকগুলি করতে হবে প্রতি দুই মাস অন্তর একটি সবার করতে হবে কোরআন পূরণে তিনজন সদস্য আবশ্যিক ভাবে উপস্থিত থাকাতে হবে।

ব্যবস্থাপনা কমিটি যে সমস্ত কাজ করতে হবে

বিধিমালা মোতাবেক উপস্থাপনা কমিটি  পাঁচ ধরনের কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে এগুলো হলো

  •  শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ 
  • তাদের বেতন ভাতা নির্ধারণ 
  • শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা 
  • বিদ্যালয়ের আয় ব্যয়ের হিসাব-নিরীক্ষা
  •  বিদ্যালয়ের অবকাঠামো  শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়ন।
     

বিদ্যালয়ের আয় ব্যয় তহবিল যেভাবে সংরক্ষিত থাকবে

বিদ্যালয় নিবন্ধন পেতে হলে বিদ্যালয়ের অবশ্যই সংরক্ষিত সাধারণ নামে দুটি তহবিল থাকবে সংরক্ষিত তহবিলে এলাকা অনুযায়ী স্থায়ী আমানত সঞ্চয়পত্র আকারে থাকতে হবে।

 এর মধ্যে মেট্রোপলিটন এলাকায় ১ লক্ষ্য টাকা  জেলা শহরে ৭৫ হাজার টাকা উপজেলা পৌরসভায় ৫০ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৫০০০ হাজার টাকা ব্যবস্থাপনা কমিটির পূর্ব অনুমোদন ছাড়া এ টাকা তোলা যাবে না।

ছাত্র অনুপাতে শিক্ষক

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী নিবন্ধন পেতেই স্কুলে ছাত্রছাত্রীর  অনুপাতের হারে শিক্ষক হবে ৩০ঃ১। অর্থাৎ প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকতে হবে। আর অনুবাদ পূরণ হলেই কেবলমাত্র জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে শাখা খোলা যাবে স্কুল  পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চলবে। 

বিদ্যালয়ের দিকে অবশ্যই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি থাকতে হবে। অথবা একাধিক ক্যাম্পাস খোলা যাবে না। ইচ্ছামতো টিউশন ফি নির্ধারণ করা যাবে না পূর্ণ ভর্তি বা নবায়নের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুদান আদায় করা যাবে না। তবে সহপাঠ কার্যক্রম বিশেষ সুবিধা উপাধি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য কি আদায় করা যাবে এক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী অভিভাবকদের জানাতে হবে।

স্কুল ভবনের আয়তন হবে যেভাবে

বিদ্যালয়টি ভাড়া কিংবা স্থায়ী ভবনে হোক মহানগর এলাকায় ন্যূনতম ৮ জমি পৌরসভা এলাকায় 12 শতক জমি এবং অন্যান্য এলাকায় ৩০ শতক জমি থাকতে হবে ভবন ও ভূমি ভাড়া নেওয়া যাবে না,

বিধিমালা আগে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সে সমস্ত বিদ্যালয়ের ভূমির পরিমাণ কম হলে সেক্ষেত্রে এ নিয়ম কার্যকর হবে না। বিদ্যালয়  পর্যাপ্ত শ্রেনীকক্ষ প্রধান শিক্ষকের কক্ষ এবং শিক্ষকদের কক্ষ আলাদা ভাবে থাকতে হবে। 

যে সকল পাঠ্যবই পড়াতে হবে ?

বিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এনসিটিবি অনুমোদিত পাঠ্য বই অবশ্যই পড়াতে হবে পাশাপাশি অন্য কোন কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দুটি পাঠ্য বই পড়ানো যাবে। 

ইচ্ছামত পাঠ্য বই পড়ানো যাবে না পাঠ্যবই নির্বাচনে শিশুদের ধারণক্ষমতার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বই নির্বাচনের সময় যেমন দেশের সাংস্কৃতি ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী কিছু না থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। বিভিন্ন ধরনের সহজ শিক্ষা কার্যক্রম থাকতে হবে। 

 ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শিশু সনদের আলোকে শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগার বিশুদ্ধ পানি টয়লেট থাকতে হবে শিক্ষা সফর চিকিৎসা খেলার ব্যবস্থাপনাও উপযুক্ত পরিবেশে রাখতে হবে।

শেষ কথাঃ উপরিক্ত আলোচনা দ্বারা বাংলাদেশের কেজি কিন্ডারগার্ডেন খুব প্রিপারেটরি স্কুলের লাগামহীন ও ব্যাঙের ছাতার মতো যেভাবে আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে তাদেরকে সুসংগঠিত ও সুন্দর পরিচালনা মাধ্যমে দেশের  শিক্ষা ব্যবস্থা আরো ভাল হবে।

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *