ভ্রমন

সুন্দরবন [তথ্যসমূহ]

বাংলাদেশের আরেকটি প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময় নিদর্শন হলো সুন্দরবন।  এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন ও লবণাক্ত বনাঞ্চল। এর আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিস্তীর্ণ রয়েছে। বাংলাদেশ অংশে রয়েছে ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার। এটিই মূলত খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, বরগুনা জেলার কিছু অংশ নিয়ে বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্য সুন্দরবন।

১৯৯৭ সালে ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ঐতিহ্যবাহী পর্যটন স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। সুন্দরবনকে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল। ১৮৭৪ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদী-নালা বিল জলাকীর্ণ অঞ্চল।

এখানে রয়েছে অসংখ্য প্রাণী এর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার অন্যতম। তাছাড়া এখানে হরিণ, পাখি, কুমির, সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর বসবাস। প্রায় ৫০ এর উদ্ভিদ ১৩০ প্রজাতির মাছ ৪৫ প্রজাতির,৮টি স্তন্যপায়ী প্রাণী ৩৫ টি সরীসৃপসহ  এর নামকরণ করা হয়েছে সুন্দরবন।

সুন্দরবন  যাওয়ার উপযুক্ত সময়ঃ

সবচেয়ে খুলনা ও মংলা সমুদ্র বন্দরের কাছ থেকে একদিনেই আপনি ইচ্ছা করলেই ঘুরে আসতে পারেন । তবে সুন্দরবন  উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই গহীন স্থানগুলো দেখে আসতে হবে।

সুন্দরবন

সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থানসমূহঃ

এর জন্য আপনাকে ৩০ মিনিট সময় নিতে হবে । পদ্মপুকুর ওয়াচ টাওয়ার আছে এখানে বনের ভিতর যাওয়ার সময় আপনাকে আশ্চর্যময়  লাগবে।

কর্মজলঃ

অতঃপর এটি মংলা থেকে সবচেয়ে কাছে অবস্থিত যা বন বিভাগের কুমির  হরিণের প্রজনন কেন্দ্র। সুতরাং আপনি এখানে হরিণ কুমির বানর সহ নানা প্রজাতির গাছ সমারোহ দেখতে পারবেন।

কটকা বিচঃ

এটি একটি সমুদ্র সৈকত এখান থেকে আপনি বঙ্গোপসাগর। আর এই বিচটি অত্যন্ত সুন্দর ও পরিপাটি। বেলাভূমিতে অসংখ্য লাল কাকড়াদের টিত্রকর্ম যা দেখলে আপনার মন জুড়ে যাবে।

জামতলা সৈকতঃ

কটকার কাছে অবস্থিত জামতলা বিচ। এখানে একটি পর্যবেক্ষন টাওয়ার আছে। আপনি এই টাওয়ার থেকে সুন্দরবনের অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে পারবেন। আপনার ভাগ্য যদি ভাল থাকে তাহলে হরিণ ও বাঘ দেখতে পারবেন।

মান্দারবাড়িয়া সৈকতঃ

এই সৈকতটি কিছুটা অংশজুড়ে অনাবিস্কৃত হয় বলে ধরা হয়। আপনি এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাআস্ত দেখতে পারবেন। এখানে যেতে চাইলে সাতক্ষীরা দিয়ে আসতে হবে।

হীরন পয়েন্টঃ

হীরন পয়েন্ট আসতে পারলে সুন্দর কাঠের তৈরী রাস্তায় হাটতে পারবেন। আর আপনি হাটতে হাটতে হরিন, বানর, গুইসাপ ও বিভিন্ন রকমের কুমির দেখতে পারবেন। ভাগ্য ভাল হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখতে পারবেন।

দুবলার চরঃ

এটি একটি ছোট চর যা দুলার চর নামে পরিচিত। চরের মাধ্যম নদী বয়ে মিলিত হয়েছে বঙ্গোপরসাগরে। এখানে শুটকি,হিন্দুধর্মের পূন্যস্নান,ও রাসমেলার জন্য বিখ্যাত।

অতপর এটি অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি জেলে বসতি গড়ে তুলেছে। তারা মাছ ধরার পাশাপাশি শুটকি শুকানোর কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে।

কিভাবে সুন্দরবন ঘুরবেন ?

আর এর জন্য আপনাকে যে কাজটি করতে হবে, ফরেষ্ট অফিস থেকে নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। এবং নিরাপত্তাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে। ঘুরার জন্য লঞ্চ ও শীপ নিয়ে ঘুতে হবে।

সুন্দরবন

সুন্দরবন ভ্রমনে কত খরচ হবে ? 

আপনার ভ্রমনের প্যাকেজ অনুযায়ী খরচ হবে,জাহাজ ও খাবারের মান অনুযায়ী অপনার খরচ হবে। আপনি কি কি দেখবেন, কতদিন থাকবেন তার উপর নির্ভর করবে।

সাধারনত আপনার জন প্রতি  ৭০০০ টাকা থেকে ১৫০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। যদি আপনি এসি জাহাজে ভ্রমন করতে চান তাহলে ১৬০০০ হাজার টাকা থেকে ৩০০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

যদি আপনারা  প্রতিষ্ঠান থেকে যান তাহলে নিজেরাই একটি জাহাজ ভাড়া করতে পারেন।

যেভাবে সুন্দরবন যাবেন?

খুলনা অথবা মংলা সমুদ্রবন্দর হয়ে সুন্দরবন যাওয়া যায়।  সবচেয়ে উত্তম পথ  খুলনা হয়ে  জাহাজে সহজেই মংলা হয়েই সুন্দরবনের প্রবেশ করতে পারেন। আপনি ইচ্ছে করলে ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেন যোগে সরাসরি আসতে পারবেন।

এজন্য সায়দাবাদ, গুলিস্তান, থেকে খুলনা যাওয়ার বাসে করে  আপনাকে আসতে হবে।

অতঃপর বাসের ভাড়া নন এসি সাধারণত ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকালে ছেড়ে যায় ঢাকা থেকে। চিত্রা এক্সপ্রেস টি ছেড়ে যায় সন্ধ্যার সময় এজন্য আপনাকে সিট অনুযায়ী ভাড়া দিতে হবে ৬০০ টাকা থেকে ৭০০টাকা পর্যন্ত। 

ঢাকা থেকে সরাসরি মংলা যেতে চাইলে আপনি সেমি চেয়ারকোচ বাসে আসতে পারেন, কমফোর্ট লাইন, দিগন্ত, আরমান, পরিবহন নন এসি বাসের  ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। http://vromonguide.com

 যদি আপনি ভালো বাসে যেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে খুলনা হয়ে যেতে হবে। যাওয়ার আগেই কাটাখালি নামক স্থানে যেতে হবে। সাধারণত মোটরসাইকেল সিএনজি ও মাহিন্দ্রা করে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে।

আপনি যদি ঢাকা থেকে খুলনা মংলা যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনার সময় লাগতে পারে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা।  কারণ এখন যেহেতু পদ্মা সেতু চালু হয়েছে সেজন্য আপনার ভ্রমণ সহজেই আরামদায়ক হবে।

 সুন্দরবন ভ্রমণ খরচ যত হবে?

কোন প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির সাথে ভ্রমণে গেলে এখানেই সব ধরনের ফ্রি অন্তর্ভুক্ত থাকে আপনাকে আলাদাভাবে কোন ফি দিতে হবে না।  যদি একদিন ভ্রমণ করেন তাহলে আপনাকে সব ম্যানেজ করে প্রতিটা জায়গা ঘোরার জন্যই  প্রবেশ  মূল্য দিতে হবে। বাংলাদেশিদের জন্য জনপ্রতি ১৫০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৪০ টাকা। বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ  ফি দিতে হবে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।

যাই হোক এটা হল ভ্রমণ প্যাকেজ এছাড়াও অন্যান্য খরচের মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন গাইডের জন্য আপনাকে দিতে হবে ৫০০টাকা নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ৩০০ টাকা লঞ্চের জন্য ৭০ টাকা টেলিকমিউনিকেশন যোগাযোগ করতে পারেন।

রাসপূর্ণিমার সময়  তীর্থযাত্রীদের তিনদিনের জন্য জন প্রতি আপনাকে ফ্রি দিতে হবে ৫০ টাকা এবং যারা ইতিমধ্যেই নিবন্ধন করেছেন তাদের টলার ফি ২০০ টাকা ।

সুন্দরবন

স্বল্প খরচে সুন্দরবন ঘুরাঃ

আর যদি হাড়বাড়িয়া যেতে চান তাহলে সেখানকার জন্য ৩৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে ভাড়া করার ক্ষেত্রে দরদাম করে নেবেন।

কর্মচল প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি প্রতিষ্ঠাতা এবং হারবারিয়া প্রবেশ মূল্য একশত টাকা হারে টিকিট নিতে হবে আর আপনাকে দুপুরের খাবার মংলা থেকে খেয়ে নিতে হবে।

থাকবেন কোথায়ঃ

লঞ্চ বা জাহাজে গেলে আপনার সেখানেই থাকার ব্যবস্থা আছে আর যদি ব্যক্তিগতভাবে আপনি ভ্রমণ করতে চান তাহলে সুন্দরবন টাইগার পয়েন্ট এর কচি খালি এবং হিরন পয়েন্টের নীলকদম ও কাঠকায় বন বিভাগের রেস্ট হাউসে থাকতে পারবেন। পরশুর বন্দরে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য কিছু সাধারণ হোটেল পাবেন।

খুলনা  বিভাগীয় শহরে  অনেক আবাসিক হোটেল পাবেন এর মধ্যে রয়েছে হোটেল টাইগার, হোটেল রয়েল ,ক্যাসল, সালাম হোটেল, ওয়েস্টার্ন হোটেল, মিলিনিয়ামসহ অনেক হোটেল পাবেন আপনি  ইচ্ছামত হোটেল গুলোতে দরদাম করে থাকা ও  রাত্রি যাপন করতে পারেন।

যদি আপনি সাতক্ষীরা শহরে থাকতে চান তাহলে সাতক্ষীরা শহরে কিছু সাধারন মানের হোটেল পাবেন । এনজিও সুশীলনের রেস্ট হাউস ডরমেটরিতে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে থাকতে পারবেন ।

সুন্দরবন ঘুরার পরামর্শঃ

  • সুন্দরবনের অনেক জায়গাতেই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না তবে কিছু সংখ্যক জায়গায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়
  •  জাহাজে ওঠার আগে আপনার সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঠতে হবে
  •  প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে রাখবেন
  •  নিরাপদ খাবারও পানি সাথে রাখবেন
  •  জাহাজ প্যাকেজ বুকিং এর আগেই এজেন্সির সাথে ভালো করে বুঝে  নিবেন
  • সুন্দরবন দেখার জন্য অবশ্যই একসাথে ঘুরতে হবে
  •  সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় বা ক্ষতি হয় এমন কিছু করা থেকে সব সময় বিরত থাকতে হবে এবং মনে রাখতে হবে এটি আপনার এবং আমার সকলের দায়িত্ব। https://daliatista.com/

সকলকে আজকে আমার পোষ্টটি পড়ার ধন্যবাদঃ

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *