স্বাস্থ্য

প্রিয় খাবার সেটা যদি হয় হযরত মুহম্মদ সাঃ এর প্রিয় ১০ টি খাদ্য তালিকাঃ-

প্রিয়-খাবার-সেটা-যদি-হয়-প্রিয় খাবার কে না খেতে চায় তার পছন্দের খাবারটি এবং সে খাবারটি যদি স্বাস্থ্যসম্মত হয় তাহলে অবশ্যই আমরা সেই খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকি নিয়ে আমরা খেতে পছন্দ করি।  আজ থেকে প্রায় ১৫শ বছর আগে  আমাদের নবীজি  তার দৈনন্দিন জীবনে যে সমস্ত খাদ্য খেতেন  সেই সমস্ত খাদ্য নিয়ে বর্তমান যুগে বড় বড় বিজ্ঞানীরা  সুস্বাস্থ্যের যে সমস্ত গুনাগুন এবং পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ সেইসময়ের  খাদ্য নিয়েই  তারা গবেষণার চালাচ্ছে –  প্রিয় খাবারের মধ্যে  রয়েছে আঙ্গুর, খেজুর, মধু, দুধ, ডালিম, পানি, তরমুজ, মাশরুম ইত্যাদি আজকে আমার এই আর্টিকেলটিতে প্রিয় খাবার সম্পর্কে এবং সেটা যদি হয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু এর প্রিয় খাদ্য তালিকা থেকেই আজকের এই কনটেন্টি লেখা। 

 প্রিয় খাবার ?

প্রিয় খাবার হচ্ছে সেই খাদ্য যা খেলে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক শরীর ও মন উভয় সতেজ রাখে সেটাই হচ্ছে প্রিয় খাদ্য।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর প্রিয় ১০ টি  খাবারের তালিকাঃ

১। দুধঃ দুধ হচ্ছে এমন একটি আদর্শ খাদ্য যা দুধের মধ্যে রয়েছে সবগুলো পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। বিজ্ঞানের আবির্ভাব যখন এই পৃথিবীতে আসেনি কিন্তু ঠিক  আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ দুধ সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।   দুধ হচ্ছে  একজন মানুষের হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। একজন শিশু যখন দুগ্ধ পান করে তার মস্তিষ্ক যেমন হয় ঠিক তেমনি তার দৃষ্টিশক্তি স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রহর হয়। তাই দুধ খাওয়ার কোন বিকল্প নাই।

২। খেজুরঃ খেজুর হচ্ছে একটি উৎকৃষ্ট মানের খাদ্য খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে, ফাইবার ভিটামিন, খেজুরের মধ্যে রয়েছে খনিজ লবনের উপাদান যার শরীরকে সতেজ রাখতে সহ ভূমিকা পালন করে। https://daliatista.com

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন, যে বাড়িতে কোন খেজুর নেই সে বাড়িতে কোন খাবার নেই। কাজেই খেজুরের মধ্যে রয়েছে অ্যামাইনো এসিড হজম শক্তিতে মারাত্মকভাবে কাজ করে।

প্রিয়-খাবার-সেটা-যদি-হয়

৩। পানিঃ প্রিয়-খাবার-সেটা-যদি-হয়-আমরা জানি পানির অপর নাম জীবন। আমাদের শরীরে পানি না থাকলে আমাদের শরীর যেমন শেষ হয়ে যায় ঠিক তেমনি ভাবে আমাদের শরীরের যে সমস্ত চাওয়া সেগুলো অপূর্ণ থেকে যায়।

তাই আমাদের খাদ্যের প্রধান হচ্ছে পানি।  পানি যেমন আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করে ঠিক তেমনি ভাবে মানব শরীরে নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে।  এবং যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য গ্যাস আছে সহজে, এমনকি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে তক উজ্জ্বল থাকে, সকালে যদি খালি পেটে পানি পান করার অভ্যাস থাকে তাহলে একজন মানুষের শরীর ও মন উভয় সতেজ থাকে।

৪। মধুঃ প্রিয় খাদ্য তালিকায় আমাদের হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম মধুকে একটি  প্রিয়  খাদ্য বলে বিবেচিত করেছেন। মধুতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি ভেষজ গুনাগুন রয়েছে। আবার মধুকে মানব শরীরের সেরা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয় থাকে। কারো যদি ডায়রিয়া হয় তাহলে মধুর সাথে হালকা গরম পানি মিশিয়ে পান করলে ডায়রিয়া রোগ সেরে যায়।

প্রিয়-খাবার-সেটা-যদি-হয়-তাছাড়া মধুতে রুচি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে মানব শরীরের পাকস্থলীর যে কোন সমস্যা নিরসন করতে এবং কি চুলের রুক্ষতা এবং অকালপক্কতা দূর করতে মধুর বিকল্প নাই।  এমনকি বাড়তি ওজন কমাতে অত্যান্ত উপকারী। পুরুষদের যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে মধু একটি আদর্শ প্রক্রিয়া।

৫। আঙ্গুর ফলঃ আমাদের প্রিয় নবী আঙ্গুর ফল খেতে খুব ভালবাসতেন। এটি পবিত্র কুরআনে 11 নম্বর আয়াতে আঙ্গুরের কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ আঙ্গুরে আছে পরিমাণে  শক্তি সম্পন্ন সঞ্চয় যা আঙ্গুর খেলে শরীরে,তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য শক্তি উৎপন্ন হবে।  আঙ্গুর মানব শরীরের জন্য কিডনির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৬। তরমুজঃ প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় যদি তরমুজ খেতে পারেন তাহলে স্বার্থের জন্য অত্যন্ত উপকারী।  আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম  প্রতিদিনে খাদ্য তালিকায় তরমুজ রাখতেন।  নবী করীম সাঃ মহিলাদের তরমুজ খেতে পরামর্শ দিতেন। 

কারণ মহিলারা সন্তান প্রসবের সহজ  কার্যকারী ভূমিকা পালন করে, এছাড়াও শরীরের পানি সল্পতা দূর করে এবং মানব শরীরের পোস্টের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে বিশেষ ধরনের কার্যকারী তরমুজ।

৭। ডালিম/বেদনাঃ ডালিম ও  বেদনা হচ্ছে মানব শরীরের জন্য পুষ্টিগুণে ভরপুর এ ফলটি।  হযরত মুহাম্মদ সাঃ ডালিম ও বেদনা খেতে বলেছেন মানবজাতিকে কারণ  এই ফল খাওয়ার প্রহলে শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে মানুষকে দূরে রাখে। 

ডালিম ও বেদনায় রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে কোলেস্ট্রল ঝুঁকি কমায়, মানব শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় স্মৃতিশক্তিতে  শক্তি বাড়ায়, মহিলাদের স্তন ক্যান্সার  প্রতিরোধ করতে জালিম ও বেদনার ভূমিকা নাই।

৮। জলপাই তেলঃ   জলপাইয়ের তেল যেটা আমরা  অলিভ অয়েল বলে জানি। এই অলিভ অয়েল  তেলে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা মানব শরীরের  ত্বক চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাছাড়াও মানব শরীরের পাকস্থলীতে  প্রদাহ নিরাময় করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৯। মাশরুমঃ প্রিয়-খাবার-সেটা-যদি-হয়-প্রিয় খাদ্যে  আমাদের মাশরুম খাওয়া অত্যন্ত দরকারি।  আমাদের নবী সাঃ মাশরুম খেতে বলেছেন, কারণ এতে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টি উপাদান।মাশরুম খেলে চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

মাশরুমে  জন্মনিয়ন্ত্রণ হিসেবে কাজ করে থাকে। মাশরুম মানব শরীরের প্যারালাইসিস হওয়া থেকে মুক্ত রাখে । মাশরুম খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে, মাশরুম ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করতে মারাত্মকভাবে কাজ করে। https://www.google.com

১০। ভিনেগারঃ ভিনেগারে  যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য গুনে ভরপুর  এবং ভেষজ প্রক্রিয়া। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম  ভিনেগারের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।  কারণ বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে  অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য  অলিভ ওয়েল এবং ভিনেগার মিশিয়ে বিভিন্ন খাদ্য পরিবেশন করা হয়।

সমাপনীঃ প্রিয়-খাবার-সেটা-যদি-হয়- প্রিয় খাবার সম্পর্কে  আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর ১০টি খাদ্য তালিকা আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করা হলো আশা করি আপনারা সহজেই  এ ১০ টি খাদ্য  খেতে পারলে আপনি যেমন নিজেও সুস্থ বোধ করবেন ঠিক তেমনি ভাবে আপনার ইসলামী শরীয়া মোতাবেক আপনার শরীর ও মন প্রশান্তি লাভ করবে। আজকের মত এখানেই শেষ করছি সবাই সুস্থ থাকবেন এবং স্বাভাবিক থাকবেন সবাইকে ধন্যবাদ আমার এই কনটেন্টটি  পড়ার জন্য আল্লাহ হাফেজ।

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *