চিত্র বিনোদন

বাংলাদেশের এযাবৎ কালের সেরা ১০ টি সিনেমা

বাংলাদেশের  এযাবৎকালের শ্রেষ্ঠ দশটি সিনেমা সম্পর্কে আমি আপনাদেরকে অবগত করব আমার এই কন্টেইনটিতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, চলচ্চিত্র,টেলিভিশন ও ব্রিটিশ ফিল্ম  ইনস্টিটিউট ও দাতব্য সংস্থা নিয়ে একটি গবেষনা করে ২০২২ সালে দর্শক ও সমালোচকের ভোটের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সেরা ১০ টি চলচ্চিত্রর তালিকা তৈরী করে তারে ধারাবাহিকতায় আপনাদেরকে অবগত করবো। বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের বাংলাদেশের সেরা ১০ টি চলচিত্র বা সিনেমা যা আমরা বাংলাদেশের জনগণ কালজয়ী সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা হিসেবে পরিচিত আশা করি আপনাদের এই সমস্ত সিনেমা কল্পকাহিনী সম্পর্কে জানলে উপকৃত হবেন। তবে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন দেখে নেয়া যাক সেরা ১০ সিনেমা 

 ১। তিতাস  একটি নদীর নাম  (১৯৭৩)

এটি মূলত ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট একটি জরিপ করে দশটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের তালিকার মধ্যে এটি অন্যতম একটি সিনেমা এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন ওপার বাংলার কিংবদন্তি পরিচালক ঋত্বিক ঘটক। রিত্তিক ঘটকের জন্মস্থান হচ্ছে পুরান ঢাকায় ঋষিকেশ দাস লেনে। তিনি ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর তার পরিবার পরিজন কলকাতায় চলে যায় এবং সেখানে বসবাস করতে থাকে।

বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেও তার বাংলাদেশের কথা বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার বাংলাদেশের ঐতিহ্যতার মনে বারবার দোলা দেয় বিশেষ করে দেশ ত্যাগে তার ভিতরে যে মর্মান্তিক বেদনা সেটা সে কখনোই ভুলতে পারেননি।তাই ওনার সকল সৃষ্টিকর্মে দেখা দেয় এপার ওপার বাংলার আলাদা হওয়ার যে সমস্ত বাস্তুহারা মানুষ অসহায় অসহনীয় কষ্টের যে সমস্ত দৃশ্য ওনার চোখে অবলোকন হয়েছে সেগুলো সে কখনোই ভুলতে পারে না।

বাঙালি জাতির ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নাম ধরে এই নামে উনি একটি চলচিত্র উপযোগী করে নির্মিত হয়েছে সেই  বহুল আলোচিত   সিনেমাটি। https://daliatista.com

এই সিনেমায় যে সমস্ত তারকা অভিনয় তার মধ্যে- 

  • ফখরুল হাসান
  •  বৈরাগী 
  • নারায়ণ চক্রবর্তী
  •  কোবরী চৌধুরী 
  • রওশন জামিল
  •  প্রবীর মিত্র 
  • গোলাম মোস্তফা 
  • রুজি সামাদ
  •  রানী সরকার 
  • ও আরো অনেকে

এই ছবিটির গল্পে দেখা যায় একটি গ্রামে একটি কিশোর নামের এক জেলের নাটকীয়ভাবে এক তরুণী মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়। অথবা বিয়ের রাতেই নৌকা থেকে কিশোরী বউকে ডাকাতেরা তুলে নিয়ে যায়। অতঃপর সময় সুযোগ বুঝে তরুণী ডাকাত দলের নৌকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে এবং জীবন বাঁচায় এবং কাছের একটি গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

তবে আশ্চর্যের বিষয় স্বামী সম্পর্কে সে কিছু জানে না সে কেবলমাত্র তার স্বামীর গ্রামের নাম বলতে পারে। এভাবে চলতে থাকে কিছুদিন পরে কিছুদিন গর্ভে জন্ম নেতার সন্তান। সেই সন্তানের বয়স যখন ১০ বছর পর স্বামীর  সন্ধানে নদীতে সন্তানকে নিয়ে তার স্বামীর গ্রামে বাড়িতে পাড়ি জমায় তাকে খোঁজার জন্য। সেই গ্রামে মেয়েটির সাথে বাসন্তী নামে এক বিধবার সাথে তার পরিচয় হয়।

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

এভাবেই গল্প চলতে থাকে। পরিচালক ঋত্বিক ঘটককেও মাঝি চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে চলচ্চিত্রটি সাক্ষী হতে হলে আপনাকে অবশ্যই দেখতে হবে হাবিবুর রহমান খান প্রযোজিত এই সিনেমাটি।

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

২। বেদের মেয়ে জোসনা (১৯৮৯)

বাংলাদেশে এই সিনেমাটির নাম শোনেননি এমন লোকের সংখ্যা খুব কম আছে। “বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে আসি আসি বলে জোসনা ফাঁকি দিয়েছে” গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য বাংলার গ্রাম শহর প্রান্তে ছবিটি মুক্তি  পাওয়ার পর কয়েক দশক ধরে বারবার এই সিনেমাটি প্রদর্শিত করা হয়েছে। আর এই সিনেমার গানটি উচ্চারিত হয়েছে বাংলার আকাশে বাতাসে অসংখ্যবার।

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

এই ছবিটির পরিচালক হচ্ছেন তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত বেদের মেয়ে জোসনা। এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৮৯ সালে। এই  সিনেমা মাটিতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও অঞ্জু ঘোষ ।এই ছবিটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ব্যবসা সফল সিনেমা।

এই ছবিটিতে মূল কাহিনীতে রয়েছে বঙ্গরাজের এক পরগনার কাজী সাহেবের একমাত্র ভাগ্য তারই তো মেয়ে জোসনা যে কালের পরিক্রমায় বেদিনী হয়ে যায়। এবং রাজকুমার আনোয়ারের সাথে তার প্রেম বিনিময় হয়ে ভালোবাসা হয়ে যায়।বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

আর এই ভালোবাসা কে কেন্দ্র করে রাজকুমার বেদের মেয়ে জোসনার অনেক বেদনাদায়ক সময় অতিবাহিত করার পরে সর্বশেষ বঙ্গ রাজ্যের রাজকন্যা হিসেবে পরিচিতি আনোয়ার  ও বেদের মেয়ে জোসনার মিলন ঘটে। বেদের মেয়ে জোসনার এর সাফল্য ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একে পূর্ণ নির্মাণ করে মুক্তি দেওয়া হয় যার মূল চরিত্রে অভিনয় করেন চিরঞ্জিত ও অঞ্জু ঘোষ।

৩। সূর্য দীঘল বাড়ি (১৯৭৯)

এই চলচ্চিত্রটি বিশিষ্ট গ্রন্থাগার আবু ইসহাক ১৯৫৫ সালে প্রকাশ করেন সেই কালজয়ী উপন্যাস যার নাম ছিল “সূর্য দীঘল বাড়ি”  এটি মূলত ১৯৭৯ সালে এর কাহিনী অবলম্বন করে একই নামে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেন যৌথভাবে মহিষ উদ্দিন সাকের ও নিয়ামত আলী এর চিত্রগ্রহণ করেন বরেন্য।

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

এই সিনেমাটিতে আলোক চিত্র চিত্রনায়ক আনোয়ার হোসেন, বাংলা ১৩৫০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অভিভক্ত ভারতের বাংলায় পঞ্চাশের আকাল নামে যে দুর্ভিক্ষ শুরু হয় তারই উপরে ভিত্তি করে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। এখানে স্বামী পরিত্যক্ত জয়গুনের জীবন সংগ্রামের গল্প ফুটে উঠেছে এই সিনেমাটিতে। অভিনয় করেছেন যারা-

  • ডলি আনোয়ার
  •  রওশন জামিল
  •  এটিএম শামসুজ্জামান
  •  সৈয়দ হাসান ইমাম
  •  ফখরুল হাসান বৈরাগী
  •  শিশু শিল্পী ইলোরা গহর 
  • সহ আরো প্রমুখ

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন আলাউদ্দিন আলী। এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও পরিচালক সহমত আটটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে সূর্যদিঘল বাড়ি এই সিনেমাটিতে।এই সিনেমাটিতে বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। 

৪। চিত্রা নদীর পাড়ে (১৯৯৯)

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

এই চলচ্চিত্রটি চিত্রা নদীর পাড়ে সিনেমার প্রেক্ষাপট 1947 সাল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশের বর্তমান জেলা নড়াইল। এটি শশীভূষণ সেনগুপ্ত নামের একজন উকিল মমতাজ উদ্দিন আহমেদ থাকতেন তার বিধবা এক বোনের অনু প্রভা( রওশন-জামিল) অথবা দুটি ছোট ছেলে মেয়ে মিনতি ও বিদ্যুৎ কে নিয়েই সেখানে তার বসবাস ছিল। এই বাড়ির পাশেই বয়ে চলা নদী চিত্রা।

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান থেকে যে সমস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দেশ ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এ অবস্থায় শশীভূষণের উপরে মারাত্মকভাবে  চাপ শুরু করে  কিন্তু তিনি তার বাবা-মায়ের দাদার ভিটা ছেড়ে পর দেশে পাড়ি না জমানার সিদ্ধান্তে অটোর ভূমিকায় অবস্থান নিয়েছিলেন। হিন্দু এবং মুসলিমদের দাঙ্গায় অবশেষে কে জয়ী হয় এর উত্তর মিলে এই সিনেমাটিতে। 

সেইসময়ের প্রধান চরিত্রসমূহের স্বভাবজাত পাগল স্বভাবের ধাছের মঞ্চ কাঁপানো  শ্রেষ্ঠ অভিনেতা মমতাজ উদ্দিন আহমেদের নির্লোক্ত অভিনয় ছিল দেখার মতো একটি দৃশ্য।  এখানে সাথে এক পশলা বৃষ্টির মত ছবিতে স্নিগ্ধ তা ছড়াতে তৌকির আহমেদ ও বিশেষত আফসানা মিমি। এই সিনেমাটি আপনি দেখতে পারলে আপনি অনায়াসে আপনার মস্তিষ্ককে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে সেই সময়ের দেশভাগের সময়কালের ঘটনা সমূহ।

৫। নদীর নাম মধুমতি (১৯৯৪)

এই ছবিটি পরিচালক হচ্ছেন তানভীর মোকাম্মেল নির্মিত আরেকটি নির্মিত সিনেমা নদীর নাম মধুমতি এটি মুক্তি পায় 1994 সালে। এটি মূলত নদীর নাম মধুমতির নামকরণ ধরেই ছবিটি নির্মিত হয়েছিল সেই সময়ের কালে।

 এই ছবিতে অভিনয় করেছেন যে সমস্ত অভিনেতা ও অভিনেত্রী-

  • তৌকির আহমেদ 
  • আলী জাকের
  •  রাইসুল ইসলাম আসাদ
  •  সারা জাকের
  •  আফসানা মিমি
  •   আরো অনেকে 

এই সিনেমাটিতে মূল কাহিনীটি দেখা যায় স্থানীয় এক মুসলিম লীগ নেতা মোতালেব মোল্লাকে যেখানে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে সে বিয়ে করে। সেই স্ত্রীর প্রথম ঘরের সন্তান বাচ্চু ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল সেখানে সে যুদ্ধে যোগ দেন। আর অপরদিকে মোতালেব যোগ দেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে। এই সিনেমাটিতে বাবা ও সৎ ছেলের দ্বন্দ্বের কাহিনী দেখানো হয়। https://www.google.com

চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিচালনা করেন, সৈয়দ সাবাব আলী অরজু। আসলে আপনি এই সিনেমাটি দেখতে পারলে আপনি সহজেই ১৯৭১ সালের যে রক্ত যুদ্ধ হয়েছিল পাকিস্তান বা হিন্দী সাথে সহজে আপনি সেই সময়ের ঘটনাকে প্রভাবিত করবে।

৬। সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭)

 এই সিনেমাটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র কার আলমগীর কবিরের নাম আমরা অনেকেই শুনেছি। এই চলচ্চিত্র ব্রাহ্মণ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের পর তিনি পূর্ণ দীর্ঘ চলচ্চিত্রে নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ১৯৭৭ সালে নির্মিত তার সিনেমা “সীমানা পেরিয়ে” এটি আলমগীর কবি নির্মিত অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র একটি সিনেমা।

১৯৭০ সালে এ দেশে ঘটে যাওয়া যে সমস্ত ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস এরপরে বরিশালের একটি চড়ে একজোড়া মানব মানবিকে আদিম পরিস্থিতিতে এরকম বেঁচে থাকতে দেখা গিয়েছিল এই ঘটনাটি এই চলচ্চিত্রটিতে উপজীব্য মূল বিষয়।  এই ছবিটি সম্পর্কে পরিচালক নিজেই জানিয়েছেন, সেই সময়ের ব্যবসায়ী পুজির চাপে ছবিটির বক্তব্য ও গতি কিছুটা ছিন্ন ভিন্ন হয়েছিল, তারপরেও সেটি থেমে থাকেনি। এই ছবিটিতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করছেন ,বুলবুল আহমেদ ও জয়শ্রী কবির।

এই ছবিটি সম্পর্কে একটু তথ্য দিয়ে রাখি  সত্যজিৎ রায় এর ছবি প্রতিদ্বন্দ্বী দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা অভিনেত্রী জয়শ্রী রায়, সূর্যকন্যা নামে এই ছবিটিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তিনি অভিনয় করার জন্য  এদেশে আসেন।পরবর্তীতে পরিচালক  আলমগীর কবিরের সঙ্গে সম্পর্ক বেঁধে এদেশে থেকে যান।

 ভূপেন হাজারিকা এবং আবিদা সুলতানার কণ্ঠে গাওয়া ছবিটির গান বিমূর্ত একটি রাত্রি আমার কিংবা মেঘ থমথম করে গানগুলো এখনো আগের মতো জনপ্রিয় হয়ে আদি অনন্তকাল চলতেই থাকবে আশা করি  অনেক  কিছু সহজেই শিখতে পারবেন।

৭। ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩)

এই ছবিটি গুণী পরিচালক আলমগীর কোভিদ নির্মিত একটি  পুণ্য দীর্ঘ চলচ্চিত্র  ধীরে বহে মেঘনা নামে ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে।  এই সিনেমাটি প্রথমদিকে চলচ্চিত্রটির মূল পরিকল্পনা করেছিলেন নির্মাতা জহির রায়হান তবে এরপরে ছবিটি ব্যাপকভাবে নির্মাণ করেন আলমগীর কোবির। এই সিনেমাটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি পটভূমি নির্মিত হয় চলচ্চিত্রটি এই চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন যারা-

  •  বুলবুল আহমেদ
  •  ববিতা
  •  গোলাম মোস্তফা 
  • আনোয়ার হোসেন
  •  খলিলুল্লাহ খান
  •  আরো অনেকে

এই ছবিটির  সংগীত রচনা করেছেন, মোঃ মনিরুজ্জামান ও সুর করেছেন সমর দাস সংগীত পরিচালনা করেছেন সত্য সাহা। এই ছবিটিতে ব্যবহৃত গানে কন্ঠ দিয়েছিলেন শেখালেন জনপ্রিয় শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।

৮। রূপালী সৈকতে ১৯৭৯

বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে এই ছবিটি মুক্তি পাওয়া রুপালি সৈকত চলচ্চিত্রটির পরিচালক হচ্ছেন আলমগীর কবিরের জীবনের অন্যতম সেরা কাজ বলে অভিহিত  করেছেন বিশিষ্টজনেরা। জানা যায় এই চলচ্চিত্রটিতে পরিচালক তার নিজের জীবনে যে সমস্ত ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনা সমূহ অবলম্বন করে তৈরি করা হয়েছিল এই চলচ্চিত্রটি। এই চলচ্চিত্রটিতে যে সমস্ত শিল্পী অভিনয় করেছেন, 

  • বুলবুল আহমেদ
  •  জয়শ্রী কোবির
  •  আনোয়ার হোসেন
  •  শর্মিলী আহাম্মেদ
  •  অঞ্জন রহমান 
  •  আরো অনেকে

এই সিনেমাটি বৃটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের তালিকায় বাংলাদেশের সেরা ১০ টি চলচ্চিত্রের তালিকায় অষ্টম স্থান অধিকার করেছে।। এটি মূলত রূপালী সৈকতে চলচ্চিত্রটি আইওব খানের এই সময়ের স্বৈরশাসনের কারাবরণকারী এবং অগণিত যে সমস্ত দেশপ্রেমিক দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা করেছিল তাদের অবলম্বনেই এই ছবিটি নির্মিত হয়েছিল।

আসলে একজন দেশ প্রেমিক দেশের জন্য যারা জীবন যৌবন বিসর্জন দিয়ে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আপনি এই সিনেমাটি দেখলে অবশ্যই আপনার মনের ভিতর দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।

৯। শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯ সাল)

 এই চলচ্চিত্রটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের তালিকায় জনপ্রিয় উপন্যাসিক চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের নির্মিত একটি চলচ্চিত্র। যা শ্রাবণ মেঘের দিন নামে ছবিটি মুক্তি পায় 1999 সালে।এই ছবিটিতে যে সমস্ত অভিনেতা অভিনয় করেছেন 

  • জাহিদ হাসান
  •  শাওন
  •  মাহফুজ আহমেদ
  •  আনোয়ারা 
  • মুক্তি
  •  গোলাম মোস্তফা
  •  সালেহ আহমেদ
  •  এবং ডাক্তার রেজাস
  • আরো অনেকে- 

এই ছবিটিতে  গ্রাম্য গায়ক মতি, গ্রামের মেয়ে কুসুম তারা গ্রামের একটি জমিদারের নাতনি শাহানা এবং কুসুমের পানি প্রার্থী উদ্যোগ চতুর্ভুজ একটু প্রেমের গল্প ফুটে উঠেছে এই সিনেমাটিতে।

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

এই ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেন মুকসুদ জামিল মিন্টু গায়ক কন্ঠে গাওয়া সেই গানটি শুয়া চান পাখি সে সময়ের তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২৪তম আসরে সাতটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।  এই সিনেমাটি দেখলে আপনি সহজেই আপনার মনের ভিতরে আবেগাপ্লুত হয়ে আপনার মনকে শান্ত হয়ে বিনোদন নিতে পারবেন।

১০। সাত ভাই চম্পা ( ১৯৬৮ সাল )

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান একটি প্রাপ্ত একটি সঙ্গীত বহুল চলচ্চিত্র “সাত ভাই চম্পা” যা ১৯৬৮ সালে মুক্তি পায়।বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় রূপকার গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। এই ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রটি সিনেমাটি পরিচালনা করেন, এবং চিত্রনাট্য সংলাপ লেখেন আতাউর রহমান এই চলচ্চিত্রটির শেষ অংশে রয়েছেন আজিম, কবরী, আনোয়ার হোসেন, খান আতাউর রহমান ও রবিউল। এই সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেন, ছবিটি মোট ১৫ টি গান ব্যবহৃত হয়েছে। মাটি আপনি দেখতে পাইলে অবশ্যই আপনার মন হয়ে যাবে। 

বাংলাদেশের-এযাবৎ-কালের

শেষ কথাঃ আমার জানা মতে আমার জানা মতে বাংলাদেশের শ্রেষ্ট চলচিত্র সিনেমা। যা এই সমস্ত সিনেমা দেখতে পারলে মন জুড়িয়ে যাবে। সকলকে একবার হলেও দেখার আমন্ত্রন জানিয়ে শেষ করছি।

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *