সাধারন জ্ঞান

হযরত মূসা আঃ এর জীবনী সম্পর্কে জানুন (Biography of Musa Profect)

হযরত মূসা আঃ এর  জীবনী (সংক্ষিপ্ত )সম্পর্কে জানুন (Biography of Musa Profect)

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী – আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী হযরত মূসা আঃ এর সম্পর্কে আমরা মুসলিম উম্মাহ কম বেশি সবাই জেনে থাকি তার অনেক মোজেজা এবং অনেক অলৌকিক ঘটনা সম্পর্কে। আজকে আমার এই আর্টিকেলটিতে হযরত মূসা আঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী সম্পর্কে আলোকপাত করবো । আশা করি মুসলিম উম্মার জন্য হযরত মুসা আঃ এর সম্পর্কে আপনারা জানতে পারবেন তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক হযরত মুসা আলাই সালাম এর জীবনী সম্পর্কে।

হযরত মুসা আঃ এর জন্মের পূর্ব ঘটনা

 খ্রিস্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দী দিকের ঘটনা সেই সময় প্রাচীন মিশরের রাজধানী পেন্টাটিউক। এটি মূলত নীলনদের তীরে অবস্থিত যা মিশরের রাজা ফেরাউন বসবাস করতেন। নগরেরএকেবারে শেষের দিকে ইহুদিদের বসবাস। আর ফেরাউন ছিলেন ইহুদিদের অতি বিদ্বেষ ভাবাপণ্য ব্যক্তি।

অতঃপর এই গণনার কথা ফেরাউনের কাছে চলে যায় এবং ফেরাউন অতি বিচলিত হয়ে পড়ে কি করে এর থেকে পরিত্রান পাওয়া যায় ভেবে কোন কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছি না। তাই একসময় তিনি রাজ্যের এক কঠিন আদেশ জারি করলেন। সেটি হচ্ছে কোন ইহুদি পরিবারের সন্তান জন্মগ্রহণ করলেই যেন তাকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করা হয়। https://daliatista.com

আদেশ জারি হওয়ার পর ফেরাউনের নিযুক্ত গুপ্তচররা বিভিন্ন শহরে গ্রামগঞ্জে তারা ঘুরে বেড়াতো এবং যখনই কোন পরিবারের সন্তান জন্মগ্রহণ করে তখনই তাকে তৎক্ষণাৎ ভাবে তারা হত্যা করত।

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী

 হযরত মুসা আঃ জন্ম

মিশরের ইহুদি মহল্লায় বাস করতেন  এক দম্পতি তারা সবে মাত্র বিয়ে করেছে আসরাম ও জোশিবেদ নামের ওই দম্পতি তাদের কোলে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মানোর পরেই তাদের মাথায় যেন বাজপাখি পড়ে যায় কি করে এই সন্তানকে বেচে রাখা যায় জল্পনা-কল্পনা করতেই থাকে।

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী-তারা দুজনেই চিন্তা করতে থাকে যে করেই হোক তাদের সন্তানকে জীবিত করতে হবে। হতে তো পারে এই সন্তানেই ইহুদী জাতিকে সমস্ত নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে রক্ষা করতে পারে।

তারা দুজনেই সিদ্ধান্ত নেয় লোক চক্ষুর আড়ালে গোপনে শিশুটিকে ভদ্র সহকারে বড় করতে লাগলেন। কিন্তু সেটা বেশিদিন টিকলো না, খবর জানাজানি হয়ে গেছে স্বামী-স্ত্রী বুঝতে পারলেন যে যে কোন মুহূর্তেই ক্ষতি হবে।

আল্লাহ ও ভাগ্যের হাতে তুলে দিলেন ?

তারা দুজনে সিদ্ধান্ত নিল  ঈশ্বর ও তার ভাগ্যের হাতেই সবই দিতে দুজনে বেরিয়ে বললেন তিনি এক নির্জন ঘাটে এসে তার আদরের সন্তানকে শুয়ে রেখে বাড়ি ফিরে গেলেন।

সেই ঘাটে প্রতিদিন গোসল করার জন্য ফেরাউনের স্ত্রী আসতেন।  ঘাটে এসে দেখে ছোট্ট একটি ফুটফুটে সন্তান মায়া কান্না জলে পড়ে আছে। কতবার ফেরাউনের স্ত্রী তাকে তুলে নিয়ে এলো রাজপ্রাসাদের। সেই সন্তান কি নিজে সন্তানের মত আমিও ভালোবাসা আদর মায়া মমতা দিয়ে লালন পালন করা শুরু করে দিল।
হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী- এখানে আরেকটি  অন্য কাহিনী  আছে সেটি হল যখন মুসার বাবা-মা ঘাটের কাছে রেখে আসলো এবং দুজনেই একটি  কাছের আড়ালে লুকিয়ে  থাকলেন।অতঃপর কিছুক্ষণ পর ফেরাউনের স্ত্রী সে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথেই দেখতে পেলেন সেই ফুটফুটে  ছেলে সন্তানটি যা দেখে ফেরাউনের মন গলে গেল এবং তাকে তুলে নিয়ে রাজপ্রাসাদে চলে গেলেন।

অতঃপর মুসা কে দেখাশুনা করার জন্য একজন ধাত্রী হিসেবে নিয়োগ পেলেন মূসার  জন্মদাতা মাকে মুসা কখনো মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কারো দুধ পান করেনি।

মুসার কৈশোর ও যৌবনকাল

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী- ধীরে ধীরে মুসার কৈশোর ও যৌবনকাল শুরু হলো। এদিকে ফেরাউনের অত্যাচারে দিন দিন দিদিদের উপর অনাচার ব্যভিচার বেড়েই জন্য এ দেখে মুসার খুব মনঃপন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে মুসার এ সমস্ত মনোভাব জানতে পেরে একদিন জোষিবেদ  তাকে তার নিজের পরিচয় গোপন রাখে মুসাকে বলে দিল। অথবা মুসা এই সমস্ত কথা শোনার পর অন্তরে শুরু হয়ে গেল মারাত্মক যন্ত্রণা এবং বেদনা ভরা হৃদয়।

মিশরীয় মনিবকে হত্যা

একদিন ভিসা রাজপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন এমন সময় তার সামনে পরল হতভাগ্য ইহুদি  তাকে এমন ভাবে প্রহার করতেছে তার মনে যা দেখে মুসার মন মেজাজ ঠিক থাকলো না। এবং সেই স্থির থাকতে পারল না।সেই ইহুদীকে বাঁচার জন্য মুসা এগিয়ে আসলো সেই তার মনিবের দিকে  অথবা তার তরবারি দিয়ে মনিবকে আঘাত করতে থাকলো একপর্যায়ে সে মনি মারা গেল। 

যখন লোকটি মারা গেল  ততক্ষণে  ফেরাউনের গুপ্তচররা জানতে পেরে ফেরাউনের কাছে নালিশ করল।অতঃপর ফেরাউনের কাছে  সব বিষয়ে পরিষ্কার হয়ে গেল  এবং সে বলল রাজকন্যা  যাকে মানুষ করলেও  তার শরীরে রয়েছে ইহুদিদের রক্ত। তাই তার নিজ ধর্মের মানুষকে অত্যাচার দেখলেই সেই মিশরীয় মনিকে হত্যা করে।

ফেরাউন চিন্তা করল যদি একে মুক্ত করা হয় তাহলে তার বিপদ সন্নিকটে তাই তাকে যে করেই হোক তাকে বন্দী করা দরকার তাই তিনি সৈনিকদের ডেকে গুণ দিলেন যে করেই হোক মুসাকে বন্দী করে নিয়ে আসতে। এ কথা শোনার পর মুসার দেরি না করে তাৎক্ষণিকভাবে মিশরীয় শহর ত্যাগ করে বেরিয়ে পড়লেন অচেনা অজানা রাস্তা দিকে।

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী- দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর মুসা বড়ই ক্লান্ত তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি দেখতে পান সামনে একটি ভুয়া  সে কুয়ার সামনে সাতটি মেয়ে ভেড়া চড়াচ্ছিল এবং ভেড়াগুলোকে পানি খাওয়াচ্ছেন।

হঠাৎ একদল মিসকল সেখানে এসে তাদের কাছ থেকে জোর করে ভেড়া ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় । মেয়েগুলো চিৎকার চেঁচামেজি করতে থাকে এবং বলতে থাকে আমাদের ভেড়া উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মুসা দেরি না করে সেই  মেষপালকেদের কাছ থেকে ভেড়াগুলোর উদ্ধার করে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়।

এই সাত বোন বাড়িতে ফেরার পর তার বাবাকে সব কথা খুলে বলবো। বাবার নাম ছিল রুয়েন।তারপর সেই ব্যক্তি সব ঘটনা শোনার পর তার মেয়েকে বলল মুসা যেন তার সাথে দেখা করে এবং তাকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য দাওয়াত দিল।

মুসা তাদের বাড়িতে আসলো  তার পরনের সকল কাপড়-চোপড়ও তার ব্যবহার দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন  তার পরিচয় জানতে চাইলে মুসা তার অপপটে সব কিছু পরিচয় তার সামনে বলে যায়।

অতঃপর রুয়েন তাকে চিনতে পারলেন,মুসার ব্যবহারে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিলেন। শুধু আশ্রয় দিয়ে একান্ত হয় নাই  বরং তাকে তার এক মেয়ের সাথে মুসার বিবাহ  সম্পন্ন করেন।

এভাবে চলতে চলতে  মিশরীদের  অবস্থা ক্রমশই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। মুসা জানেন এখানে তার জীবন যাপন অতিবাহিত হলেও তার স্বজাতির উপরেই তার একটা আত্মার টান রয়ে আছে তাই সব সময় সে ব্যতীত থাকতো।

মুসা আল্লাহর নৈকট্য  লাভ করেন

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী-একদিন  মেসের পাল  চরাতে চরাতে  এক নিউটন পাহাড় প্রান্তে এসে পৌঁছে গেলেন।  সে দেখতে পেলেন সামনে বেশ কিছু গাছপালা এবং সেই গাছপালা আর পাহাড়ের মধ্য থেকে  

পাহাড়ের মধ্যে থেকেই  এক আলোক ছায়া  বেরিয়ে এলো  সে আলো এত বেশি তীব্র যা তার চোখ ঝলসে যাচ্ছে কিন্তু তারপরেও তিনি স্থির চোখে ধেয়ে রইলেন সেই আলোর দিকে  আর সেই আলো তাকে ঘিরে ফেলেছে। 

 অতঃপর তিনি শুনতে পেলেন হে মুসা……… হে মুসা এই শব্দ শোনার পরে মূসা চমকে উঠলেন এবং চারিদিকে তাকাচ্ছেন  কে তার নাম ধরে ডাকছে,  তখন তিনি সাড়া দিলেন কে আপনি আমাকে কেন ডাকছেন ? তখন সেই অলৌকিক শব্দ কণ্ঠস্বর ভেসে উঠলো  আমি তোমার  পূর্বপুরুষের একমাত্র ঈশ্বর এবং আল্লাহ। 

তখন মুসা ভাবতে লাগলো ঈশ্বর তার সাথে কথা বলছেন এজন্য তার বিশ্বাস হচ্ছে না।  তিনি ভীত হয়ে  মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। এবং সে বলতে লাগলো আমার কাছে আপনার কি প্রয়োজন প্রভু  আপনি আমাকে বলেন।

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী- তখন  সেই কণ্ঠস্বর  বলল তুমি আমার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মিশরে যাও। এবং সেখানে ইহুদিরা অমানুষিক নির্যাতন ভোগ করছে তুমি সেই সমস্ত ইহুদীকে মুক্ত করে নতুন দেশে নিয়ে আসো।

মুসা বললেন এ প্রভু আমি কেমন করে তাদের দায়মুক্ত করব ?  মূসা বললেন আমি কেমন করে তাদের মুক্ত করব? সেই দৈববানী বলল আমি তোমাকে অদৃশ্যভাবে সাহায্য করবো। তুমি ফেরাউনের কাছে যাও এবং গিয়ে বলো আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি সকলের জন্য আমার আদেশ মেনে চলে।

কিন্তু যখন তারা আমাকে জিজ্ঞেস করবে তোমার ঈশ্বরের নাম কি তখন আমি কি জবাব দিব? প্রথমের দিকে নাম না বললেও পরবর্তীতে তিনি বিশ্বজগতের স্রষ্টা তিনি হলেন একমাত্র আল্লাহ।

মূসা অনুভব করলেন এবং ভাবতে লাগলেন এটি তার নিজের শক্তি নয় বরং স্বয়ং আল্লাহ তাকে সব দিকে সাহায্য করবেন। এবং সে ভাবতে লাগলেন নিশ্চয় আল্লাহ তাকে নির্দিষ্ট কাজের জন্যই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন।

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী-আরো কিছু দিন পর ২য বার আল্লাহ তাকে আদেশ দিলেন,এবং বললেন আমি তোমা  প্রতি মুগ্ধ হয়েছি। তুমি পারবে ইহুদিদের মুক্ত করতে তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে তুমি এই জাতিকে সংকট থেকে উদ্ধার করতে পারবে।

তাই তুমি কাল বিলম্ব না করে তুমি তোমার স্বজাতিদের উদ্ধারের জন্য মিশরে চলে যাও। অতঃপর মুসা কয়েকদিন পর আল্লাহর আদেশেই  তিনি স্ত্রী পুত্র সন্তান রেখে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে  মিশরের  পথে রওনা দেন ।

মূসা সর্বপ্রথম ইহুদিদের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং  তাদেরকে সব কথা খুলে বললেন  এবং আল্লাহর আদেশের কথা।  মূসার সমস্ত বাণী  এবং তার আচার আচরণ তার ব্যক্তিত্ব অন্তরের গভীরতা আত্মহত্যায় দেখে সকলে বিশ্বাস করলেন।

অতঃপর মুসা বললেন আমরা সর্বপ্রথম ফেরাউনের কাছে আমাদের দেশ ত্যাগ করার অনুমতি প্রার্থনা করব। তার কথামতো  ফেরাউনের  দরবারে গিয়ে এবং ভাবতে লাগলেন  ফেরাউনকে দেশ থেকে কথা বললে  ফেরাউন কখনোই দেশ ত্যাগের অনুমতি দেবে না। 

তাই তিনি  বললেন  সম্রাট দের স্রষ্টা আদেশ দিয়েছেন সমস্ত  ইহুদিকে মরুপ্রান্তে  পাহাড়ে গিয়ে প্রার্থনা করতেন আপনি যদি কয়েকদিনের জন্য অনুমতি দেয় তাহলে ভালো হয়।
ফেরাউন মুসারে অনুরোধ ছাড়া দিলেন না বরং রুদ্ধ  কণ্ঠস্বরে বলে উঠলেন তোমাদের আল্লাহর আদেশ আমি মানি না তোমরা কখনই মিশর ত্যাগ করতে পারবা না।

অতঃপর মুসা বললেন আমরা যদি মরুভূমিতে গিয়ে প্রার্থনা না করি তাহলে আমাদের  উপর ক্ষুব্ধ হবেন এবং আমাদের সকলকে ধ্বংস করে ফেলবেন।অনুমতি না পেয়ে মুসা মন খারাপ করে ফিরে এলেন।

আল্লাহ তার  প্রার্থনা সারা দিন দোযাকে বললেন তোমার ভাইকে  বল সে যেন  নদী,কুকুর জলাশয় ঝর্ণায় গিয়ে তারা জাদু দন্ড স্পর্শ করে তাহলে দেখবে সমস্ত পানি রক্ত হয়ে  গিয়েছে ।

তারপর মুসা আল্লাহর আদেশে অ্যারন  মিশরের সমস্ত পানীয় জলকে রক্তে রূপান্তরিত করে ফেলল। 

 অতঃপর ফেরাউন এটি দেখে  সবাইকে আদেশ দিল এবং বলল তারা যেন মাটি খুঁড়ে পানি বের করে। অন্যরা ফেরাউনের কথা মত মাটি খুঁড়ে পানি বের করা শুরু করব এবং তারা সকল কাজে পানি ব্যবহার করা শুরু করল। এ্যারনের যাদু বিদ্যা বিফল হয়ে হয়ে পড়ল এবং মুসা পুনরায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন।

আল্লাহর আর এক মোজেজা মিশরের সব ব্যাঙের মহামারি দেখা দিল।  তার পচা গন্ধে মানুষ অতিষ্ঠ অবস্থা হয়ে গেল। কেউ আর ঘরে থাকতে পারলো না।

সবাই মিলে ফেরাউনের কাছে নালিশ জানালো। ফেরাউন  নিরুপায় হয়ে মুসাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন   তুমি ব্যাঙের  মৃত্যু বন্ধ করো  আমি তোমাদেরকে মরুভূমিতে গিয়ে প্রার্থনা করার অনুমতি দিব।

মুসার এই অলৌকিক মোজেজার কারণে ব্যাঙের মৃত্যু বন্ধ হল এবং নানা অজুহাতে ইহুদিদের যাওয়ার অনুমতি দিলেন না। আবার মুছে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে, অতঃপর যার ঘটল সমস্ত মিশে দূরে শুরু হলো ঝড় প্লাবন বৃষ্টি মহামারী   তারপরও ফেরাউন অনুমতি দিল না।
এরপর আল্লাহ নির্মমস্ত্র প্রয়োগ করলেন  হঠাৎ দেখা গেল মিশরের সকল মানুষের প্রথম পুত্র সন্তান মারা গেল এবং দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেল হাহাকার। মিশুরিরা দলবদ্ধভাবে ফেরাউনের কাছে গিয়ে দাবী জানালো ইহুদিদের দেশদের করার অনুমতি না হলে তারা আরো দ্রুত সর্বনাশ হয়ে পড়বে।

এবার নিরুপায় হয়ে ফেরাউন মুসাকে ডেকে বলল  প্রার্থনা করার জন্য তোমাদেরকে আমি মরুভূমিতে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছি।  যদি তুমি মনে করো তোমাদের যা কিছু আছে গৃহপালিত পশু জীবজন্তু জিনিসপত্র যা আছে সবকিছু নিয়ে যেতে পারো।

এবার  দেশ থেকে অনুমতি পেয়ে মিসরীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে  উঠল।তারা সকলেই মুসাকে তাদের নেতা বলে স্বীকার করে নিল  মিশর ছাড়াও মাকুমনগরে বহু ইহুদী বসবাস করত সকলে তারা দলবদ্ধভাবে মুসাকে অনুসরণ করতে লাগল।


মুসা  জানতো আল্লাহর শক্তি ভয়ে ফেরাউন দেশ ত্যাগ করার অনুমতি দিলেও  কিন্তু তিনি সর্বশেষ তাদের যাত্রা পথ বেঘাত সৃষ্টি ঘটাবে। তাই তিনি সতর্ক সই পথ চলা আরম্ভ করলেন। তারা কয়েকদিন পর সকলে এসে লোহিত সাগরের দিকে তীরে এসে থামল।

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী-এদিকে ইহুদিরা মিশর ত্যাগ করতেই ফেরাউনের পরিবর্তন ঘটল  এবং চিন্তা করল তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে ক্রীতদাসে পরিণত করতে হবে অথবা তিনি ইহুদিদের বন্দি করার জন্য বিশাল এক সৈন্য বাহিনী সেই লোহিত সাগরের দিকে রওনা হল।

ফেরাউনের সৈন্যবাহিনী দেখে মিশরীরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে গেল সমস্ত ইহুদীরা কিন্তু মুসা মোটেও বিচলিত হননি। মুসা প্রার্থনায় বসলেন  এবং সেখান থেকে বাণী এলো মুসা তোমার হাতের লাঠি সমুদ্রপৃষ্ঠের মধ্যে আঘাত কর এবং সমুদ্রের ভিতর দিয়ে যাও।

মুসা তার হাতের লাঠি নীল নদের পানিতে স্পর্শ করল পানি অতঃপর দ্বিখন্ডিত হয়ে গেল তার মধ্য দিয়ে প্রসারিত হয়ে গেল প্রশস্ত রাস্তা সকলেই আগে মুসা রওনা হলেন তার পিছনে সবাই চলতে লাগলো।

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী-তারা কিছুদিন যেতে না যেতেই সৈন্যরা এসে পড়লো সমুদ্রের তীরে ইহুদিদের সমুদ্রের মাঝখানে  যাওয়ার পর  তারাও সেই পদ অনুসরণ করে পথ ধরে এগিয়ে চলা শুরু করল। সমস্ত মিশরীয়  ফেরাউনের সৈন্য  নাম দেয়া শুরু করল আল্লাহর নির্দেশেই শুনতে পেলেন মুসা  তোমার জাহাজের লাঠি আছে সেদিনই ফিরিয়ে নামিয়ে দাও।

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী- অতঃপর হাতের লাঠি নিচু করতে সমুদ্রে সকল জলরাশি একত্র হয়ে পড়ল। এবং মুহূর্তের মধ্যেই বিশাল সৈন্যবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে গেল। ইতিমধ্যে ইহুদীর নিরাপদের তীরে গিয়ে পৌঁছেছিলেন এবং পূজার সকলকে নিয়ে এগিয়ে চলে সামনে বিশাল মরুভূমি।

কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর তাদের সঞ্চিত যে সমস্ত পানি খাবার ছিল সেগুলো সব ফুরিয়ে গেল  এবং সেই মরুভূমির প্রান্তরে কোথাও পানির চিহ্ন মাত্র নেই সকলেই  তৃষ্ণার্ত  অনুভব এবং ক্ষুদার্থ  অনুভব করা শুরু করল এবং কেউ আর সামনের দিকে অগ্রসর হতে চাচ্ছিনা।

তখন মুসা বিচলিত হয়ে পড়লেন এবং  কিভাবে এসব হস্ত মানুষকে পানির তৃষ্ণা মিটাবে ।  কিছুদূর যেতে না যেতেই জায়গায় পানি পাওয়া গেল।  কিন্তু সে পানি এত দুর্গন্ধ যে পানি পান করার মত নয়।

 মুসা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন  এবং আল্লাহর সর্বশেষ নির্দেশ দিলেন  কিছু কাজের কথা ফেলে দিন দিলেন পানির মধ্যে।  সাথে সাথে সেই পানি সাধু এবং খাওয়ার উপযোগী হল।

 যে সমস্ত লোক মুসাকে দোষারোপ করেছিল তারা অনুতপ্ত হলো এবং মুসার কাছে ক্ষমা চায় সকলে মুসাকে তাদের ধর্মগুরু এবং নেতা হিসেবে স্বীকার করে নিলেন । সকলের মেনে চলতে শুরু করল তার সকল আদেশ এবং নির্দেশ

হযরত-মূসা-আঃ-এর-জীবনী-আবার কিছুদিন পর  সমস্ত খাবার ফুরিয়ে গেল  আশেপাশে কোথাও কোন জায়গায় খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষুধার জ্বালায় সকলে ক্লান্ত হয়ে পরলো  আবার তারা মুসাকে দোষারোপ করতে লাগলো।

মুসার সকলকে শান্ত হতে বললেন  এবং বললেন তোমরা কি ভুলে গেছো আমাদের রব আল্লাহর কথা । যিনি তোমাদের দেশ ত্যাগের জন্য আল্লাহ ফেরাউনকে বাধ্য করেছিল  সমুদ্রকে দ্বিখণ্ডিত করে দিয়েছি।  সৈন্যদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যআদেশ দিয়েছিলেন। তারপরও তোমরা সন্দেহ প্রকাশ করছো।

মূসার কথা শেষ হতে না হতেই কোথায় থেকে এক অসংখ্য পাখির ঝাঁক এ সে পড়ল। ইহুদীরা ইচ্ছামত পাখি বেড়ে মাংস খাওয়া শুরু করল এবং কারো মনে সংশয় থাকলো না। https://www.google.com

তাই তারা সকলেই মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে শুরু করলো তাদের  নেতা হচ্ছে মুসা সকলেই শপথ গ্রহণে জীবনে মরণে মূসার  সকল আদেশ মেনে চলবে।


সমাপনীঃ  উপরিক্ত  হযরত মুসা আঃ  এর সংক্ষিপ্ত জীবনী সম্পর্কে আমার এই কনটেনটিতে  আলোকপাত করা হলো। আশা করি সকলেই বুঝতে সক্ষম হয়েছেন।  হযরত মুসা আঃ  যিনি স্বয়ং আল্লাহর সাথে কথা বলতেন এবং সাক্ষাৎ করেছিলেন  তিনি সেই ব্যক্তি  যার অনেক অলৌকিক মোজেজা আল্লাহতালা এই পৃথিবী  মিশরীয় নগরীর  মানুষের কাছে  দেখাদিয়েছিলেন। যা পৃথিবী  কেয়ামত পর্যন্ত  সকল মুসলিম  হযরত মুসা সম্পর্কে অবগত থাকবে।  আজকের মত এখানেই শেষ করছি সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আর নিত্য নতুন তথ্য পেতে চাইলে আমার ফেসবুক পেজ ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন। সবাইকে  ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ। 

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *