স্বাস্থ্য

স্ট্রোক রোগীর জীবন বাচাঁতে তাৎক্ষনিক যে সমস্ত কাজ করবেন।

স্ট্রোক-রোগীর-জীবন-বাচাঁ- স্ট্রোক একটি প্রাক প্রাণীকুলের মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্যহানিকর সমস্যা যা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করতে পারলে রোগীর বিভিন্ন অঙ্গ পঙ্গুত্ত বরণের পাশাপাশি মৃত্যুবরণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্ট্রোক-রোগীর-জীবন-বাচাঁ- তাই স্ট্রোক রোগীর যত দ্রুত সম্ভব সেবা করা এবং অতি দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়াই হচ্ছে উত্তম ব্যবস্থা। আজকে আমি আমার এই কন্টিনটিতে স্ট্রোক-রোগীর-জীবন-বাচাঁ- একজন স্ট্রোক রোগীর জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, সেই সম্পর্কে আলোকপাত করবো আশা করি আপনারা ভালোভাবে পড়তে পারলেই সহজেই একজন স্ট্রোক রোগীর পঙ্গুত্ব হাত থেকেই অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভবপর হবে। তাই চলুন জেনে নেই একজন স্ট্রোক রোগীর জীবন বাঁচাতে যে সমস্ত পদক্ষেপ আপনি গ্রহণ করবেন- http://daliatista.com

কিভাবে রোগী স্ট্রোক করেছে  বুঝবেন ?

 মানুষ সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের  প্রতিটি কোষ রক্ত সঞ্চালন এর প্রয়োজন ঘটে কারণ রক্তের মাধ্যমেই আমাদের শরীরে কোষে কোষে ছিঁড়ায় শিরায় অক্সিজেন পৌঁছায়।

যদি কোন কারনে মানুষের মস্তিষ্কের কোষে যদি রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায় রক্তনালী বন্ধ করে দেয় বা ছিড়ে যায় তখনই কিন্তু একজন মানুষ স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

বিভিন্ন বয়সে স্ট্রোক হয় কিন্তু সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি, বর্তমান সময় দেখা যাচ্ছে তরুণ এবং শিশুরাও স্ট্রোককে আক্রান্ত হচ্ছে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় নারীদের তুলনায় পুরুষদের স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে 

  • মাইল্ড স্ট্রোক
  • ইসকেমিক স্ট্রোক
  • হেমোরেজিক স্ট্রোক

১। মাইল্ডে স্ট্রোকঃ সাধারণত মাইন্ড স্ট্রোক রোগীর মস্তিষ্কের মধ্যে রক্ত সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় চালু হয় এটি মূলত ভবিষ্যতের বড় ধরনের স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ।

২। ইসকেমিক স্ট্রোকঃ এটি মূলত একজন মানুষের মস্তিষ্কের ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধে যার ফলে এটিকে বলা হয় ইসকেমিক স্ট্রোক।

৩। হেমোরেজিক স্ট্রোকঃ এই স্ট্রোকটি মানুষের মস্তিষ্কে কতটা ক্ষতি করবে তা এটা নির্ধারণ করে মস্তিষ্কের কোথায় কোন জায়গায় ঘটেছে এবং কতটুকু জায়গা জুড়ে হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করেই এ স্টকটিই নির্ধারণ করা হয়।এই হেমোরেজিক  স্ট্রোককে মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিড়ে রক্তপাত হয়ে থাকে।

স্ট্রোক-রোগীর-জীবন-বাচাঁ- তবে এটি মনে রাখার প্রয়োজন যে, আপনি এখানে কতটুকু সময় পাবেন তার ওপর নির্ধারণ করবে রোগীর পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা। আপনি যদি তাৎক্ষণিকভাবে এর সুচিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে পারেন।

এ ব্যাপারে চিকিৎসকরা বলেছেন রোগীর যত দ্রুত চিকিৎসা পাবে রোগীর তত ক্ষতির আশঙ্কা কমে যাবে, তাই যথাসময়ে অতি দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে। 

স্ট্রোক-রোগীর-জীবন-বাচাঁ

কিভাবে লক্ষণ দেখে দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন?

মূলত স্ট্রোক লক্ষণ এক ব্যক্তির এক এক ধরনের হয়ে থাকে অনেক ব্যক্তির স্ট্রোক হওয়ার কিছুক্ষণ পর অটোমেটিক স্বাভাবিক হয়ে যায় তাই এ কারণে আর চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না এতে পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির রূপ নিতে পারে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রখ্যাত মেডিকেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিউরো সাইন্স বিভাগের  অনেক ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তির শরীরে স্টকের লক্ষণ দেখা যায় অতি দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী জীবন পরিচালনা করতে হবে তাই স্টক যে ধরনের হোক না কেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চলা একেবারেই অসম্ভব।

সাধারণ কিছু স্ট্রোক লক্ষণ যেভাবে বুঝবেন ?

  •  কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা মুখের কথা এলোমেলো ভাবে জড়িয়ে যাওয়া।
  •  চোখে ঝাপসা/ ও অন্ধকার দেখা।
  •  গলার ঢোক গিলতে কষ্ট পাওয়া।
  •  শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, অথবা শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়া অথবা  জ্ঞান হারানো।
  • জিহ্বা আসার হয়ে যাওয়া, এবং মুখ বাকা হয়ে যাওয়া।
  • বমি বমি ভাব বমি খিচুনি হওয়ার সম্ভাবনা।
  •  হঠাৎ করে কয়েক সেকেন্ডের জন্য মাথায় তীব্র ব্যথা অনুভব করা।

রোগীর লক্ষণ ভেদে পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা 

 চিকিৎসকের মতামতের উপরে ভিত্তি করে একটি শব্দ মাথায় রাখতে বলেছেন সেটা হল- FAST শব্দটি

F = Face রোগীর মুখ বাঁকা হবে।

A = Arm  এর অর্থ হচ্ছে হাত-পা অবশ হয়ে আসা।

S = Speech এর অর্থ কথা এলোমেলো বা জড়িয়ে যাওয়া।

T = Time যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।

আপনি যদি এই সমস্ত লক্ষণ দেখেন তাহলে দেরি না করে রোগীকে দ্রুত বিছানায় বা ঘরের মেঝেতে  এক কাথ করে শুয়ে দিতে হবে।  অতঃপর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা  করতে হবে।

রোগী এ পর্যাপ্ত পরিমাণে বাতাস করতে হবে আলো বাতাস যেখানে সবসময়  চলাচল করে এমন স্থানে রোগীকে রাখতে হবে এবং আশেপাশে ভিড় অথবা কান্নাকাটি করা সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। তাহলে রোগীর স্বাভাবিক অবস্থা থাকবে।

যদি রুগীর গায়ে কোন কাপড় চোপড় থাকে তাহলে ঢিলেঢালা কাপড় পরিধান করে দিতে হবে যদি পুরুষ মানুষ হয় তাহলে তার পরনের সকল কাপড় খুলে দিয়ে ঢিলে ঢালা কাপড় পরিধান করে দিতে হবে।

যদি দেখেন রোগীর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তাহলে তার মুখ খুলে দেখতে হবে মুখে কিছু আটকে আছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং ভিজে কাপড় দিয়ে মুখে  জমে থাকা লালা ও খাবারের অংশ এবং যদি রোগী বমি করে থাকে তাহলে পরিষ্কার করে দিতে হবে।

  সাবধান ! অবশ্যই মনে রাখতে হবে স্ট্রোক করা রোগীকে কখনো খাবার ঔষধ খাওয়ানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে কারণ এক এক ধরনের স্ট্রোক রোগীর জন্য এক এক ধরনের ঔষধ খাওয়াতে হয়,কাজেই কখনো কারো কথা  শুনে আপনি ঔষধ খাওয়াতে যাবেন না। এতে করে আপনার ইতি বিপরীত হতে পারে।

এমনকি  রোগীকে পানি খাবার কোন তরল জাতীয় খাদ্য খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

এতে করে আপনি কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা করতে পারেন সে ক্ষেত্রে রোগীর হাতে-ক ও কানের লতিতে হাতের আঙ্গুলে  সুঁই গরম করে সেই সুই দিয়ে  রক্ত বের করার চেষ্টা করবেন। 

স্ট্রোক রোগীর প্রথম ৩ ঘন্টা জরুরীঃ

  • স্ট্রোক এখন দেখা দেওয়ার পর অবশ্যই প্রথম তিন ঘন্টা থেকে চার ঘন্টা সময় মারাত্মক ক্রিটিকাল মুহূর্তে।
  • তবে এক এক রোগীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে, অনেকে তিন ঘন্টা হয়েছে ক্ষতি হয় আরেকজনের সেটা নাও হতে পারে।
  •  সাধারণত একজন স্টক রোগীকে সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে রোগী অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
  •  সাধারণত চিকিৎসকরা আইভিত্ থ্রম্বোলাইসিস চিতকৎসা  দিয়ে থাকে।চিকিৎসকরা ইনজেকশনের মাধ্যমে একটি ঔষধ রক্তনাল এর মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় যা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে তোলে।
  • যদি রোগীর রক্তপাত মারাত্মক হয় তাহলে মাতার হাড় কেটে মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ টিকে চাপমুক্ত রাখে যেন মস্তিষ্ক সুন্দর সুস্থ অংশ আক্রান্ত হতে না পারে একে বলা হয় ডিসম্পেস ক্র্যানিয়্যাকটমি। 
  • রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সাধারণত ডাক্তাররা রোগীর লক্ষণ বুঝে মাতার সিটি স্ক্যান, ব্লাড সুগার, ইসিজি টেস্ট, দিয়ে থাকেন অতঃপর রোগীর অবস্থা ভেদে এম আর আই ও সিটি এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ রাখেন।

স্ট্রোক-রোগীর-জীবন-বাচাঁ

চলুন জেনে নেই স্ট্রোক হওয়ার কারণ ও করণীয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মধ্যেবিশ্বব্যাপী যত সংক্রামক রোগ বেধে আছে তার মধ্যে মৃত্যুর দিক থেকে হৃদরোগের পরে স্ট্রোক অবস্থান।পঙ্গুতের অন্যতম কারণ হচ্ছে স্ট্রোক যা দিন দিন এর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। 

স্ট্রোক-রোগীর-জীবন-বাচাঁ- সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গবেষণায় দেখা গিয়েছে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটিরও বেশি হওয়ায় এক্ষেত্রে প্রতি এক হাজারে মানুষের মধ্যে ১১ জনই স্ট্রোক আক্রান্ত হন। http://www.google.com

স্ট্রোক হওয়ার কারণ

  • স্টক হওয়ার সর্বপ্রথম প্রধান কারণ হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ
  • সারাদিন অলস সময় বা শুয়ে বসে থাকলে
  •  কাইক শ্রম না করলে
  •  ওজন অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে
  •  মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত টেনশন
  •  অস্বাস্থ্যকর অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস
  •  অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার
  •  চিনিযুক্ত খাবার 
  • ভাজাপোড়া
  •  অ্যালকোহল জাতীয় পানিও খাবার
  •  ধূমপান, তামাক, জর্দা গুল
  •  মদ্যপান

স্ট্রোক হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

আপনার শরীরকে যদি নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে অভ্যস্ত করে তোলেন  তাহলে আপনি পুরোপুরি  স্ট্রোককের  ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবেন।

  • উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে
  • ধূমপান, জর্দা, তামাক, গুল, মাদক  সেবন মদ্যপান এসব খাদ্য থেকে এড়িয়ে চলতে হবে।
  •  সুস্থ থাকতে গেলে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন  ঘুমাতে  হবে।
  •  শরীরচর্চা ও নিয়মিত  কায়িক শ্রম ও ওজন ঠিক রাখতে হবে
  •  প্রতি ছয় মাস পর পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

মোটকথাঃ স্ট্রোক-রোগীর-জীবন-বাচাঁ- উপযুক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, একজন রোগী যখন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পড়ে তখন দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। অতঃপর রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারলে  তাড়াতাড়ি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসবে। আশা করি আমার উপরে উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা আপনাদের কে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এই সমস্ত কলা কৌশল যদি আপনি জেনে থাকেন তাহলে আপনার পরিবার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব সকলেই আপনার দ্বারা উপকৃত হবে এবং আপনার জন্য দোয়া করবে আজকে আমার এই আর্টিকেলটি এখানেই শেষ করছি সবাই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি আল্লাহ হাফেজ।

 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *