স্বাস্থ্য

শিশুর জ্বরে যেসব কাজ করবেন-

শিশুর জ্বরে যেসব কাজ -মানব শরীরের তাপমাত্রা বয়স স্বাস্থ্য এবং প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয়ে থাকে।  সাধারণভাবে শিশুদের তাপমাত্রা বড়দের তুলনায় বেশি থাকে। সাধারণত আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বোচ্চ, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সর্বনিম্ন অবস্থায় থাকে। আজকে  শিশুর জ্বর নিয়ে কন্টেইনটি লেখা যা শিশুর জ্বরে যেসব কাজ – সম্পর্কে  আলোচনা করব।

জ্বর বলতে কী বুঝায়  ?

শিশুর জ্বরে যেসব কাজ- একজন ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা উপর নির্ভর করে সে কতটি পোশাক পড়ে থাকে। সাধারণত জ্বর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে না বেশি থাকে। নিচে শরীরের গড় তাপমাত্রা দেওয়া হলো-

  • যদি শরীরের তাপমাত্র  98.6°F (37.0°C) হলে সাধারণ তাপমাত্রার সীমা।
  • শরীরের তাপমাত্র 97.5°F (36.4°C), এবং 99.5°F (37.5°C) এর মধ্যে থাকে।
  • অধিকাংশ শিশু বিশেষজ্ঞরা 100.4°F (38.0°C) এর বেশি হলে সেটিকে জ্বরের লক্ষন হিসাবে গন্য করে থাকে। https://daliatista.com

শিশুর জ্বর হলে কী করবেন ?

শিশুর জ্বরে যেসব কাজ- সাধারণত শিশুর জ্বর হলে জ্বরের কারণগুলো অনুসন্ধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জোরে চিকিৎসার প্রধান উদ্দেশ্য আপনার শিশুর অস্বস্তিবোধ করা ব্যথা পেয়ে থাকে সেদিক থেকে আরাম দেওয়া অত্যন্ত কার্যকরী। জ্বর সাধারণত শরীরের কোন অসুস্থতা বা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি মারাত্মক লক্ষণ। সাধারণত জ্বর কোন ক্ষতিকর শরীরের জন্য নয়, আসলে এটি শরীরের সাথে যুদ্ধ করে আপনার শিশু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করে থাকে অথবা শরীরকে নিরাময়ের চেষ্টা করে।

শিশুর জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গ-

আপনার সন্তানের জ্বর হলে তার শরীর গরম না ঠান্ডা শরীরে তাপমাত্রা কি ধরনের তা সম্পর্কে আপনাকে প্রথমে অবগত হতে হবে। তার চোখ মুখ লাল হয়ে যেতে পারে,এবং শিশুটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘাম হয়।

 সাধারণত শিশুর জ্বর হলে সে অনুভব করতে পারে না, তবে বেশির ভাগ শিশু জ্বর থেকে বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন ধরেন আপনার সন্তানের কানের ব্যথা, গলা ব্যথা, ফুসকুড়ি ,পেটের ব্যথা, ইত্যাদি রোগের লক্ষণ হিসেবে সূত্রটি বুঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

শিশুর জ্বর হলে কখন  চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন ?

আপনার শিশুর জ্বর হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে আপনাকে সর্বপ্রথম স্বস্তি হচ্ছে সন্তান পর্যাপ্ত তরল পান করে থাকে, এবং গুরুতর কোন অসুস্থতার লক্ষণ শরীরের মধ্যে আছে কিনা সেটি নিরবীক্ষণ করতে থাকা । আপনার সন্তান যদি ওষুধ খাওয়ার পরে সঙ্গে সঙ্গে খেলা করতে থাকে তবে বুঝে নেবেন এটি অত্যন্ত ভালো দিক।

শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অনুভব করা-

শিশুর জ্বরে যেসব কাজ

সন্তানের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী থার্মোমিটার ব্যবহার করাই উত্তম। পারদ থার্মোমিটার ব্যবহার করা উচিত নয়।       

সাধারণত তিন ধরনের ডিজিটাল থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয়-

ডিজিটাল মাল্টিইউস থার্মোমিটার শরীরের তাপমাত্রা নির্ধারণ করে যা এটির ডগায় থাকা সেন্সটি।

  • শিশুর মলদ্বারে দেওয়া হয় ( একজন নবজাতক শিশু বয়স থেকে এক বছর পর্যন্ত)

শিশুর জ্বর থেকে সৃষ্টি হওয়া অস্বস্তির চিকিৎসা-

আপনার শিশুর বয়স যদি ছয় মাসের বেশি হয়ে থাকে, এবং তার জ্বর হয় তবে অস্বস্তিকর অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা প্রয়োজন নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে তার আচরণের দিকে।

শিশুর জ্বর হলে আপনাকে যা যা করতে হবে ?

  • আপনার শিশুকে কোন ধরনের পরিশ্রম কাজ করতে দেওয়া যাবে না। 

শিশুর জ্বর কাজ পরিহার করতে হবে

  • আপনার সন্তানের জ্বর হলে অস্বস্তির কারণ হলে চিকিৎসার জন্য কখনোই অ্যাসপিরিন ব্যবহার করবেন না, কারণ অ্যাসরিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে যেমন ধরেন সন্তানের পেট খারাপ অন্ত্রের রক্তপাত রেইসিনড্রোম এটি মস্তিষ্কে প্রভাবিত করে

শিশুর জ্বর থেকে খিচুনি হওয়া-

শিশু কাঁদতে পারে তারপর শক্ত হয়ে ঝাঁকুনি দিতে পারে এবং চোখ পাকাতে পারে তার শরীরের ত্বকের রং পরিবর্তন এসে নীল আকার ধারণ করতে পারে, আর যদি এসব লক্ষণ দেখা দেয়-

  • শিশুটির মাতা একপাশে ঘুরিয়ে দিতে হবে যাতে মুখ থেকে লালা ও  বমি সহজে বেরিয়ে আসতে পারে।
  • শিশুর মুখে কোন কিছু রাখা যাবে না এমনকি আঙ্গুলও নয়।

আপনার শিশুর চিকিৎসার জন্য কখন  শিশু বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নিবেন?

  •  শিশুর খিচুনি রোগ থাকলে অতি তাড়াতাড়ি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • শিশুর জ্বর কমে গেছে তারপরেও আপনার শিশু অসুস্থ বোধ করতে থাকে,তাহলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে আপনার সন্তানের চিকিৎসা করতে হবে।
  • আপনার সন্তানের অসুস্থতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এরকম হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • ২ বছরের কম বয়সী শিশু বাচ্চার ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার ঊর্ধ্বে যদি জ্বর থাকে। তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • ২ বছর ও তার অধিক বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জ্বর সাধারণত ৩ দিনের বেশি হলে অতি তাড়াতাড়ি একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। https://www.jugantor.com
 সমাপনীঃ উপরিক্ত তথ্য ও উপাত্ত মাধ্যমে শিশুর জ্বর নিয়ে যে সব কাজ করণীয় ও যে সব কাজ করা যাবে না এভাবেই আপনার আদরের সেই ছোট্ট শিশুকে সঠিক পরিচর্যা ও দেখভাল করার মাধ্যমেই আপনার শিশু সর্বদা সুস্থ বোধ করবে। কাজেই শিশুর জ্বর নিয়ে কখনো ভ্রান্ত ধারনা মনে আনবেন না। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মত শেষ করছি।

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *