সংবাদ সমাচার

দলীল যার অতপর জমি তার

দলীল যার অতপর জমি তার- দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে চালু হলো “দলিল যার অতপর জমি তার” বাক্যটিকে সামনে রেখেই  সংসদে আইন পাস হলো ২০২৩।এখন থেকে কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই অনলাইনের মাধ্যমেই দলিল গৃহিতাগণ সহজে তাদের জমি  ও দলিল সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। নাগরিকদের নিজ নিজ মালিকানাধীন ভুমিতে নিরবিচ্ছিন্ন ভোগ দখল অধিকারগুলো নিশ্চিতকরণ, ভূমি বিষয়ক প্রতারণা ও জ্বালিয়াতির  ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত, প্রতিরোধ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

আর কোন প্রভাবশালী ব্যক্তিগণ জোরজবস্তি করে জমি দখল করতে পারবে না আর এজন্যই থাকতে হবে দলিলসহ প্রয়োজনীয় দস্তাবেজ। দলীল যার অতপর জমি তার- এই বিধান রেখেই আইনটি পাস করা হয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক দলিল যার অতঃপর জমি তার – সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নে প্রদান করা হলো।

সরকারী অনুমতি ছাড়া দলীল ছাড় হবে না।

কোন দলীল সম্পাদিত হওয়ার পরে যদি আইনানুগ কর্তৃত্ব ছাড়া অবৈধভাবে দলীল কোন অংশ কাটা ও ছেড়া পরবির্তন করলে, আবার আংশীক ভাবে কোন দলীল প্রস্তুত করলেও সাজা সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

এছাড়া প্রতারনামূলকভাবে কোন ব্যক্তির দলীল সই ও দলীল পরিবর্তনের জন্য বাধ্য করলে সে ক্ষেত্রেও সাজা সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

সর্ব্বোচ্চ ৭ বছর কারাদন্ড-

আইনটি পাস করার মাধ্যমে যদি কোন ব্যক্তি অন্যের জমি নিজের দখলে রাখতে চায় ভুয়া বা মিথ্যা দলিল তৈরি করে নিজের নামেই বা অন্য কারো জমির অংশ দলিল হস্তান্তর করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখেই আইনটি পাস করা হয়।

জরিপ  ও রেকর্ড হালনাগাদে ভূমি হস্তান্তর অন্য কারো জমি নিজের নামে প্রচার করা অতঃপর ব্যক্তির তথ্য গোপন করা কোন জমির সম্পূর্ণ বা কিছু সংখ্যক আংশিক কারো নামে হস্তান্তর করা ব্যক্তির পরিচয় গোপন করা অতঃপর মিথ্যা বিবরণ সংবলিত দলিলে সই করলে তার সাজা সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। https://daliatista.com

প্রকৃত মালিক ছাড়া দখল করতে পারবেনা।

আইনে বলা হয়েছে সর্বশেষ খতিয়ান বা মালিক তার উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তর বা দখলের উদ্দেশ্যে আইনানুগ ভাবে কোনো সম্পাদিত দলিল আদালতের আদেশের মাধ্যমে কোন মালিকানা  দখলের অধিকারপ্রাপ্ত না হলে কোন ব্যক্তি ওই জমি দখলে রাখতে পারবে না। আর এই অবৈধ দখলের সাদা হবে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

খতিয়ান ও ভূমি উন্নায়ন কর থাকতে হবে

ভূমি আইনে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তির নামে স্টেট অ্যাকুইজিশন এন্ড টিন্যান্সি অ্যাক্টের অধীনে প্রণীত সর্বশেষ খতিয়ান না থাকলে, এবং খতিয়ান হালনাগাত ভূমি উন্নয়ন কর পরিষদ প্রমাণ দেখাতে না পারলে, তিনি ওই জমি বিক্রি, দান, হেবার ঘোষণা, অন্য কোন ভাবে হস্তান্তর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল নিবন্ধন করতে পারবে না।

জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে

আইনে বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি যদি জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কোন আবাধ যোগ্য জমির উপরি  স্তর কাটলে তার সাজা সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদন্ড ও অর্থদণ্ডে দন্ডিত হবে। https://www.jugantor.com

সহায়তা প্রদানে শাস্তি-

আইনে বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি এই আইনে বর্ণিত কোন অপরাধ সংগঠনে সহায়তা ও প্ররোচনা প্রদান করে থাকে তাহলে  মূল অপরাধিকে সমান দন্ডে দন্ডিত করা হবে।

উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

দলীল যার অতপর জমি তার

এই আইনটি পাশের লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রী বলেছেন, সত্য সংরক্ষণ ও শান্তিপূর্ণ  বজায় রাখার লক্ষ্যে ভূমি সংক্রান্ত অপরাধ এবং দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিতকরণের  আইনটি করা হচ্ছে ভূমি বিষয়ক প্রতারণা জালিয়াতের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করণ,প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সরকারি ও সর্বসাধারণের। প্রতিরোধ দমনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা, এবং কিছু অপরাধের দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা মূলত এই আইনটি প্রণয়নের অন্যতম উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য।

প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন

এ আইনে ভূমিতে বেআইনি দখল প্রতিবন্ধকতা স্থাপনা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অবৈধভাবে ভরাটকৃত মাটি, বালু ইত্যাদি অপসারণ করতে এবং ভূমিকে এর আগের প্রকৃতিতে পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সন্নিবেশ করা হয়েছে।

ভূমি সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘ শত্রুতা দূরীকরণ এবং যথাসময়ে জনগণের বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট  মন্ত্রণালয় বিভাগ এবং মাঠ পর্যায়ের মতামত গ্রহণ সহ অংশীজনের মতামত গ্রহণ করে, প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করা হবে।

মাটি ও বালু মহাল ব্যবস্থাপনা আইনের সংশোধন

এ আইনে বলা হয়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষি জমি থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না, এমন বিধান রেখে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের সংশোধন  করা হচ্ছে ।

বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে বালুমাটি তোলা যাবে না যদি তা উর্বর জমি হয় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হয় অথবা কৃষি জমির উর্বরের মাটি হলে পরিবেশ বা জীববৈচিত্রের প্রতি সাধিত হয় অথবা ড্রেজারের মাধ্যমে যদি অন্য কোন কৌশলে বালু বা মাটি উত্তোলন করা হয় ,যাতে করে এই জমিসহ পার্শ্ববর্তী অন্য জমির ধসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৬০ বিঘা জমির বেশি মালিকানা থাকতে পারবে না

ভূমি আইন ২০২৩ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি ৬০ বিঘা জমির বেশি মালিকানা থাকতে পারবে না। এটি ১৯৮৪ সালের ল্যান্ড রিফর্মস অর্ডিন্যান্স রোহিত করে ভূমি সংস্কার আইন করা হচ্ছে।

আইনে বলা হয়েছে কোন ব্যক্তির ৬০ বিঘা প্রিমিত বেশি কৃষি জমির মালিক বা তার পরিবার হস্তান্তর, উত্তরাধিকার দান বা অন্য কোন উপায়ে নতুন কোন কৃষি জমি কিনতে  পারবে না । তবে আর ৮টি ক্ষেত্রে এটি শিথিল থাকবে। 

মোদ্দাকথাঃ উপরিক্ত আইনটি ২০২৩ নামে আখ্যায়িত যা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে থাকবে । আইনে সঠিক প্রয়োগ হলেই এখান থেকে প্রতিটি নাগরিকই সেবা পাবে। অতঃপর অপরাধী চক্রের দৌরাত্বের হার কমে যাবে। এবং সহজেই একজন ব্যক্তি তার নিজের মালিকানাধীন জমি সংরক্ষণ করতে পারবে। আশা করি উপরোক্ত তথ্যগুলো ভালোভাবে অবলোকন করেছেন, আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি সকলকে ধন্যবাদ।

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *