চাকুরী বাজার

প্রবাস জীবন কি আসলে সুখের না কষ্টের জীবন

প্রবাস-জীবন-কি-আসলে-সুখের-প্রবাস জীবর কথাটি শুনলে মনে হয় কতই না সুখের,আসলে এর পিছনে অনেক কষ্ট লুকিয়ে থাকে, আরো অনেক রহস্য। অনেকে জীবনকে ভাল ভাবে পরিচালনা করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়। কেউ স্বপ্ল সময়ের জন্য বিদেশে যায়, আবার কেউ সারাজীবনের জন্য বিদেশে কাটায়। যে যেভাবে থাকুক না কেন তার মনটা সব সময় পড়ে থাকে তার দেশের মাটিতে। বিদেশে কারো জীবন হয়তো সুখের থাকে,আবার এমন অনেক প্রবাসী ভাই বোন আছে তারা অনেক কষ্টের মধ্যে তাদের অতিবাহিত করতে থাকে। সবাই পরিবার ছেড়ে চলে যায় তার পরিবারকে সুখে রাখার জন্য। বাবা,মা সন্তান,স্ত্রী ও আত্নীয় স্বজনকে রেখে শুধু জীবনকে ভালভাবে উপভোগ করার জন্য, তাদের সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে যায় পরিবারকে কিছু দিতে পারলে। তারা শুধু পরিবারকে সাহায্য করে না,তারা দেশের উত্তম নাগরিক রেমিট্যান্স পাঠানোর এক যোদ্ধা যা দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে ভূমিকা রাখে।আজকে আমার আর্টিকেলটিতে আপনাদেরকে প্রবাসী যোদ্ধাদের জীবন সম্পর্কে লিখব,চলুন দেখে নেয়া যাক-

প্রবাসী জীবন কী ?

প্রবাস-জীবন-কি-আসলে-সুখের-সাধারনভাবে যারা দেশের মায়া ও পরিবার পরিজনকে রেখে নিজে ও পরিবারকে ভালভাবে জীবিকা নির্বাহের  জন্য বিদেশে পাড়ি জমায় তারাই হচ্ছে প্রবাসী।

প্রবাস জীবন কেন ?

একটি দেশের যখন কাম্য জনসংখ্যার অধিক হয়,আর যদি দেশের কর্মসংস্থান এর অভাব দেখা দেয় তখন মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য বিদেশে চলে যায়। যদি দেশে পর্যাপ্ত পরিমানে কর্মসংস্থান থাকতো তাহলে কেউ বিদেশে যেত না। নিজের দেশকে উন্নায়নশীল দেশ হিসাবে তাদের ভূমিকা থাকতো।

প্রবাসীরা ত্যাগী হয় কেন ?

যে বিদেশে থাকে মহান ত্যাগী হিসাবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে, দেশের মায়া তার  মা, বাবা,ভাই, বোন, স্ত্রী, সন্তান সকলের মায়া ত্যাগ করে। কারন তারা নিজের সুখ শান্তি ত্যাগ করে পরিবারের কথা ভেবে তারা প্রবাসজীবন বেঁচে নেয়। https://daliatista.com

 প্রবাসে অনিচ্ছা সত্তেও কাজ করতে হয় কেন ?

অনেক প্রবাসী ভাই বোন আছে সকলের মায়া ত্যাগ করে বিদেশে যায়। অনেক সময় তাদের পরিবারের কথা, দেশের কথা, এবং এলাকার কথা ভেবে মন ভীষনভাবে খারাপ হয়। মন খারাপ থাকা সত্তেও তারা পরিবারের কথা ভেবেই কাজ করতে থাকে নিরলস ভাবে।

প্রিয় জনের কাছে শেয়ার করেনা

প্রবাস-জীবন-কি-আসলে-সুখের-প্রবাস জীবনে কি যে কষ্ট সেটা যদি পরিবারের লোক দেখতে পারতো তাহলে হয়তো পরিবার কখনোই চাইতো না তার সন্তান বিদেশে থাকুক। এসব কথা তারা কখনই পরিবারের কাছে শেয়ার করে না।

প্রবাসীরা খারাপ সময় পাড় করে

মনের মধ্যে ইচ্ছা থাকে দেশে চলে যাই এখানে আর ভাল লাগে না,পড়ে আবার চিন্তা করে এত টাকা খরচ করে বিদেশে এসেছি বাড়িতে যেয়ে কি করবো। টাকা বা কিভাবে শোধ করবো  সে ভাবে আমি যদি দেশে যাই তার আপন মানুষ তথা পরিবার তিন বেলার খাবার একবেলাও খেতে পারবে না।সেই চিন্তা করতে করতে সময় অতিবাহিত করে।

প্রবাস-জীবন-কি-আসলে-সুখের-একজন প্রবাসী শত কষ্ট হওয়ার পরও তার দেশের মানুষগুলো যেন ভালভাবে খাকতে পারে,সেই চিন্তায় থাকে। নিজের সকল সুখ বিসর্জন দিয়ে শুধু পরিবারের ভাল থাকার জন্য তারা কষ্ট চালিয়ে যায়।

এক এক প্রবাসীর এক এক দুঃখ

একজন মানুষ যখন তার সকল সম্বল বিক্রি করে দেশের মায়া ত্যাগ করে বিদেশে যায় ভাল কিছু কাজ জরার জন্য।কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে অনেক কষ্ট হয়।

প্রবাসীরা কখন সবচেয়ে বেশি ত্যাগী হয় ?

প্রবাস-জীবন-কি-আসলে-সুখের-একজন প্রবাসীর আপনজন এই র্পথিবী ছেড়ে চলে যায় তখন তার দিন রাত থাকে না। সে চায় দেশে এসে আপজনের মুখটি দেখার জন্য মন ব্যয়াকুল থাকে। কিন্তু কোন উপায় থাকেনা। এজন্য প্রবাসীরা ইচ্ছা থাকা সত্তেও দেশে আসতে পারেনা।

প্রবাসীদের ভাষাগত সমস্যা

একজন মানুষ যখন জীবিকা নির্বাহের জন্য বিদেশে পাড়ি জমায় তখন তার কোন ধরনের ভাষাগত জ্ঞান থাকে না,যদিও বর্তমানে অনেক লোক ভাষাগত দক্ষতা নিয়ে বিদেশে যায়। ভাষাগত সমস্যার কারনে প্রবাসীর জীবন অনেক দূর্বিসহ হয়ে জীবন যাপন করে থাকে।

প্রবাস-জীবন-কি-আসলে-সুখের

প্রবাসীদের থাকার সমস্যা

অনেক সময় দেখা যায় তাদের স্বাস্থের মারাত্নক সমস্যা দেখা যায়,কারন আমরা যারা দেশে আরাম আয়েশে জীবন অতিবাহিত করে থাকি। কিন্তু বিদেশে সে রকম কোন ধরনের বিছানার সুযোগ থাকেনা। যার কারনে তাদের অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা যায়।

প্রবাসীরা দেশের কী ?

প্রবাসীরা হচ্ছে “আলোর প্রদীপ” একটি ঘরকে উজ্বল করতে একটা প্রদ্বীপ যেমন আলো দিয়ে ঘরকে আলোকিত করে তেমনী একজন প্রবাসী যোদ্ধা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে দারুন ভাবে কাজ করে। অনেকে অবহেলা করে বলে যে প্রবাসীরা দেশের কিছুই করতে পারেনা। তাদের সুখের জন্য দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। আসলে তারা আমাদের দেশের জনগনের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে অগ্রনি ভূমিকা পালন করে। 

প্রবাসীরা নিজ দেশের জন্য আসলে কী ?

একজন প্রবাসী দেশে যখন আসে, অতপর পরিবার পরিজন বাবা-মা ভাই, বোন, আত্নীয় স্বজন ,বন্ধু বান্ধব, এবং তার চেনা মানুষগুলোকে দেখে তার প্রবাস জীবনের সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে সে আনন্দ উপভোগ করতে থাকে। 

এবং তার সকল ক্লান্তি দুর হয়ে যায়। কারন প্রত্যেক প্রবাসীর ভাবনা দেশে কিছু নিয়ে আসতে হবে না হলে আমাকে খালি হাতে থাকতে হবে। সেই ভাবনা নিয়ে কাজ করে থাকে। 

অনেক প্রবাসী ভাই বোন আছে তারা যদি টাকা পাঠাতে না পারে তাহলে তারা দেশ ত্যাগ করে না।অনেক প্রবাসী বিদেশে তাদের মৃত্য পর্যন্ত হয়। তারপর তারা আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যায় এবং দেশের জনগনের কথা ভাবে। যা আমরা কখনই তাদের অবদানের কথা ভাবি না।

প্রবাসীরা নিজ পরিবারের পর পরই যে চিন্তা সে টা হলো নিজ দেশের কথা দেশের মানুষ কেমন আছে ,দেশে কি রকম গরম,ঠান্ডা,দেশের আবাদ কেমন হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি চিন্তা তাদের সবসময়। https://www.google.com

আমার দেশের মানুষ যেন সুখে থাকে এসব নিয়ে তার প্রবাস জীবন অতিবাহিত করে থাকে।দেশের মধ্যে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করে তখন প্রবাসীরা ভয়ে থাকে।

 আমি দেশে নাই আমার পরিবার কেমন করে থাকবে, আমার সন্তান যেন কোন দিকে না যায় সার্বক্ষনিক চিন্তা নিয়ে কাজ করে।আমরা দেশে থেকে যতটুকু দেশত্ববোধ আমাদের কাছে থাকে, তার চেয়ে হাজার গুন বেশি দেশত্ববোধ থাকে একজন প্রবাসীর মনে।

প্রবাসীদের চিন্তা ভাবনা কেমন ?

একজন মানুষ যখন দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায় তার নিজের চিন্তা যতটুকু তার চেয়ে হাজারগুণ চিন্তা আছে তার পরিবার নিয়ে সে দেশ ত্যাগ করে। তার ভাবনা হচ্ছে আমার দেশের মানুষজন আমার পরিবার আমার বাবা-মা আত্মীয় স্বজন স্ত্রী সন্তান যেন সুখে দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে সেই আশা নিয়েই প্রবাসীরা তাদের কষ্ট অর্জিত টাকা দেশে পাঠায়। 

কেননা তারা নিজের কথা না ভেবে তার পরিবার তার দেশ তার দেশের জনগণ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তারা নিরলস পরিশ্রম করে থাকেন। যা  একটি দেশ তাদের ঋণ কখনোই পরিশোধ করতে পারবো না।

দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক কেমন ?

প্রবাসীরা  তাদের মনের ভিতর কষ্ট ও বুকের মধ্যে সব সময় বাজতে থাকে এবং বিবেক বলতে থাকে এটা তোমার দেশ নয়, এটা তোমার দেশ নয়,তোমার দেশ বাংলাদেশ।

শেষ কথাঃ আজকে আমার এই আর্টিকেলটিতে প্রবাসীদের জীবন, জীবিকা, দুঃখ কষ্ট আনন্দ তাদের চিন্তাভাবনা পরিবার দেশ সবকিছু বিষয়ের উপরে উপস্থাপন করা হলো একজন প্রবাসী ভাই ও বোন তাদের দেশের যে অবদান সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। আশা করি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধু-বান্ধবের কাছে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ আপনাদেরকে সুস্থ ,নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখুক। আল্লাহ হাফেজ। 

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *