স্বাস্থ্য

শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো সময় যে সব খাদ্য খাবেন-

 শিশুকে-মায়ের-বুকের-দুধ তাই শিশুর জন্মের পর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়া সবচেয়ে ভালো খাবার। অথবা ৬ মাস বয়স পার হওয়ার পরে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপুরক খাবার হিসেবে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে। শিশুকে মায়ের বুকের দুধ-তাই একটু শিশু সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়ার পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ খাওয়া একান্ত প্রয়োজন। একটি শিশুকে-মায়ের-বুকের-দুধ দুই বছর পর্যন্ত খাওয়ানো দরকার যা আমরা অনেক পরিবার এবং মা শিশুকে সঠিক সময়ে বুকের দুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকি। শিশুকে-মায়ের-বুকের-দুধ অনেকের ভ্রান্ত ধারণা থেকে শিশু বেড়ে ওঠার প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। শিশুকে মায়ের বুকের দুধ-আমরা অনেকে জানিনা মায়ের বুকের দুধের কি ধরনের পুষ্টি গুনাগুন থাকে এবং মায়ের বুকের দুধেই হচ্ছে উৎকৃষ্ট এবং বিশুদ্ধ নিরাপদ খাবার। তাই আজকে আমার এই কন্টিনটিতে একটি শিশুকে-মায়ের-বুকের-দুধ খাওয়ানোর সময় মা যে সমস্ত খাদ্য গ্রহণ করতে পারবেন। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক শিশুকে-মায়ের-বুকের-দুধ – যেসব খাদ্য নিম্নে প্রদান করা হলো।  http://daliatista.com

১।  শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় মা অন্তত এক /দুই গ্লাস পানি অথবা দুধ পান করতে হবে

আমরা অনেক মাইকে দেখি শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় এসব চিন্তা চেতনা থেকে অনেক দূরে থাকে যত তথ্য সন্তানকে দুগ্ধ পান করে থাকেন।তাহলে সহজে তার শিশুটি বুকের দুধে আত্নতৃপ্তি হয়ে খেতে পারবে।এছাড়াও তরল জাতীয় খাবার যেমন দুধ, ফলের রস, স্যুপ, রসালো ফল ও পানি সমৃদ্ধ সবজি খেতে পারেন। এইসব নিয়ম মেনে চললেই দেখবেন একটি শিশু তার সুস্বাস্থ্য ও সুঠাম দেহের অধিকারী বয়ে নিয়ে আসবে।

 ২। শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় দুগ্ধ জাতীয় খাবার খেতে হবে

শিশুকে-মায়ের-বুকের-দুধ- মা তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় দুগ্ধ জাতীয় খাবার যেমন মাছ-মাংস দুর ডিম ডাল জাতীয় খাবার নিয়মিত খেতে হবে।  একজন মা তার সন্তানকে দুধ দেওয়ার সময় তার শরীরে ক্লান্তি আসে।

এর কোন বিকল্প নেই। দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য খাওয়ার ফলে মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্য সঠিক মাত্রায় বজায় রাখতে সয়া ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে রয়েছে প্রোটিন ফ্যাটি অ্যাসিড ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি ছাড়াও আরো অন্যান্য পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার পূরণ করতে হবে।  তাই এ সকল দুগ্ধ জাতীয় খাবারের ফলে একজন শিশু সহজেই তার জীবন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ভূমিকা রাখে।

 ৩। মা ও শিশু উভয় শরীরের জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন

মা ও শিশু উভয় প্রতিদিন কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের আলো বসতে হবে। এভাবে এই কাজটি করতে পারলে সহজেই মা ও শিশু তার শরীরের ভিটামিন ডি ঘাটতি সমূহ সহজে পূরণ করতে পারবে।

শিশুকে-মায়ের-বুকের-দুধ

 ৪। প্রতিদিন গারো সবুজ শাক সবজি খেতে হবে

একজন মা তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাকে অবশ্যই সুষম খাদ্যের সাথেই প্রতিদিন গারো সবুজ শাকসবজি ও মৌসুমী ফল খেতে পারবেন।  আর এই সমস্ত খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, বিটা কেরোটিন, অথবা ভিটামিন সি চাহিদা সম্পন্ন পূরণ করে সকল খাদ্য খাওয়া যেতে পারে। তাই একজন মা তার সন্তানকে দুগ্ধ পান করার সময় অবশ্যই সবুজ শাকসবজি খেতে হবে তাহলে তার সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে।

৫। শিশুর বৃদ্ধির জন্য আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ার বিকল্প নেই

শিশুকে মায়ের বুকের দুধ- একটি শিশুকে সুস্থ স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য মাকে প্রতিদিন আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া একান্ত প্রয়োজন। কারণ শিশুর বৃদ্ধির জন্য আয়োডিনযুক্ত লবণ অধিক উপযোগী।  এই আয়োডিনযুক্ত লবণ মা ও শিশুর জন্য অত্যন্ত দরকারি যা মা সাধারণ খাদ্য সাথে আয়োডিনযুক্ত লবণ একটু খেতে পারবে যা শরীরের আয়োডিনের অভাব পূরণ করবে।

৬। অতিরিক্ত তেলেভাজা খাদ্য খাওয়া যাবেনা

শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়  অতিরিক্ত তেলেভাজা ও মসলাযুক্ত খাদ্য খাওয়া যাবেনা। কারণ একজন মা যখন অতিরিক্ত তেলেভাজা জাতীয় খাদ্য খাবে তখন সন্তানের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে অনেক সময় দেখা যায় সন্তানের পেটের সমস্যা এবং পেটের ব্যথা জাতীয় অনেক নানাবিদ সমস্যা দেখা যায় তাই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় তেলেভাজা কোন কিছুই খাওয়া যাবে না।

৭। অহেতুক কোন ধরনের ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে

শিশুকে-মায়ের-বুকের-দুধ খাওয়ানোর সময়   একজন মা  কারণে অকারণে ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।  কারণ অনেক সময় দেখা যায় ওষুধ সেবনের ফলে মায়ের বুকের দুধের ঘাটতি দেখা যায় অতপর শিশুটি অপুষ্টিহীনতায় ভুগতে থাকে তাই প্রতিটি মাকে স্মরণ রাখা দরকার ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

৮। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের খাবারের কোন বিকল্প নেই

একটি শিশুকে যখন মা বুকের দুধ খাওয়ান তখন মায়ের যথেষ্ট পরিমাণে শরীরের ক্যালরি ঘাটতি সংঘটিত হয়।  তাই মাকেসচেতন থাকতে হবে এবং খাদ্যের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। কারন দেখা যায় অনেক সময় মা খাওয়া থেকে বিরত থাকে যার ফলে মায়ের বুকের দুধ শেুকে যায় এবং সন্তান যতেষ্ট পরিমানে দুধ পায় না।  অতঃপর মাকে অবশ্যই বুকের দুধ খাওয়ার সময় খাদ্যের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।

৯। বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাকে তার বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য যে সমস্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার আছে সেগুলো অবশ্যই নিয়মিত খেতে হবে যেমন  লাল আপেল বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী ফল বুকের দুধ বৃদ্ধিতে যথেষ্ট পরিমাণে সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে লাউ শাক বুকের দুধ বৃদ্ধি জন্য মারাত্মক ভূমিকা পালন করে থাকে।

তাই একজন মা তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই খাওয়া উচিত ? তাহলে তার সন্তান সুস্থ দেহের অধিকারী হয়ে থাকবে।

১০। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাকে অবশ্যই মানসিক দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে

একজন মাকে যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে কারণ বিশ্রামের ফলে মায়ের বুকের দুধের সঞ্চার বৃদ্ধি পায় সাথে মা তার সন্তানকে দুধ দেওয়ার সময় আত্মতৃপ্তি ও বোধ মনে করে। 

শিশুকে-মায়ের-বুকের-দুধ

 শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর যে সমস্ত উপকারিতা পাওয়া যায় তা নিম্নরূপ দেওয়া হল-

  •  শিশুর জন্য উপকার 
  • মায়ের জন্য উপকারিতা
  • পরিবারের জন্য উপকার

 শিশুর জন্য বুকের দুধ উপকারী

  • মায়ের দুধ শিশুকে ভবিষ্যৎ উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস এবং স্থুলতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  • মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে শিশুর বিশেষ কিছু রোগ যেমন এলার্জি হাঁপানি একজিমা দাঁতের বিভিন্ন অসুখ ইত্যাদি রোধে মায়ের দুধের ভূমিকা ব্যাপক।
  • মায়ের বুকের দুধে লিনোলেনিক এসিড,  ওমেগা-৩, ফেটি অ্যাসিড, এবং কোলেস্ট্রল সহ বিভিন্ন উপাদান সমৃদ্ধ যা একটি শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে অত্যন্ত টিকা পালন করে থাকে এতে করে শিশু সহজেই মেধাবী ও বুদ্ধিমান হয়। 
  • মায়ের বুকের দুধে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি যা শিশুকে অন্ধত্ব  স্কার্ভি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে থাকে।
  • মায়ের  শাল দুধ শিশুর প্রথম প্রাকৃতিক টিকা হিসেবে কাজ করে থাকে।
  • যে সমস্ত শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করে তারা সহজেই স্বাস্থ্যবান ও দ্রুত বেড়ে ওঠে।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে মায়ের যে সমস্ত  উপকারিতা পাওয়া যায়ঃ 

  • যে সমস্ত মা তার শিশুকে ঠিকমতো বুকের দুধ খাওয়ায় এমন সব মায়ের স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
  • একজন মা তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে স্তনের টিসুগুলোর যথেষ্ট পরিমাণে ব্যায়াম হয় বিধায় স্তন সুডল থাকে।
  • একজন মা সন্তানকে দুধ দেওয়ার মধ্য দিয়ে মা ও শিশুর বন্ধন অটুট হয় এতে দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর ভালোবাসা সম্পর্ক যা আজীবন মৃত্যু  পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত  অটুট থাকে।
  • একজন মা তার সন্তানকে বুকের দুধ তৈরি হতে শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হয় ফলে মায়ের শরীরে থাকা অতিরিক্ত মেদ কমে যায় এবং শরীর দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসতে সাহায্য করে থাকে।

পরিবারের জন্য উপকারিতাঃ

  • শিশু সন্তানকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে  বাজার থেকে কোন ধরনের দুধ কিনতে হয় না ফলে পরিবারের অর্থ সাশ্রয় হয়।
  • শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে পারলে বাড়তি খাবারের জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় ও একেবারে ঝামেলা কমে যায়।
  • শিশুকে মায়ের  বুকের দুধ  খাওয়ালে সন্তানের অসুখ-বিসুখ কম হয় তাই শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না ফলে পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় কম হয়।

দেশের জন্য লাভঃ

শিশুকে মায়ের বুকের দুধ- মায়ের বুকের দুধ যথেষ্ট পরিমাণে থাকলে তাই বাজার থেকে কোন ধরনের দুধ কিনতে হয় না, এর ফলে বিদেশ থেকে শিশুদের জন্য যে সমস্ত দুধের বিকল্প খাদ্য আনতে হয়। সেক্ষেত্রে  বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। http://grathor.com

মোটকথাঃ উপরিক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে,শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে মায়ের অনেক শারীরিক ঘাটতি দেখা যায়। যা একজন মা কি কি খাবার খেলে বুকের দুধের ঘাটতি পরবে না, এবং শিশুটি সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে সে দিক নির্ণয় করে আজকে আমার এই আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে, যা একজন মানুষ এই কনটেন্টি পড়লে  সহজে একজন শিশুকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে শিশুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার দারুন  খাবারের তালিকা গুলো বর্ণনা করা হয়েছে । আশা করি সবাই উপকৃত হবেন আজকের মতো এখানেই শেষ করছি  সবাই  ভালো থাকবেন এবং ভালো থাকার চেষ্টা করবেন খোদাহাফেজ।

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *