শিক্ষা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন ও পুরাতন কারিকুলাম -New and old curriculum of education system of Bangladesh

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন ও পুরাতন কারিকুলাম -New and old curriculum of education system of Bangladesh

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা, আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন। আমরা জানি  সাধারণত কোন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাই  হচ্ছে ওই দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।  উন্নত শীল দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। সেই সুবাদে গত বছর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন ঘটেছে যাকে বলা হয় নতুন কারিকুলাম।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান পরিবর্তন করে নতুন কারিকুলাম চালু করে অনেকের মনেই অনেক ধরনের প্রশ্ন জাগে  যেমন: পুরাতন কারিকুলাম পরিবর্তন করা হল কেন? পুরাতন কারিকুলাম এর সঙ্গে নতুন গাড়িগুলো নামের পার্থক্য কোথায়? পুরাতন কারিকুলাম এর থেকে নতুন  কারিকুলামের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা উন্নত হবে?

এই সমস্ত প্রশ্নের সঠিক তথ্য নিয়ে আসলাম আমরা আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে। আমাদের আজকের এই আর্টিকেল মাধ্যমে আপনারা সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য জানতে পারবেন। কাজেই আর সময় নষ্ট না করে আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন মনোযোগ  সহকারে পড়ুন।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন ও পুরাতন কারিকুলাম-

পুরাতন এবং নতুন বইয়ের মধ্যে পার্থক্য

প্রথম, দ্বিতীয়, এবং সপ্তম শ্রেণিতে  ২০২৩ সালে  থেকে বাস্তবায়ন  করা হয়েছে নতুন কারিকুলাম। তার ঐ ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণীতে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা হবে। https://daliatista.com

ইতিমধ্যেই বছরের প্রথম দিন  প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত নতুন কারিকুলামের নতুন পাঠ্য বই বিতরণ করা হয়েছে। আমরা আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটিতে ষষ্ঠ শ্রেণীর গণিত বই সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বইয়ের আলোকে পুরাতন এবং নতুন কারিকুলামের বইয়ের পার্থক্য জানবো। 

ষষ্ঠ শ্রেণির গণিত বই

পার্থক্যের বিষয় পুরাতন বই নতুন বই
কাগজ ভাজের খেলা নেই আছে
বেসিক কনসেপ্ট ব্যাখ্যা আছে আছে
গল্পে গল্পে ব্যাখ্যা নেই আছে
পাজল,ম্যাজিক দিয়ে কনসেপ্ট বোঝানো নেই আছে
একক কাজ নেই আছে
দলবদ্ধ কাজ নেই আছে
অনুশীলনী আছে আছে

সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই

পার্থক্যের বিষয় পুরাতন বই নতুন বই 
নৈবিত্তিক আছে নেই
বেসিক কনসেপ্ট ব্যাখ্যা আছে আছে
অনুশীলনী আছে আছে
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর আছে নেই
দলীয় কাজ  আছে আছে
দলীয় কাদের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর, যাচাই এবং পরীক্ষণ নেই আছে

পুরাতন কারিকুলাম

শিক্ষাক্রম বা কারিকুলাম হচ্ছে একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংবিধান।যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে কিংবা সময়ের সাথে শিক্ষা গ্রহণ পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত মোট ৪ বার শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হয়েছে।

১৯৭৬,১৯৯৫ ও ২০১২  সালের পর চতুর্থ বারের মতো এবার ২০২৩ সাল থেকে নতুন শিক্ষা গ্রহণ বাস্তবায়ন করা হয়। ২০১২ সালে পরিবর্তিত  শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন একই কারিকুলাম প্রচলিত ছিল।

যে কারিকুলামটি একমুখী ও পাঠ্য বইকেন্দ্রিক হওয়ার শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনার এবং জ্ঞানের বিকাশের সুযোগ ছিল কম। পরীক্ষায় সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি থাকলেও তাদের সৃজনশীলতা বহিঃপ্রকাশ করার মত কোন উপায় ছিল না পুরনো  কারিকুলামে।

পুরানো কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের মুখস্ত বিদ্যার উপর খুবই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। যার কারণে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার কখনো বহিঃপ্রকাশ ঘটে নি। পুরাতন কারিকুলামের এই সমস্ত ত্রুটি ও দুর্বলতা কাটিয়ে তোলার জন্য নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়।

নতুন কারিকুলামের পরিবর্তন সমূহ

বাংলাদেশের নতুন কারিকুলাম চালু করা হয় ২০২৩ সাল থেকে। এই নতুন কারিকুলামের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থার পুরো কাঠামোকে নতুন করে সাজানো হয়েছে।

পাঠ্য বই থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রদানের পদ্ধতি ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও নিয়ে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন।

পুরাতন কারিকুলাম থেকে যে বিষয়গুলো পরিবর্তন করা হয়েছে তা নিম্নরূপ:

  • তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোন পরীক্ষা থাকছে না
  • বাতিল হচ্ছে সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি
  • প্রাথমিক শ্রেণীতে সবার জন্য ৮ টি বই এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ১০ টি  বই পড়তে হবে
  •  প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জে এস সি জেডিসি পরীক্ষা থাকবে না
  •  শুধু এসএসসিতে গিয়ে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা হবে
  •  একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর দুইটি পাবলিক পরীক্ষার সমন্বয়ে এবং শ্রেণী অভীক্ষার সমন্বয়ে ফলাফল হবার কথা রয়েছে

নতুন কারিকুলাম এর নতুন পাঠ্য বই

 নতুন কারিকুলামের আলোকে প্রধানকৃত বইগুলো পুরাতন পাঠ্য বই গুলোর থেকে বেশ কিছু দিক দিয়ে  আলাদা। নতুন কারিকুলামের পাঠ্য বই গুলোর বৈশিষ্ট্য হল:

  • শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশের দিক কে গুরুত্ব দিয়ে নতুন পাঠ্য বইয়ের কিছু বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা হয়েছে।
  •  নতুন পাঠ্য বইয়ের লিথনিতে পাঠদানের ভাষা সহজ করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই করার বিষয়ে বস্তুগুলো বুঝতে পারে
  •  এই পাঠ্য বইগুলো শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান কে প্রাধান্য দিয়ে ডিজাইন করা হয়। যার কারণে নতুন পাঠ্য হয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের দলগত ব্যবহারিক কাজ ও অনুশীলন যা শিক্ষার্থীদের কে দক্ষতা ভিত্তিক বিকাশের জন্য সাহায্য করবে
  • নতুন কারিকুলাম এর পাঠ্য বইগুলোতে পড়াশোনাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রচুর ছবি।এছাড়াও বইয়ের বিন্যাসে ও অলংকরণীয় এনেছে নতুন পরিবর্তন।https://www.google.com
  • সবশেষে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বর্তমানে সময়ে উপযোগী সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক বিষয়ের পাশাপাশি জীবন মুখে দক্ষতা অর্জনের শিক্ষার্থীদের সাহায্য করার লক্ষ্যে নতুন কারী গোলামের পাঠ্য বইগুলো প্রদান করা হয়েছে। 

শেষ কথা,

বাংলাদেশের নতুন কারিকুলাম প্রবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় এসেছে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ পেয়েছে। নতুন কারিকুলাম মানসম্মত এবং বিশ্বের যেকোনো দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী।

আশা করি বন্ধুরা আপনারা সকলেই আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে। আপনাদের যদি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনারা আপনাদের পরিচিত মানুষকে আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি শেয়ার করবেন এবং আমাদের পরবর্তী আপডেট তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।

admin

মোঃ শফিকুল ইসলাম লেবু (Lecturer) ডালিয়া, ডিমলা, নীলফামারী। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কন্টেইন ও ব্লগিং পোষ্ট করে থাকি, এ ব্যাপারে পাঠকগন মতামত দিলে - যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *